শিরোনাম
সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

সৈয়দ আশরাফের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৈয়দ আশরাফের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। আজ সকাল ৯টায় সৈয়দ আশরাফ স্মৃতি পরিষদ বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।

সৈয়দ আশরাফ বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ভারতের দেরাদুন  থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ গ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ১৯৭০ সালে তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ  জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দ আশরাফ এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগের সংকটকালে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাসহ কারাবন্দি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

সৈয়দ আশরাফের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাস জীবনে যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯৬ সালে সৈয়দ আশরাফ দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সৈয়দ আশরাফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন সৈয়দ আশরাফ। তবে শপথ নেওয়ার আগেই মারা যান তিনি। সৈয়দ আশরাফ এক কন্যার জনক। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

সৈয়দ আশরাফ ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ খবর