শিরোনাম
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৭:২৬

২৮ শতাংশ মনোনয়নপত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীদের

অনলাইন ডেস্ক

২৮ শতাংশ মনোনয়নপত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীদের

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮ শতাংশ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অবশিষ্ট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ২৯টি দল থেকে।

আজ শনিবার এ তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল গত ৩০ নভেম্বর।

গত বৃহস্পতিবার মোট দুই হাজার ৭৪১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। এছাড়া ভোটে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বলেছিল ৩০। তবে দুদিন পরে জানাল মোট ২৯টি দল ও স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে দুই হাজার ৭১২টি।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম এক সংশোধনীতে জানিয়েছেন, ২৯টি দল থেকে এক হাজার ৯৬৫টি এবং স্বতন্ত্র থেকে ৭৪৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রায় এক চতুর্থাংশের বেশি (২৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ) মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে স্বতন্ত্র থেকে।

অনেকে বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি বিরাট অংশ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী। কোনো কোনো আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও একাধিক নেতা স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যেও অনেকে একাধিক আসনে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাছাইয়ের সময় একটি মনোনয়নপত্রই গ্রহণ করবেন।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে তবে ৫টি নির্বাচনী এলাকায় (মেহেরপুর-১, জামালপুর-৫, ময়মনসিংহ-৩, মানিকগঞ্জ-২, চট্টগ্রাম-৪) মনোনয়ন দাখিলকারী দলীয় মনোনয়ন দিতে পারেননি।

এছাড়া ঝালকাঠি-১ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুজনকে দলীয় মনোনয়ন দিলেও পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি দিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপ নামক রাজনৈতিক দলের একটি মনোনয়ন দাখিল হলেও বাস্তবে এই নামের কোনো নিবন্ধন নাই।

মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন শেষে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীর সংখ্যা ২৭৪১ উল্লেখ করলেও কয়েকটি আসনে একজন দাখিলকারীর একাধিক মনোনয়নপত্র থাকায় যাচাই বাছাইয়ে ২৭১২জন দাখিলকারীর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে বগুড়া-৭ আসনে ২৫টি।

জাতীয় পার্টি-জেপি ২০টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ছয়টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩৪ টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০৪টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১২টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ছয়টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩টি, বিকল্পধারা ১৪টি, জাতীয় পার্টি ৩০৪টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ৯১টি, জাকের পার্টি ২১৮টি, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন ৪৭টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১৪টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ দুটি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৪২টি, গণফোরাম নয়টি, গণফ্রন্ট ২৫টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১৩টি, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩৯টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১৮টি, ইসলামী ঐক্যজোট ৪৫টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৭টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল ৫টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৭৪টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ ৫৫টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১১৬টি, তৃণমূল বিএনপি ১৫১টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ৪৯টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এ নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, অনেকেই দল থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও দলীয় মনোনয়নকারীর প্রত্যায়ন জমা দেননি। আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে এমন হয়েছে কয়েকটি, অন্য দলেরও আছে। এমন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বাতিল হয়ে যাবে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রবিবার)।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর