শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৫৩

তবু বাংলাদেশকে সমীহ করছে ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক


তবু বাংলাদেশকে সমীহ করছে ভারত
রাসেল মাহমুদ জিমি---মনপ্রিত সিং

ম্যাচের আগে আমরা হারব না। ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি দৃঢ় কণ্ঠেই এ কথা বলেছিলেন। এশিয়া কাপ হকিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে উজার হয়ে খেলবেন। তার কণ্ঠে একথাও উচ্চারিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সাহসী কথায় মিল খুঁজে পাওয়া গেল কোথায়। উদ্বোধনী ম্যাচেই পাকিস্তানের কাছে ৭-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ম্যাচ যখন চলছিল তখন চোখে ভাসছিল ৮৫’ও স্মৃতি। সেবারও ঢাকায় পাকিস্তনের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল। পাকিস্তান তখন বিশ্ব হকির সেরা দল। আগের বছর লস্ অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে সোনা জয় করেছিল। সেই দলকে জুম্মন, কিসমত, লুলুরা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে গোলের মুখ দেখেনি। অথচ খেলা শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে দুর্ভাগ্যক্রমে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায়। ৩২ বছর পর নতুন রূপে এশিয়া কাপ। জিমিরা নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু একি হলো? শুরুতে কিছুক্ষণ ঝলসে উঠলেও তারপর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে স্বাগতিকরা। পাকিস্তান হেসে খেলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। আজ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রতিপক্ষ দুরন্ত ভারত। যাদের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন বলেই ধরা হচ্ছে। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ম্যাচটি শুরু হবে। ভারত প্রথম ম্যাচে জাপানকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের সামর্থ্যের কথা।

২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ ম্যাচে ভারতকে হারিয়েছিল। ফাইনালেও খেলেছিল দুই দল। দুইবার এগিয়ে থেকেও ট্রফি জিততে পারেনি। সেই ভারতের বিপক্ষে আজ লড়াই। দেশ এক পার্থক্য অনেক। ভারতের জাতীয় দল মানেই প্রতিপক্ষরা ভয়ে কাঁপে। যদিও সেই সুদিন আর নেই। তবু দলটি ভারত বলেই কথা উঠেছে। আজও কি জিমিরা গোলের বন্যায় ভেসে যাবে। ভারতের অধিনায়ক মনপ্রীত সিং অবশ্য বাংলাদেশকে হালকা চোখে দেখছেন না। বললেন, দলে বেশ কজন খেলোয়াড় রয়েছে। যারা দলকে জেতাতে পারেন। তিনি বলেন, হকি টেকনিক্যাল গেম। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে গুছিয়ে উঠতে পারেনি বলে ৭-০ গোলে হেরেছে। শুরুতে বাংলাদেশই বেশ কবার গোলের সুযোগ পেয়েছিল। যদি কাজে লাগাতে পারত তা হলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।

মনপ্রীত বলেন, ‘মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আমি নিশ্চিত জিমিরা জান-প্রাণ দিয়ে লড়বেন। তাই ম্যাচ জিততে হলে আমাদের সেরাটাই খেলতে হবে। ভারতীয় অধিনায়কের এই কথা বাংলাদেশকে সাহস জোগাতে পারে। কিন্তু বাস্তব চেহারাটা আসলেও ভিন্ন। জিমিরা অবশ্যই জিততেই মাঠে নামবে। কিন্তু তা কি সম্ভব। হয়তো টার্গেটটা থাকবে গোল যত কম খাওয়া যায়। ভারতকে হারানোটা কি একেবারের অসম্ভব? আসলে ম্যাচে কি ঘটে তা বলা মুশকিল। স্মরণীয় ম্যাচ খেলতে পারলে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয় সম্ভব।

অধিনায়ক জিমির একই কথা। আমরা লড়াই করব। ভারতকে ছেড়ে কথা বলব না। ভারতের টার্গেট শিরোপা সূতরাং বাংলাদেশকে তারা যতই সমীহ করুক না কে আজ জেতার জন্য মরিয়া হয়ে লড়বে। ভারত যদি ৭০ মিনিট সতর্ক হয়ে খেলে তাহলে ফলাফল কি হতে পারে সবাই অনুমান করতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক স্মরণীয় জয় দেখেছে। পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ ও ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছে। এখন হকিতে বাংলাদেশ যদি ভারতকে হারাতে পারে তা হবে ইতিহাস। এখন শুধু অপেক্ষা কি হবে আজ। দিনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জাপান মুখোমুখি হবে। সুপার ফোরের আশা জিইয়ে রাখতে হলে জাপানকে জিততেই হবে। কিন্তু তা কি সম্ভব প্রতিপক্ষ দলটি যে পাকিস্তান।


আপনার মন্তব্য