শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০২

ঢাকা-কুমিল্লা ফাইনাল

মেজবাহ্-উল-হক

ঢাকা-কুমিল্লা ফাইনাল
এবারও বিপিএলের ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটস। গতকাল রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে তারা কুমিল্লার প্রতিপক্ষ হয়েছে। ম্যাচ শেষে রাসেলকে ঘিরে উল্লাসে মেতেছেন সতীর্থরা -রোহেত রাজীব

ক্যারিবিয়ানদের হাতেই ছিল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচের ভাগ্য! একদিকে টি-২০ সম্রাট ক্রিস গেইল, আরেক দিকে আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড ও সুনীল নারিন! কিন্তু পারলেন না গেইল। আসরের আগের ম্যাচগুলোর মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ শেষ ম্যাচেও তার ব্যাটে রান খরা। তাই বিপিএল থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল রংপুরেরও। অন্যদিকে ব্যাটে-বলে জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ঢাকাকে জিতিয়ে দিলেন রাসেল-নারিনরা। ৫ উইকেটের দারুণ জয়ে ফাইনালে উঠে গেল ডায়নামাইটস। আগামীকাল ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সঙ্গী ঢাকা।

ব্যাট হাতে মাত্র ১৯ বলে ৪০ রানের ম্যাচজয়ী ‘সাইক্লোন’ ইনিংস এবং বল হাতে নিয়েছেন দুই উইকেট। নারিন ব্যাট হাতে ৮ বলে ১৪ রান করেছেন এবং বল হাতে চার ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৮ রান। পোলার্ড করেছেন ৮ বলে ১৪ রান। তবে তিন ক্যারিবীয় তারকার কেউ-ই ম্যাচসেরা হতে পারেননি। সেরা হয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। মাত্র ২৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। রুবেলের ক্যারিশম্যাটিক বোলিংয়েই গতকাল রংপুর রাইডার্স আটকে যায় ১৪২ রানে। গত বছর এই রুবেলই ছিলেন রংপুরের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক। এবার সেই রুবেলই বিদায় করে দিলেন রাইডার্সকে।

গতকাল ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম দুই বলেই রংপুরের  সেরা দুই তারকা ক্রিস গেইল ও রাইলি রুশোকে ফিরিয়ে  দেন জাতীয় দলের তারকা এই পেসার। টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন রুবেল। কিন্তু হয়নি। ওই ওভারে মেডেন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তবে রুবেলের হ্যাটট্রিক না হলেও দলগতভাবে হয়ে গেছে হ্যাটট্রিক। আগের ওভারের শেষ বলে নাদিফ চৌধুরীকে বিদায় করে দেন শুভাগত হোম। ইনিংসের টানা তিন বলে উইকেট। ৪২/০ স্কোরটি হঠাৎ হয়ে যায় ৪২/৩।

পুরো টুর্নামেন্টেই গেইলকে তার স্বরূপে দেখা যায়নি। একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বটে, তবে সেটি তার ব্যাটিং স্টাইলের সঙ্গে মানানসই ছিল না! গতকালও ক্যারিবীয় মারকুটে ব্যাটসম্যান শুরু করেন খুবই সতর্কভাবে। আন্দ্রে রাসেলের করা ইনিংসের প্রথম ওভার থেকে মাত্র এক রান নেন। রাসেলের করা দ্বিতীয় (ব্যক্তিগত) ওভারের প্রথম বলেই স্ট্রেট দিয়ে বিশাল ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে কাভার দিয়ে আরেকবার উড়িয়ে মারেন ক্যারিবীয় এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। রাসেলের ওই ওভার থেকে আসে ১৮ রান। তবে নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। ১৩ বলে ১৫ করে তাকে ফিরতে হয়েছে ড্রেসিংরুমে। রাসেলের বলে আত্মবিশ্বাসী দুই ছক্কার শট খেলার পর গেইল কেন যে রুবেলের বলে খোঁচা দিতে গেলেন?

টানা ব্যর্থতার কারণে মেহেদী মারুফকে একাদশে রাখেনি রংপুরের টিম ম্যানেজমেন্ট। তার জায়গা গেইলের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামেন নাদিফ চৌধুরী। শুরুটা করেন বাউন্ডারি দিয়ে। গেইলকে রাসেলের বলে ছক্কা হাঁকাতে দেখে শুভাগত হোমের ওভারকে বেছে নেন নাদিফ। পর পর তিন বলে তিনটি বিশাল ছক্কা। ১১ বলে করেন ২৭ রান। কিন্তু ওই ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই আউট হয়ে যান নাদিফ।

পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায় রংপুরের জন্য। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন রবি বোপারা ও মোহাম্মদ মিথুন মিলে। ৬৪ রানের দারুণ একটি জুটিও গড়েন তারা। বলে রানও করছিলেন। কিন্তু টি-২০ তো আর ওয়ানডে নয়, বলে বলে রান হলেই স্কোরটা স্বাস্থ্যবান হবে!

ঠিক যখন ঢাকার বোলারদের ওপর চড়াও হতে গেলেন তখনই উইকেটের পতন। ২৭ বলে ৩৮ রানে ফিরে যেতে হয় মিথুনকে। দুইটি করে ছক্কা-চার ছিল তার ইনিংসে। ঢাকার  বোলার কাজী অনিকের বলে আউট হয়ে যান। মিথুন কেবল নিজের উইকেটটা বিলিয়েই দিয়ে দলকে ঠেলে দিলেন চরম বিপর্যয়ে।

ক্রিকেটে একটা কথা আছে, যেদিন যার সুযোগ আসে সেদিন তাকেই শেষ করতে হয়! সাকিবের মতো ‘টি-২০ মাস্টার’  বোলারকে পর পর দুই ছক্কা মিথুন একটা ইঙ্গিত পেয়ে গিয়েছিলেন, ‘দিনটি তারই’! কিন্তু সুযোগটা যেন হেলায় হারিয়ে ফেললেন। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান আর একটু দায়িত্বশীল হলে রংপুরের ইনিংসটাও আরও স্বাস্থ্যবান হতো।

রবি বোপারা শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে করেছেন ৪৯ রান। মিথুনের সঙ্গে তার জুটিটা শেষ পর্যন্ত থাকলে রংপুরের স্কোরটা ১৪২ রানের জায়গার হয়তো ১৭০ কিংবা ১৮০ হতে পারত। তখন ফাইনালে ওঠার লড়াইটা অন্য মাত্রা পেত।

মিথুনের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা পায় রংপুর রাইডার্স। ১০৬-১২৮ এই ২৪ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারায় উত্তরাঞ্চলের দলটি। আর ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে মিথুন ছাড়া বাকি ৫ ব্যাটসম্যানের রানের যোগফল মাত্র ৯ (হাওয়েল ৩, মাশরাফি ০, নাহিদুল ৪, ফরহাদ রেজ ২ এবং শফিউল ০)। এক প্রান্ত বোপারা উইকেট আঁকড়ে থেকে  খেলেছেন বলেই স্কোরটা ১৪২ হয়েছে। কিন্তু শক্তিশালী ঢাকাকে কি আর মাত্র ১৪৩ রানের টার্গেট দিয়ে লড়াই জমানো যায়?


আপনার মন্তব্য