শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৯

দূষণকারী দেশের শীর্ষে যাবে বাংলাদেশ

---------- সুলতানা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দূষণকারী দেশের শীর্ষে যাবে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় থাকলেও ক্রমশ বাংলাদেশ দূষণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিবেশ দূষণকারী দেশের শীর্ষে দেখতে চাই না। যেভাবে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শুরু করে কক্সবাজারে গুচ্ছ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ দ্রুত দূষণকারী দেশের তালিকায় নাম লেখাবে। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প-গুচ্ছ স্থাপনের পরিকল্পনা : ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সুলতানা কামাল বলেন, ধনী দেশগুলোর দূষণের কারণে যে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, বাংলাদেশ তার ভুক্তভোগী হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।

কিন্তু যেভাবে সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শুরু করে কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গুচ্ছ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ দ্রুত দূষণকারী দেশের তালিকায় নাম লেখাবে। এ ধরনের আচরণ সংবিধানে পরিবেশ সুরক্ষার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার লঙ্ঘন। সুলতানা কামাল বলেন, যে সম্পদগুলো রক্ষা করার জন্য সাধারণ নাগরিক থেকে সরকারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা, সেই সম্পদ ধ্বংস করার জন্য সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। কক্সবাজার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কক্সবাজারকে বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতির জন্য ক্যাম্পেইন করেছি। এখন আমরাই আবার কক্সবাজারকে ধ্বংস করছি। কক্সবাজার যদি না বাঁচে তাহলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব, আমাদের আর্থসামাজিক বিপর্যয় ঘটবে। সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাপার নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক শারমিন মুরশিদ, বাপার কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, মহেশখালী শাখার সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ বক্তব্য দেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের শিল্প স্থাপনায় সর্বপ্রথম পরিবেশগত সমীক্ষা করা প্রয়োজন। মাতারবাড়ী প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে জাইকা ও পরিবেশগত সমীক্ষাও করেছে তারাই। তারা নেতিবাচক দিকটি জানলেও সেটা প্রকাশ করবে না। বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তা দেশের ও পরিবেশের ক্ষতি করে নয়। সংবাদ সম্মেলনে ‘বিশ্বের বৃহত্তম গুচ্ছ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার বিপন্ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলা শহর ও সমুদ্রসৈকতের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৭টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলো নির্মিত হলে সেখান থেকে ৭ কোটি ২০ লাখ টন কার্বনডাই অক্সাইড, কয়েক হাজার টন ছাই ও ৫ হাজার ৮০২ কেজি পারদ নির্গত হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর