শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪১

ভারাক্রান্ত মনে ফিরলেন ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারাক্রান্ত মনে ফিরলেন ক্রিকেটাররা

দুঃস্বপ্নের সফর শেষে গতকাল রাতে শেষে ফিরেছে টাইগাররা। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছার পর নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে চোখের সামনে যে ঘটনা দেখে এসেছেন সেই ‘ট্রমা’ থেকে বের হয়ে আসতে খানিকটা সময় লাগবে বলে মনে করেন ক্রিকেটাররা।

নিউজিল্যান্ড ছাড়ার আগে ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দরে নিজেদের মানসিক অবস্থা বোঝাতে গিয়ে তামিম ইকবাল মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘আমরা যে ঘটনার সামনে পড়েছিলাম, সেটা থেকে বের হতে সময় লাগবে আমাদের। এখন আমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়াই ভালো হবে। কারণ পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন। আমি শুধু আশা করছি, দেশে ফিরে দিনে দিনে যেন আমরা এই মানসিক আঘাতটা সামলে উঠতে পারি।’

একদিন আগেই ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে, ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। সংবাদ সম্মেলনে একটুখানি দেরি হওয়ায় নামাজ শুরুর আগে মসজিদে যেতে পারেননি। আর এই বিলম্বের কারণেই বেঁচে যান ক্রিকেটাররা। তবে হামলার শিকার না হলেও ‘ট্রমা’র মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় মুশফিকরা একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলেও নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। যাদের মধ্যে একজন ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ফুটসাল তারকা আতা এলাইয়ান। নিউজিল্যান্ড ফুটসাল দলের গোলরক্ষকের ভূমিকা পালন করেন তিনি। জাতীয় দলের পাশাপাশি ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটসাল তারকা ক্যান্টারবুরি ফুটসাল দলেও খেলতেন। এলাইয়ানের জন্ম কুয়েতে, কিন্তু তিনি ফিলিস্তিনেরও নাগরিক ছিলেন। ক্রাইস্টচার্চের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় কোম্পানি এলডব্লুএ সলিউশনসের পরিচালক ছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডে হামলা থেকে একটুর জন্য মুশফিকরা বেঁচে গেলেও প্রশ্ন উঠেছে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে। কেননা টাইগাররা যখন নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মীও ছিল না। কিন্তু কেন?

অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দল কোনো দেশে সফরে গেলে তাদের ক্রিকেট  বোর্ড সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে একটা অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল পাঠায়। সফরের সঙ্গেও থাকে নিজস্ব নিরাপত্তা দল। তাহলে বাংলাদেশ কেন ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী পাঠায় না কিংবা সফরের আগে অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল পাঠানোর প্রয়োজন মনে করে না! ভবিষ্যতে কি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিসিবির অনুসরণ করা উচিত নয়!


আপনার মন্তব্য