Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ০১:৩৬

কুড়াল দিয়ে সিরাজুল একাই হত্যা করেন দুজনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

কুড়াল দিয়ে সিরাজুল একাই হত্যা করেন দুজনকে

যশোরের বাঘারপাড়ায় আবদুল বারী ফিলিং স্টেশনে জোড়া খুনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ওই ফিলিং স্টেশনের নজেলম্যান সিরাজুল ইসলাম। গতকাল যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাবীন নিম্মীর আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সিরাজুল বলেছেন, একটি কুড়াল দিয়ে তিনি একাই দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তিনি বলেন, ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে তেল চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আদালত সিরাজুলকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক জানান, সিরাজুল প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডে নিজেসহ চারজনের জড়িত থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি স্বীকার করেন যে জোড়া হত্যাকাণ্ড তিনি একাই ঘটিয়েছেন। বিচারকের সামনেও তিনি একই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সিরাজুল বলেছেন, পাম্পের তেল চুরির ৮০ শতাংশ টাকা নিতেন ম্যানেজার ওবায়দুর। সম্প্রতি ম্যানেজার একটি বাড়িও নির্মাণ করেন। ওই বাড়ি দেখে আসার পর থেকেই তার মনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে এবং একপর্যায়ে ম্যানেজারকে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেছেন, প্রথমে তিনি ম্যানেজারকে হত্যা করেন। এ সময় সেখানে ঘুমিয়ে থাকা অপু টের পাওয়ায় তাকেও হত্যা করে পালিয়ে যান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল ইসলাম বলেন, জোড়া খুনে আটক অপর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডে তারা জড়িত কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, রবিবার রাতে যশোর-নড়াইল সড়কের বাঘারপাড়া উপজেলার চাড়াভিটা বাজারে আবদুল বারী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ওবায়দুর, কলেজছাত্র অপুসহ তিনজন ঘুমিয়েছিলেন। ওই রাতে খুন হন ওবায়দুর রহমান ও কলেজছাত্র লিজন আহমেদ অপু। হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যান ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী সিরাজুল। সোমবার গভীর রাতে সাতক্ষীরার কলোরোয়ার হিজলদী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।


আপনার মন্তব্য