Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : বুধবার, ১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মে, ২০১৯ ০১:৪৫

রাঘব-বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাই কোর্টের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঘব-বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাই কোর্টের ক্ষোভ

খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্ট বলেছে, দেশে বড় বড় রাঘব-বোয়াল আছে যারা ব্যাংক লুট করে ফেলল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা দেখছি ব্যবস্থা না নিয়ে আরও বেশি করে ঋণ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা কেন? এ-সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ মন্তব্য করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলে, সরকারের পক্ষ থেকে বার বার সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো তা কার্যকর করছে না। ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কমিশন গঠন এবং অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপিদের তালিকা এক মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের জন্য গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ ছয় বিবাদীকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। কিন্তু ওই তালিকা দাখিল ও কমিশন গঠন না করে খেলাপি মুক্ত থাকার সময় তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বৃদ্ধি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে হাই কোর্টে আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি বলেন, এ ধরনের সময়সীমা বাড়ানোর ফলে ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামানের উদ্দেশে আদালত বলে, সিআইবি রিপোর্টে যখন নাম আসছে না তখন ঋণখেলাপিরা অন্য ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। ঋণখেলাপিদের তালিকা চেয়েছি সেটা যাতে দাখিল করতে না হয় সেজন্য কি এই সময়সীমা বাড়ানো? ঋণখেলাপিদের তালিকা যাতে ছোট থাকে সেজন্যই এই পদক্ষেপ। ব্যাংকের আইনজীবী বলেন, এটা সত্য নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপিদের তালিকা চেয়েছে।

আদালত বলেছে, ৩০ দিনের মধ্যে আমরা কমিশন গঠন করতে বলেছিলাম। তার কী অবস্থা? আইনজীবী বলেন, এটা এখনো আদেশ পাইনি। আদালত বলে, এভাবে উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করবেন? আমরা যদি কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখি সেটা কি শোভনীয় হবে? আপনি তো আদালতের আদেশ ঠিকভাবে পড়েননি। তাহলে কীভাবে ক্লায়েন্ট ডিফেন্ড করবেন। এরপরই কমিশন গঠনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ব্যাংকের আইনজীবীকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য