Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৯ ১৭:১৮

মমতাময়ী শেখ হাসিনা

আরিফুর রহমান দোলন

মমতাময়ী শেখ হাসিনা

রুবানা হককে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। জানি না। শুধু জানতাম প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী। সৃষ্টিশীল আনিস ভাইয়ের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা ছিল সব সময়। সেই আনিস ভাইয়ের স্ত্রী রুবানা হক তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এক ধরনের আগ্রহ জন্মায়। কেমন কথা বলেন তিনি?

ঈদের ছুটিতে সেই সুযোগ হয়। ঢাকা টাইমস অফিসে বসে জমে থাকা কিছু কাজ সারার পরিকল্পনা করছিলাম। ফাঁকে ফাঁকে টিভির রিমোট নিয়ে নাড়াচাড়া। বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেল খুলতেই ভেসে ওঠে রুবানা হকের মুখ। বিশেষ সাক্ষাৎকার চলছে বিজিএমইএ সভাপতির। আগ্রহ ভরে দেখতে থাকি। বলছেন, ‘আনিস যখন হাসপাতালে মৃত্যুর কাছাকাছি, দুঃসহ সময় পার করছি আমি। আর ওই সময়ে প্রত্যেকদিন ফোন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খবর নিতেন আনিসের, আমার। সাহস দিতেন। শক্তি যোগাতেন। আমি অবাক হতাম। বিস্মিত হতাম। কী করে সম্ভব’! 

রুবানা হক কথা বলছেন, আর তাঁর চোখে-মুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকদিন রীতিমতো নিয়ম করে আমার মতো সাধারণ একজন রুবানা হককে ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, সত্যিই এটি অতুলনীয়। কতটা মমতাময়ী হলে এটা করা যায়’। একজন নেতা কতখানি দায়িত্বশীল হলে এটা করতে পারেন। রুবানা হকই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। আচ্ছা, শেখ হাসিনা এত সময় কোথায় পান? এত কাজ কিভাবে করেন? এই প্রশ্ন তো আমারও। আমার মতো আরও অনেকের। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যতবার রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে যান, দেশে ফিরে নিয়ম করে দুটি কাজ করেন।

এক. সংবাদ সম্মেলন করে রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। দুই. রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে সফরের পুরো বিষয়ে অবহিত করেন। এর ব্যতিক্রম হয়নি কখনো।

অথচ বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এর ধারের কাছ দিয়েও ঘেঁষেননি। সংবাদ সম্মেলন তো দূরে থাক, রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতেও ঘোর আপত্তি ছিল। রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি, শিষ্টাচার মেনে চলাই শুধু নয়, সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতুলনীয়।

অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করে বেগম জিয়া জঘন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেন। আর জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা তাঁকে রাষ্ট্রপতির সম্মানের পাশাপাশি পিতৃতুল্য ভক্তিও করেছেন। যা সর্বমহলে সবসময় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কারো মা, খালা, ফুফু, কিংবা দাদি, নানি, আপা। সেখানে খালেদা জিয়া শুধুই ম্যাডাম। শেখ হাসিনা পরম মমতায় নিজ হাতে একজন পথশিশুর মুখে খাবার তুলে দেন- এ দৃশ্য বেগম জিয়ার কাছে কেবলই কল্পনা!

আততায়ীর গুলিতে নিহত কুষ্টিয়ার নেতা মারফত আলীর সন্তানদের মতো হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশুনার খরচের ব্যবস্থা শেখ হাসিনা নীরবে, নিভৃতে করেন, করে চলেছেন। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে এতিম হয়ে যাওয়া কন্যাদের মতো শত শত এতিম কন্যার বিয়ের ব্যবস্থাও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা করেন পরম মমতায়। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে।

বছরের পর বছর ধরে এভাবে মানবিক কাজগুলো অনেকটা প্রচারের আলোর বাইরে গিয়েই করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এই যে যেমন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যখন লন্ডনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তখন রোজ ফোন করে রুবানা হকের খোঁজ-খবর নেওয়া। এটা কি আমরা কেউ জানতাম? যদি না বেসরকারি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কথা প্রসঙ্গে বিষয়টি উপস্থাপন না করতেন।

শেখ হাসিনাই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক, যিনি উড়োজাহাজে উঠে শুধু নিজের আসনে বসে থাকেন না। তাঁর সফরসঙ্গীরা যেমন বিষয়টি জানেন, তেমনি জানেন একই উড়োজাহাজে ভ্রমণকারী অন্য যাত্রীরাও। নিজের আসন থেকে উঠে বিজনেস ক্লাস থেকে শুরু করে ইকোনমি ক্লাসের সকল যাত্রীদের খোঁজ সবসময় পরম মমতায় নেওয়া শেখ হাসিনার এক ধরনের রুটিন কাজ। শেখ হাসিনার এমন অসংখ্য গুণের কথা আমরা জানি। কিন্তু টেলিভিশনের পর্দায় নতুন করে যখন বিজিএমইএ সভাপতির মুখে কথাগুলো উচ্চারিত হচ্ছিল, তখন নিজের অজান্তেই দেশের শীর্ষ দুই নেত্রীর তুলনা করতে ইচ্ছা হচ্ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা যে অতুলনীয়। বিশেষত, কি তুলনা করব তাঁকে নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো নিয়মিত সন্তান, নাতি-নাতনিদের জন্য রান্না করেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়মিত সাক্ষাৎ দেন, মুঠোফোনে কথা বলেন। এমনকি তাঁকে মুঠোফোনে মেসেজ দেওয়া যায় এবং তিনি তার উত্তরও দেন। সারা দেশের অসহায় কর্মীদের কে কি অবস্থায় আছে, কার চিকিৎসার সমস্যা, কে বাস্তুহীন এখনো ব্যক্তিগতভাবে তা সমাধানে সচেষ্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

আর বেগম জিয়া? তৃণমূলের নেতারা তো দূরের কথা, তিনি যখন বিরোধী নেত্রী, তখনো তার সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতারা দেখা করতে, কথা বলতে পারতেন না। শেখ হাসিনা কর্মী বান্ধব, সংগঠক বান্ধব, রাষ্ট্র বান্ধব।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘মরলে মরব, কিন্তু বিমানেই চড়ব।’ এতো পা থেকে মাথা পর্যন্ত একজন দেশপ্রেমিকের পক্ষেই বলা সম্ভব। এমন রাষ্ট্রনায়কই তো আমরা চাই। জয়তু শেখ হাসিনা।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা টাইমস, ঢাকা টাইমস২৪ ডটকম ও সাপ্তাহিক এই সময়।

বিডি-প্রতিদিন/১১ জুন, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য