শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:২১

শিরোপার হাসি হাসবে কে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শিরোপার হাসি হাসবে কে
ফাইনালের আগে শেষ মুহূর্তে অনুশীলনে ব্যস্ত বাংলাদেশের ফুটবলাররা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিজয়ের মাসে চ্যাম্পিয়নের উৎসব। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলে ফাইনাল আজ। কমলাপুর বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের কিশোরীরা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ট্রফি যাবে কার ঘরে? বাংলাদেশ না ভারতের? দেশের ফুটবলে যে হাকাকার চলছে তাতে কোনো টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলাটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। পুরুষ ফুটবলে যুবারা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে জ্বলে উঠলেও বড়রা হতাশায় বন্দী হয়ে আছে। পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। নামতে নামতে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৯৭ নম্বরে অবস্থান পুরুষদের। যে কোনো সময় দুশো স্পর্শ করতে পারে।

মেয়েরা এখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান শততে। অর্থাৎ মেয়েদের ফুটবলে সেরা ১০০ দলের নামের তালিকায় বাংলাদেশ। মেয়েরা যখন পায়ে লাথি মারা শুরু করে অনেকের ধারণা ছিল পুরুষরা যেখানে কুলিয়ে উঠতে পারছে না সেখানে মেয়েদের ফুটবলে নামানোটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কত বাধাই না এসেছিল, সেই মেয়েরা এখন দেশের অহঙ্কার। পুরুষ জাতীয় দলের ফাইনালে খেলাটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরুতে পারছে না। গত তিন আসরে জাতীয় দল সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি। মেয়েরা কিন্তু প্রতি বছরই সাফল্য এনে দিচ্ছেন। নেপালে আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৪ দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এএফসি বাছাই পর্বে গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে অনূর্ধ্ব-১৬ দল চমক দেখিয়েছে। চূড়ান্ত পর্বেও পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। মেয়েদের মূল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাবরিনা, কৃষ্ণাদের নৈপুণ্য ক্রীড়াঙ্গনে সাড়া ফেলে দেয়। দুর্ভাগ্য বলতে হয় বাংলাদেশের। ভালো খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ফাইনালে হেরে যায় ভারতের কাছে। মূলত পক্ষপাতিত্ব রেফারিংয়ে সাবরিনাদের চ্যাম্পিয়নের বদলে রানার্স আপ হতে হয়।

আজ ফাইনালে বাংলাদেশ পরিষ্কার ফেবারিট। চার জাতি টুর্নামেন্টে নেপাল ও ভুটানকে সহজে হারানোর পর লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতকেও উড়িয়ে দেয় মারজিয়া, আঁখিরা। ৩-০ গোল হলেও যে দাপট দেখিয়েছিল তাতে ভারত অর্ধ ডজন গোল হজম করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। সত্যি বলতে কি বাংলাদেশের সামনে ভারত সেদিন দাঁড়াতেই পারেনি। ফুটবলে যে কোনো টুর্নামেন্টে অনেক দিন পর বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হারাল ভারতকে।

সেই ভারতই তো ফাইনালে প্রতিপক্ষ। তাহলে কি বিজয়ে মাসে বাংলাদেশের শিরোপা উৎসবটা সময় ব্যাপার? না, ফাইনাল ফাইনালই এর সঙ্গে অন্য কোনো ম্যাচের তুলনা চলে না। ১৯৮৪ সালের কথা মনে আছে? সেবার কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম সাফ গেমস। ভারত অংশ না নেওয়ায় ফুটবল ইভেন্টে বাংলাদেশ ছিল পরিষ্কার ফেবারিট। আসলামদের সোনা জয়টা সময় ব্যাপারই মনে হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে ম্যাচে নেপালকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আশাটা আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ফাইনালে এই নেপালই ২ গোলে পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জিতে প্রথম সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়। সুতরাং লিগ পর্বে সহজভাবে জিতলেও ফাইনালে কি হবে বলা মুশকিল।

বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে এখন যে অবস্থান তাতে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অবদান স্বীকার করতেই হবে। তার দক্ষ প্রশিক্ষণে মেয়েরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তিনিও বলেন, দল হিসেবে অবশ্যই আমরা শক্তিশালী। কিন্তু ফাইনালের হিসাব-নিকাশ করাটা ভুল। লিগ পর্বে তিন ম্যাচেই আমরা সহজ জয়ে ফাইনালে উঠেছি। তবু মনে রাখতে হবে প্রতিপক্ষ দলটা ভারত। দুই দলই শিরোপা জিততে মাঠে নামবে। যারা ভালো খেলবে তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে। ভারত চাইবে মরণ কামড় দিতে। আমরাও প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামব। যেভাবে ব্রিফ করেছি মেয়েরা সেভাবেই খেলছে। তাদের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। ওদের ওপর আস্থা রয়েছে। আশা করি বিজয়ের মাসে দেশকে ট্রফি উপহার দেবে।

ভারতের কোচ বলেন, আগেই বলেছিলাম ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলবে। সেই প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সত্যি বলতে কি বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জেতাটা কষ্টকর। তবে আমরা জান-প্রাণ দিয়ে লড়বো। ফাইনালে আমরা কৌশল পরিবর্তন করেই লড়াই করবো।’ ছোটন তার শিষ্যদের উদ্দেশ্য বলেন, ফাইনাল এমনিতেই টেনশনের লড়াই। এখানে গোলের সুযোগ আসবে কমই। সুযোগ কোনোভাবে হাত ছাড়া করা যাবে না। মনে রাখতে হবে গোল মিস করলে ম্যাচও মিস হয়ে যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য