শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০২১ ১৭:৩৬
আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০২১ ২০:৩৬
প্রিন্ট করুন printer

পিপলস লিজিংয়ের ১২২ ঋণ খেলাপিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক

পিপলস লিজিংয়ের ১২২ ঋণ খেলাপিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
Google News

পিপলস লিজিংয়ের ১২২ ঋণ খেলাপিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ গত ৯ মার্চ এ আদেশ দেয়। তবে আদেশের বিষয়টি আজ সোমবার জানা যায়।

আদালতের নির্দেশের পরও এই ১২২ ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা সত্তা নির্ধারিত তারিখে হাইকোর্টের হাজির হননি। আদালত বলেছেন, পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

আর পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডের (পিএলএফএসএল) সাময়িক অবাসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামানকে ওই ১২২ ব্যক্তি বা সত্তার বর্তমান ঠিকানা সরবরাহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বলা হয়েছে তাকে।  

এর আগে গত জানুয়ারিতে লিজিং কোম্পানির অর্থ লোপাটকারী বিদেশে পলাতক পিকে হালদার সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া ২৮০ জনকে তলব করেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।

সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ নেই বললেই চলে। ফলে ঋণ পরিশোধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আর এর প্রধান কারিগর পিকে হালদার।

২৫ অক্টোবর তার দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের জন্য হাইকোর্ট থেকে আদেশ জারির খবর পেয়ে তিনি পিছুটান দেন। এরপর ইন্টারপোলের সহায়তায় পিকে হালদারকে ধরে দেশে আনতে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানার পর পিকে হালদারকে গ্রেফতার করতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে।

 বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

এই বিভাগের আরও খবর