শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ মে, ২০১৯ ১৫:০৫
আপডেট : ৩০ মে, ২০১৯ ১৫:১৮
প্রিন্ট করুন printer

সত্যদর্শন

শুভাশীষ রায়

সত্যদর্শন
প্রতীকী ছবি

সত্যের শুরু সেই থেকে, যেথা মিথ্যার ঘটে যবনিকাপাত, 
সেখানেই আমি আশীষপুষ্ট তোমার যেখানে অভিসম্পাত। 
আঁধার হাতড়ে আমি খুঁজে ফিরি ঝকঝকে এক আলোকবর্ত,
বন্ধে বন্দী না হোক সন্ধি, আপন মুক্তি হবে 
নিঃশর্ত।

আমার দৃষ্টি ভবিতব্যতে, তাই করে চলি ভূতের 
শ্রাদ্ধ;
মিথ্যারে করি পদানত তাই, সত্য যে মোর 
পরমারাধ্য।

সভ্যাসভ্য মানবে পূর্ণ সভ্যতা- গড়া ভূগোল বিশ্ব,
সুখের সখ্যে সকলে ভক্ত, আমি যে দুখের পরম 
শিষ্য।

ধনশালী যারা আরও ধনী বনে নিঃস্বের যত কাড়িয়া অর্থ।
তুমি জপে যাও স্বর্গ লভিতে, আমি নিয়ে রই মাটির মর্ত্য।
মানবের লীলা অবলীলা ভরে দেখে বিচলিত স্বয়ং স্রষ্টা,
সত্য প্রলাপে সদালাপ খুঁজি, মিথ্যের ভারে ভুবন ভ্রষ্টা!

 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৪৬
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:০৭
প্রিন্ট করুন printer

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক খাতের ব্যাপক বিস্তৃতির উপায়

জামিল আফজাল

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক খাতের ব্যাপক বিস্তৃতির উপায়
ফাইল ছবি

ফ্রি ডিজিটাল বিটুবি প্ল্যাটফর্ম সেরাই সরবরাহকারী ও উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে সহযোগিতা করছে, তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করে তুলছে।

গ্রীক পুরাণে অ্যাটলাসকে বলা হয়েছিল সমস্ত পৃথিবীর ভার একাই বহন করতে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে অনেকটা গ্রীক পুরাণের সেই কাল্পনিক চরিত্র অ্যাটলাসের ভূমিকাই যেন পালন করছে তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের রপ্তানি খাতের শতকরা ৮০ ভাগ জুড়ে আছে এই শিল্পটি এবং আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারের ৬% শেয়ার দখলে আছে তার। তবে কাল্পনিক চরিত্র অ্যাটলাস সম্প্রতি প্রচণ্ড এক নাড়া খেয়েছে মহামারি কোভিড-১৯ এর ধাক্কায়। সেই ধাক্কা লেগেছে পোশাক খাতের বাজারেও। তাই এই শিল্প বাঁচানোর উপায়ই এখন ভাবনার বিষয়। আর সম্ভাবনাময় একমাত্র হাতিয়ার এখন প্রযুক্তি। পোশাক খাতের আধুনিকায়ন শুধু যে আন্তর্জাতিক লেনদেনেই সাহায্য করবে তা নয়, বরং এতে করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর সাথে যুক্ত হওয়ার এক অপার সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে যাবে, যেটা নানান কারণে এর আগে হওয়া উচিত থাকলেও বাস্তবে তা আর হয়ে উঠে নি। সেই সাথে বাড়বে আন্তর্জাতিক বাজারের বড় জায়গা দখলে নেওয়ার সম্ভাবনাও।

কোভিড-১৯ প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে আগে গতানুগতিক পদ্ধতির উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ছিল, তারাই এখন প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে দ্রুততার সাথে। অনলাইনে শক্তিশালী উপস্থিতি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা একইসাথে ব্যবসায়ে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। গ্রাহকরা কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি ঝামেলামুক্ত ও সহজ পন্থা প্রত্যাশা করে।  

প্রযুক্তি কীভাবে পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে পারে?  

এইসএসবিসি-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেরাই বাংলাশের পোশাক খাতের অগ্রগতিতে সহযোগী হতে পারে। প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতা ও ব্র্যান্ডের সাথে স্থানীয় সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের নতুন সম্পর্ক তৈরি, পণ্য প্রদর্শনী এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করছে। এই প্ল্যাটফর্মটিতে বিনা খরচে যুক্ত হওয়া যাবে। বাংলাদেশের এনভয় টেক্সটাইল, ডিবিএল গ্রুপ ও ভিয়েলাটেক্স-এর মতো স্বনামধন্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের মোট ২৫০০-এরও বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ও ক্রেতা ইতোমধ্যে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে।

সেরাই প্ল্যাটফর্মে উৎপাদকরা খুব সহজেই নিজেদের অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে এবং ছবি ও ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করতে পারবে। অনলাইনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানো কিংবা কাপড়ের থ্রিডি ছবি প্রদর্শনের মতো প্রযুক্তি সুবিধা নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রাপ্তির মতো অর্জনগুলোও তুলে ধরতে পারবে। তাছাড়া, এখানে প্রোফাইল পাবলিক করে দেওয়ারও সুযোগ আছে, পাবলিক করলে কারও সেরাই অ্যাকাউন্ট না থাকলেও প্রোফাইলটি দেখতে পারবে। সেরাই-এ প্রাসঙ্গিক পণ্য ও পণ্যের উপাদানের ধরনের মতো কী ওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রোফাইল ট্যাগ করা যা। ট্যাগ করলে যেসব আন্তর্জাতিক ক্রেতা বা ব্র্যান্ড এমন পণ্য খুজছে তারা সহজেই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি খুঁজে পাবে। 

এসব ফিচার ব্যবহার করার মাধ্যমে সেরাই-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সরবরাহকারী ও উৎপাদকদের একটি শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রচারে সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে মূলত বাজারজাতকরণ ও কার্যক্রম পরিচালনার খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে, তবে বাড়ছে দক্ষতা ও মুনাফা। এখান থেকে সাশ্রয়কৃত অর্থ প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন উদ্ভাবন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করতে পারে। সেরাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা সংবাদ ও নিবন্ধ আকারে তুলে ধরে, যাতে করে তার সদস্যরা আন্তর্জাতিক তৈরি পোশাক খাত সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকতে পারে।

বাংলাদেশের অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানই এখন ডিজিটাল হওয়ার প্রতি আগ্রহী হলেও তার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সেরাই বাংলাদেশের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ফ্রি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি সেবা দিচ্ছে। সেরাই-এর এই সেবা নিতে আগ্রহী যেকোন টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার এখানে সাইন আপ করতে পারেন অথবা নিচের কিউআর কোডটি স্ক্যান করে নিতে পারেন। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:১৯
প্রিন্ট করুন printer

রক্ত ঝরা ঘামে অর্জিত অর্থের নাম প্রবাসী রেমিট্যান্স

মঈন উদ্দিন সরকার সুমন

রক্ত ঝরা ঘামে অর্জিত অর্থের নাম প্রবাসী রেমিট্যান্স

করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবস্থা যুদ্ধ পরবর্তী একটি বিধ্বস্ত দেশের অবস্থার চেয়ে কম নয়। এই মহামারির কারণে বিশ্বের অনেক দেশের বর্তমানে আর্থিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। এই মহামারির যুদ্ধে আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের দিকে। 

তথ্যমতে, ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ৩ বিলয়ন বা ৪ হাজার ১০৩ কোটি ডলার। গত বছরে ৪ মাসের ব্যবধানে ৮ বার নতুন মাইলফলক অতিক্রম করলো রিজার্ভ। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে এই রিজার্ভ দিয়ে ১০ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। মূলত রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। এই অর্জন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন ঘটেছে, তেমনি তাঁদের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবার মাথা উচু করে বেঁচে আছে। 
অতচ এখনো অবসান হয়নি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দুর্ভোগ ও বঞ্চনার।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের অধিকার সংরক্ষণসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  এই নির্দেশ কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে পালন করলেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দুর্ভোগ ও বঞ্চনা কিছুটা হলেও অবসান হবে। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে গর্বিত এই সংকটে অতি ক্ষুদ্র একজন হলেও কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছি। 

লেখক: সংবাদ কর্মী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৭:৩৫
প্রিন্ট করুন printer

একটি জনবান্ধব নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর : নার্সদের প্রত্যাশা

ইসরাইল আলী সাদেক

একটি জনবান্ধব নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর : নার্সদের প্রত্যাশা
ইসরাইল আলী সাদেক

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত একটি অধিদপ্তর হচ্ছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। দুর্নীতি ও অনিয়মের আঁতুরঘর হয়ে উঠেছিল এই অধিদপ্তর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার বাস্তবায়ন ও নার্সিং সেক্টরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগার নেপথ্যের মূলে প্রধান ভূমিকা রাখছে বর্তমান নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগে বীরদর্পে কাজ করে যাচ্ছেন অধিদপ্তরের বর্তমান দায়িত্বশীলরা। মহাপরিচালক থেকে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও নার্সিং কর্মকর্তা সবাই মিলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন এক জনবান্ধব নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। তাই বদলে যাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস! এ যেন ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া নতুন এক অধিদপ্তর।

নার্সিং অধিদপ্তরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় হাল ধরেছেন বর্তমান মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার। ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে তিনি যোগদান করেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার আগে এই অধিদপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন দক্ষ মহাপরিচালক তন্দ্রা সিকদার ও আলম আরা বেগম। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজাতে তারাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। 

পরিচালকের তিনটি পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করছেন জনাব আব্দুল হাই পি.এ.এ। তিনি এর আগে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ প্রশাসক পুরস্কার (এডমিন এওয়ার্ড) প্রাপ্ত হন।
 
নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে এক সময় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে বারবার মহাপরিচালক বদলি ও পদায়ন হচ্ছিল। কর্মকর্তাদের অনাস্থার জায়গায় পরিণত হয় এ অধিদপ্তর। এই অবস্থায় ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) পদে যোগদান করেন আবদুল হাই পি.এ.এ। তিনি কিছুদিন মহাপরিচালকেরও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পরিচালক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) এর পাশাপাশি পরিচালক প্রশাসনেরও দায়িত্ব পালন করছেন। 

পরিচালক প্রশাসনের মূল দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আরো একজন কর্মঠ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব শোভা শাহানাজ। একটি শক্ত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তার অনুপস্থিতিতে পরিচালক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) আব্দুল হাই পিএএ পরিচালক (প্রশাসনের) দায়িত্ব পালন করেন।

পরিচালক (অর্থ) এর দায়িত্ব পালন করছেন জনাব শিরিন আখতার। তিনিও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি দায়িত্বে আসার পর থেকে মাঠ পর্যায়ে অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোন অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। 

এই কৃতি প্রশাসকদের হাত ধরেই নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর চলছে দুর্বার গতিতে। বলা যায়, উন্নয়নের মহাসড়কে এখন নার্সিং অধিদপ্তর। এই দক্ষ প্রশাসকদের হাত ধরেই উন্নতি ও অগ্রগতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় অতিক্রম করছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর।

এই দক্ষ ও নার্সবান্ধব কর্মকর্তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব হাতে নিয়েই শুরু করেন জরাজীর্ণ ও ঘুণে ধরা অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর কাজ। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে শুরু করেন অভ্যন্তরীণ সংস্কার। প্রায় সকল ক্ষেত্রে শতভাগ সফলও হন তারা। নার্সিং এর উন্নয়নে এই স্বল্প সময়ে তাদের গৃহীত নিন্মোক্ত পদক্ষেপসমূহ নার্সিং পেশার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেই চলছে। 

১৯৯০ সাল ও তার পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ : বর্তমান মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার অধিদপ্তরের দায়িত্ব নেয়ার পরই সম্মুখীন হন বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর। অধিদপ্তরের কাজ করতে গিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার নিজেই কোভিড আক্রান্ত হন। এছাড়া সেবা দিতে গিয়ে গেল এক বছরে সারাদেশে অসংখ্য নার্সিং কর্মকর্তা কোভিড আক্রান্ত হন। মারা যান কয়েকজন। কোভিড আক্রান্ত নার্সিং কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও সুচিকিৎসার জন্য জনাব সিদ্দিকা আক্তার নানা উদ্যোগ নেন। মাঠ পর্যায়ের নার্সিং কর্মকর্তাদের সাথে তিনি নিজে ফোনে যোগাযোগ রাখেন। তার এই আন্তরিকতা ও মমতায় অসুস্থ নার্সিং কর্মকর্তারা মনোবল ফিরে পান। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে দায়িত্বরত নার্সিং কর্মকর্তাদের আবাসন (হোটেল) ও খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা করে দেন তিনি। 

এদিকে, দায়িত্ব হাতে নেয়ার পর সিদ্দিকা আক্তারসহ অধিদপ্তরের বর্তমান পরিচালকরা দেখতে পেলেন  ১৯৯০ সাল ও তার পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তার চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। এদের অনেকেরই অবসরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, কিন্তু তাদের চাকরি স্থায়ী হয়নি। তাই প্রথম কাজ হিসেবে তারা হাতে নিলেন চাকরী স্থায়ীকরণের উদ্যোগ। তাদের আন্তরিকতায় দীর্ঘদিন থেকে আটকে থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক নার্সিং কর্মকর্তার চাকরি স্থায়ী হয়েছে। 

২০১৩ সালের ৪ হাজার নার্সের এডহক নিয়োগের নিয়মিতকরণের কাজ : দীর্ঘ সময়ের একটি অমীমাংসিত ইস্যু এডহক নিয়মিতকরণ। ২০১৩ সাল থেকে ৪ হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান, কিন্তু তা শেষ হচ্ছিল না। ধাপে ধাপে অল্প অল্প করে যেন কচ্ছপের গতিতে চলছিল এ কাজ। এ দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১২০০ নার্সিং কর্মকর্তা নিয়োগ ছাড়া আর কারও নিয়োগ নিয়মতকরণ হয়নি। বর্তমান মহাপরিচালক ও পরিচালকদের আন্তরিকতায় অবশিষ্ট ২৮০০ নার্সিং কর্মকর্তার এডহক নিয়োগ স্থায়ীকরণ হয়েছে। ২০১৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বপ্রথম সিলেট থেকে একজন নার্সিং কর্মকর্তার চাকরি স্থায়ী হয়েছে। বাকিদেরও চাকরি দ্রুত স্থায়ী হওয়ার পথে। 

শিক্ষক নিয়োগবিধি : দীর্ঘদিন থেকে নিয়ম-নীতি ছাড়াই চলছিল নার্সিংয়ের মতো স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বপূর্ণ এ পেশার মূল চালিকা শক্তি নার্স তৈরির প্রধান কারিগর নার্সিং শিক্ষক নিয়োগ। গত ১৪ জুলাই ২০২০ তারিখে শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য নীতিমালা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণয়ন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় প্রার্থীগণের যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং যোগ্যতমদের সরাসরি মন্ত্রণালয়ের ও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পরীক্ষা নিয়ে নার্সিং শিক্ষক হিসেবে মনোনয়নের কার্যক্রম প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এখন থেকে নার্সিং ইন্সটিটিউট ও কলেজসমূহে দক্ষতা সম্পন্ন ও অধিক যোগ্য শিক্ষকগণের পদায়ন হবে। অনেক বাধা সত্ত্বে নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার ও পরিচালক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) আবদুল হাই পি.এ.এ এই কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছেন। তাদের এই কাজ প্রশংসার দাবি রাখে। 

নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম : ২০১৬ সালে নার্স নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম চূড়ান্ত করা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ নার্সিং কর্মকর্তাদের মনে অনেক সন্দেহ ছিল। আশার কথা সাধারণ নার্সিং কর্মকর্তাদের চাহিদার প্রতিফলন বাস্তবায়ন করতে নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। কিছুদিন আগে নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম পাশ হয়ে গেছে। এখন শুধু ঘোষণার পালা। এর ফলে আশা করি নার্সিংয়ে অনেক নতুন পদ পদবী সৃষ্টি এবং পদোন্নতির অনেক সুযোগ থাকবে এ নিয়োগ বিধি ও অর্গানোগ্রামে।

সরকারি নার্সিং কলেজে এমএসসি নার্সিং চালু এবং এমএসসি নার্সিং এর আসন বৃদ্ধি : দেশে মাত্র একটি সরকারি নার্সিং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমএসসি (নার্সিং) কোর্স চলমান ছিল এবং আসন সংখ্যা ছিল খুবই কম। মাত্র ৬০টি আসনের মারপ্যাঁচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছিল। গত ২০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে পৃথক আদেশের মাধ্যমে কলেজ অব নার্সিংয়ে ১০টি বিষয়ে ১৫০ জন নার্সের এমএসসি কোর্স চালুর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়। তাছাড়া জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষনা প্রতিষ্ঠানে ৬টি বিষয়ে ১০টি করে আসন বৃদ্ধি করা হয়। যা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব সিদ্দিকা আক্তার ও পরিচালক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) জনাব আবদুল হাই পিএএ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফল। এর মাধ্যমে নার্সদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও একধাপ অগ্রসর হলো। 

শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব স্বতন্ত্র নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় : বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব স্বতন্ত্র নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন দেশের নার্সিং কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। পরিস্থিতির আলোকে বুঝা যাচ্ছে এই দাবি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার ও পরিচালক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষন) আব্দুল হাই পি.এ.এ নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের এ প্রচেষ্ঠা ইনশাল্লাহ আলোর মুখ দেখবে। গত ১৮ ডিসেম্বর কলেজ অব নার্সিংয়ের এক সেমিনারে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর সকল সরকারি নার্সিং কলেজে এমএসসি নার্সিং কোর্স বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। 

বদলি নীতিমালা : অধিদপ্তর তৈরি থেকে সাধারণ নার্সের একটাই সমস্যা বদলি। রাজশাহী থেকে সিলেটে পদায়ন বা বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম বা তেতুঁলিয়া থেকে সুনামগঞ্জ বা খুলনা থেকে নেত্রকোনা এমনকি নিজ বাড়ি থেকে এক একজনের ৫০০-৬০০ কিলোমিটার দূরে পদায়ন হতো। এই পেশায় সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ মহিলা হওয়াতে পরিবার ও স্বজন ছেড়ে অনেক দূর দূরান্তে পদায়ন সত্যি বেদনাদায়ক। এই সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ নার্সিং নেতারা বদলি বাণিজ্যে মেতে উঠতেন। তদবিরের জন্য নার্সিং অধিদপ্তরে এসব নেতাদের ভিড় প্রায়ই লেগে থাকতো। মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার ও আব্দুল হাই পিএএ মহোদয়ের প্রচেষ্ঠায় দীর্ঘদিন পর অবশেষ ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ২৮টি নির্দেশনাসহ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের যুগোপযোগী বদলি নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। যা জানুয়ারি ২০২১ থেকে কার্যকর হবে। আশা করি এর সুফল দেশের সকল নার্সিং কর্মকর্তারা পাবেন। 

নার্সিং কর্মকর্তাদের বদলি মানে ছিল দুর্নীতির ছড়াছড়ি। কিন্তু সেই অভিযোগ এখন আর নেই। সরাসরি প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রয়োজন ও যৌক্তিক কারণ বিবেচনা সাপেক্ষে হাজারও নার্সিং কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন, যেখানে একটি পয়সা খরচ করতে হয়নি। এটা মাঠ পর্যায়ের সকল নার্সিং কর্মকর্তার কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ঢাকায় বসে যেসব দুর্নীতিবাজ নার্সিং কর্মকর্তা বদলি বাণিজ্য করতেন তাদের ব্যাপারেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে অধিদপ্তরের বর্তমান দায়িত্বশীলরা। একই সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নার্সিং অধিদপ্তর থেকে সারাদেশের নার্সিং কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ছে। পাশাপাশি বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নার্সিং নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। 

ডিপিসি তৈরি ও বকেয়া সিলেকশন গ্রেড : নার্সিং সেক্টরের দীর্ঘদিনের সমস্যা সিলেকশন গ্রেড। মন্ত্রণালয়ে ডিপিসি তৈরি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অন্যতম সাফল্য। এর মাধ্যমে ১০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ২০০৩ সাল পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত ৩ হাজার ১৭৬ কর্মকর্তার সিলেকশন গ্রেড প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং পরবর্তীতে সকল পদোন্নতি ও পদায়নে ডিপিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা করি। 

উপরোক্ত পদেক্ষেপ ও নীতিমালাসমূহ অসংখ্য কাজের মধ্যে শুধুমাত্র কয়েকটি জনবান্ধব কাজ যা অনেকদিন আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও উদাসীনতা ও আন্তরিকতার অভাবে অসম্পূর্ণভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল। শুধুমাত্র আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার মাধ্যমে বর্তমান নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর জননেত্রী শেখ হাসিনার ভালোবাসা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া সারাদেশের সাধারণ নার্সিং কর্মকর্তাদের মধ্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়াও নন-ক্যাডার পদে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মকর্তারা সকল নার্সিং ও নন নার্সিং কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ, পিআইএমএস সমস্যার সমাধান, নার্সিং কর্মকর্তা, নার্সিং সুপারভাইজারের জব ডিস্ক্রিপশন খসড়া প্রণয়ন, বিদেশে নার্স প্রেরণ প্রস্তাবনা তৈরি, আইসিইউ নার্স ট্রেনিং আয়োজন, একযোগে ২৪টি সেন্টারে নার্স ও মিডওয়াইফগণের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং আয়োজন, কারিগরি সমস্যার সমাধান, জেলা পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তার জন্য নার্সিং কর্মকর্তা পদায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে নার্সিং অধিদপ্তর। আমাদের উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে এমন একটা দক্ষ প্রশাসন আমরা সব সময় প্রত্যাশা করি। সৎ দক্ষ ও যোগ্য এমন প্রশাসক দেশের প্রতিটি দপ্তর ও অধিদপ্তরে প্রয়োজন। এভাবেই এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। এগিয়ে যাবে দেশ।  

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:১২
প্রিন্ট করুন printer

ঋণ ছাড়াই নারীর সফল ক্ষমতায়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি প্রকল্প

মোঃ সোহেল রানা

ঋণ ছাড়াই নারীর সফল ক্ষমতায়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি প্রকল্প
প্রতীকী ছবি

বিগত প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এনজিও এবং সমাজ সেবামূলক সংস্থাসমূহ নারীর ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য প্রচুর বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। 

এ প্রতিপাদ্যের মূল বিষয়টি হচ্ছে- বিনিয়োগ ছাড়াই এবং ঋণ প্রদান ছাড়াই প্রথম ধাপে প্রায় ৬ মাসেই শত শত নারীর ক্ষমতায়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি। 

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া প্রতিটি গ্রাম বা মহল্লায় কর্মপোযোগী প্রতি ১০ জনে সর্বোচ্চ ৩ জন নারী কর্মের মাধ্যমে পরিবারের স্বচ্ছলতায় এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কর্মপোযোগী বাকি ৭ জন নিজেকে কাজে নিয়োজিত করছেন না। এই হিসাবে শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় প্রায় ৬৮,৮১,৪৪০ জনেরও বেশি কর্মপোযোগী নারী রয়েছেন এবং তারা কর্মে নিয়োজিত নন অথচ তাদের অধিকাংশই কোন না কোন এনজিও বা সংস্থার সদস্য এবং ঋণ গ্রহীতা। আরেকটু পর্যালোচনায়- এনজিও বা সংস্থাগুলোর ওয়েব সাইট লক্ষ্য করলে, দেশ ও সমাজ গঠনে বিভিন্ন প্রসংশনীয় পদক্ষেপ এবং ঋণ গ্রহীতা নারীদের সংখ্যা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু উক্ত সংস্থাগুলো কর্তৃক নারী ক্ষমতায়নের সংখ্যা অনেকটাই সুস্পষ্ট নয়। 

এবার আসুন, কীভাবে মোম গলে মোমে পরিণত হয়? ধরুন, দেশীয় কোন সংস্থা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার অর্থায়নে ৫শ জন নারীকে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দিলেন। এটা অবশ্যই ভাল উদ্যোগ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ৫শ জন নারী প্রশিক্ষণ নেয়ার পর কী করছেন? এদের খুবই কম সংখ্যক কাজ পাচ্ছেন বা নিজে নিজে কিছু কাজ করছেন, অধিকাংশই কাজ করছেন না। কারণ, কে কাজ দেবেন, কোথায় গেলে কাজ পাওয়া যাবে, তাদের তৈরিকৃত পণ্য কোন শ্রেণির লোকের কাছে বিক্রয় করবেন, বাজারজাত করার কৌশলটা কী এবং কীভাবে প্রচার করবেন? এই বিষয়গুলো ঐ তৃণমূল পর্যায়ের নারীর পক্ষে করা অনেকটাই অসম্ভব। কিন্তু প্রতিটি প্রশিক্ষিত নারীকে যদি উক্ত সংস্থা কর্তৃক নিয়মিত কাজ দেয়া হত, তাহলে কাউকেই হয়ত প্রশিক্ষণ নিয়ে বসে থাকতে হত না। আবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে সবাইকেই কাজ দেয়াও সম্ভব হয় না এই কারণে যে, উক্ত সংস্থাটির উৎপাদিত পণ্যের জন্য বিক্রয় কেন্দ্র বা বিক্রয় প্রতিনিধি সীমিত। 

কিন্তু খুব সহজেই কিছু কৌশল অবলম্বন করেই বিনিয়োগ ছাড়াই এবং শর্ত সাপেক্ষে সারা দেশে প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্র এবং বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করা সম্ভব। ফলে এক দিকে যেমন সংস্থাটি কর্তৃক নারীরা নিয়মিত কাজ পেয়ে সফল ক্ষমতায়ন হবে অন্যদিকে আরও অনেকেরই কর্মসংস্থান হবে। 

এখন আসুন, কীভাবে বিনিয়োগ এবং ঋণ প্রদান ছাড়াই প্রথম ধাপে প্রায় ৬ মাসেই শত শত নারীর সফল ক্ষমতায়ন সম্ভব! সেটা হচ্ছে; এই প্রশিক্ষণটা হবে- শিক্ষা, যোগ্যতা, সামর্থ, মেধা এবং ইচ্ছানুসারে কয়েকটি ধাপে, গ্রুপে এবং বিষয়ে। প্রথম ধাপে এবং গ্রুপে থাকবে তৃণমূল পর্যায় থেকে স্বল্প শিক্ষিত নারী। দ্বিতীয় ধাপে ও গ্রুপে বেশিরভাগই থাকবেন শিক্ষিত নারী এবং আইটি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। আমার দেশের নারীরা যেন ঘরে বসেই এশিয়ার অন্য দেশগুলোর, ইউরোপ এবং আমেরিকার কোম্পানির ওয়েব সাইট ডেভেলপ করতে পারেন, শিক্ষা, তথ্য এবং গবেষণামূলক নানা ধরণের এ্যাপস এবং আইটি বিষয়ক অন্য কাজগুলোও করতে পারেন। প্রশিক্ষণে যারা অংশগ্রহণ করবেন তারা নাম মাত্র ফি’ প্রদান করবেন আর শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ফি’ দিয়েই প্রথম ধাপের ৬ মাস সফলভাবে এই প্রকল্প চালানো সম্ভব। তারা প্রশিক্ষণ ফি’ এই কারণে প্রদান করবেন যে- এই প্রশিক্ষণ তাদের উপার্জন নিশ্চিত করবে, পরিবারকে স্বচ্ছল করবে, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। 

লেখক: মাস্টার্স ইন জাপানিজ স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:০৯
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৭:৫০
প্রিন্ট করুন printer

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা

অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা

১৬ ডিসেম্বর আমাদের গৌরবদীপ্ত মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর  বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়। এই বিজয় এক দিনে আসেনি। একটানা ৯টি মাস সশস্ত্র যুদ্ধ শুধু নয়, তারও আগে নিতে হয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতি। 

সত্তরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জাতির রায় মেনে নিতে চায়নি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ‘যার হাতে যা আছে, তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা’র আহ্বান জানান তিনি। ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বাঙালির বুকে স্বাধীনতার বীজমন্ত্র বোনা হয়ে যায় সেই দিনই। সেদিন থেকে আর বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। আর সে কারণেই ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাঙালি নিধন শুরু হলেও রুখে দাঁড়াতে সময় নেয়নি বীর বাঙালি। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠে মুক্তির যুদ্ধে শামিল হয় সমগ্র জাতি।

বাঙালি জাতি যে এক উপনিবেশ থেকে আরেক উপনিবেশের শোষণে পড়েছিল, সেটা ১৯৪৭ সালেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে চায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে এটাও স্পষ্ট হয়ে যায়। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতিকে একটু একটু করে প্রস্তুত করতে হয়েছে। এক দিনে হুট করে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে নেমে যায়নি জাতি। এ জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। 

এ দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য বিদেশি হানাদাররা বার বার আঘাত হেনেছে। বৈদেশিক আধিপত্যে এক পর্যায়ে বাঙালি তার স্বকীয় মর্যাদাও হারিয়ে ফেলে। বাঙালি মুসলমানদের অগ্রণী ভূমিকায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও শুরুতেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয় এ দেশের মানুষ। সংখ্যালঘিষ্ঠ পশ্চিম পাকিস্তানিরাই এ দেশের ভাগ্য-বিধাতা হয়ে ওঠে। শোষণ ও নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয় বাঙালিরা। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালির সাহসী নেতা বঙ্গবন্ধু। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হলে পাকিস্তানিরা তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। 

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভেতর দিয়েই জাতি পেয়ে যায় দিকনির্দেশনা। সেদিনই স্থির হয়ে যায় বাঙালির ভাগ্য। পাকিস্তানি শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্তির পথ যেন খুঁজে পায় বাঙালি জাতি, যার ফলে আমরা দেখি একাত্তরে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরই যেন হয়ে উঠেছিল একেকটি দুর্গ। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে কাউকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে যুদ্ধে গিয়েছিল বাঙালি। স্বীকার করতে হয়েছিল অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা।

বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। এবার আমরা স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকী উৎযাপন করছি। বাংলাদেশি পতাকা জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে পৃথিবীর সব দেশের পতাকার মাঝে গৌরবের সাথে উড়ছে। আমরা আজ স্বাধীন জাতি। এই স্বাধীনতা ছিল বাঙ্গালি জাতির দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। পরম আকাঙ্খিত বস্তু। আমাদের স্বপ্ন ছিল, আত্মবিশ্বাস ছিল। তাই আমরা ধৈর্য হারাইনি। সফল হয়েছি।  

বিজয় দিবসে কৃতজ্ঞ জাতি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। আমরা তোমাদের ভুলব না। মরণসাগরে তোমরা অমর। স্মরণ করবে জাতির পিতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি আমাদের এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা। স্মরণ করা হবে মুক্তিযুদ্ধের কর্ণধার এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আসে মহান বিজয়। 

লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর