Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫২

ফুটবল উৎসবে নেই বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবল উৎসবে নেই বাংলাদেশ

ফিফা উইন্ডো। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে। প্রীতি ম্যাচের দুনিয়া জুড়ে লিগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেডারেশন কাপের দুই সেমিফাইনালও পিছিয়ে গেছে ফিফা উইন্ডোতে। অনেক দেশই প্রীতি ম্যাচে অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসবই বলা হয় একে। অথচ সেই উৎসবে বাংলাদেশের দেখা মিলবে না। বিশ্বসেরা দেশগুলো তো ম্যাচ খেলছেই। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান বাদ নেই। বাফুফে তো আগেই ঘোষণা দিয়েছিল বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কমপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। জাতীয় দল গঠন ও অনুশীলনের কথা চিন্তা করে ফেডারেশন কাপের লম্বা গ্যাপ রাখা হয়েছে। তা না হলে এত দিনে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যেত। ১২-২০ নভেম্বরে মধ্য প্রীতি ম্যাচ শেষ করতে হবে। তাই দুই সেমি ও ফাইনাল পিছিয়ে দেয় বাফুফে। যেহেতু জাতীয় দল খেলবে না। তাই ১৯ ও ২০ নভেম্বর এখন দুই সেমিফাইনাল হবে। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নিজেই বলেন, তার সঙ্গে সব ফেডারেশনের সম্পর্ক ভালো। তাছাড়া তিনি আবার সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে দীর্ঘদিন ধরে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তাহলে সাফের কোনো দেশকে নিয়ে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা গেল না কেন? শ্রীলঙ্কা ও ভুটানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বাফুফে ভেবেছিল ভুটান ও শ্রীলঙ্কা বললেই রাজি হয়ে যাবে। দুর্বল বলে তাদের বিপক্ষে কেউ খেলতে চায় না।

কী লজ্জা ভুটান ও শ্রীলঙ্কা বাফুফের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। ভারত খেলবে জর্ডানের বিপক্ষে। যে পাকিস্তান দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিল তারা ফিফা উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। তাও আবার শক্তিশালী ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। বাফুফের গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক মহলে এতই কম যে একটাও ম্যাচের আয়োজন করতে পারল না?

জাতীয় দল দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। ২০০৩ সালের পর শিরোপা জেতাটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গত চার আসরে সেমিফাইনালই খেলতে পারেনি। সুতরাং র‌্যাঙ্কিং উন্নতি করার একটা মাত্র উপায় বেশি করে ম্যাচ খেলা। এই সুযোগটাও তো কাজে লাগাতে পারছে না বাফুফে। নামতে নামতে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাফুফের অবস্থান দুশো ছুঁই ছুঁই করছে। কী সংকটাপন্ন অবস্থায় না আছে বাংলাদেশের ফুটবল।

এখন তো দেখা যাচ্ছে বাফুফে চেয়ে ক্লাব কর্মকর্তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা বেশি। প্রশ্ন উঠতে পারে কীভাবে? এক্ষেত্রে বড় উদাহরণ হতে পারে বসুন্ধরা কিংসই। নতুন দল, অথচ পেশাদার লিগে অভিষেকের আগে তারা কিনা মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন নিউ রেডিয়্যান্টকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নীলফামারীতেই প্রীতি ম্যাচ খেলল। সেখানে কিনা ভুটানকে রাজি করাতে পারল না বাফুফে। বাফুফের কর্মকর্তারা হয়তো যুক্তি দাঁড় করাবেন সবদেশই কি প্রীতি ম্যাচ খেলছে? কে খেলছে বা খেলছে না তা কেউ জানতে চায় না। বাফুফে কেন পারল না— এটাই বড় প্রশ্ন।


আপনার মন্তব্য