শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১১

চেনা ছন্দে সিদ্দিকুর

মেজবাহ্-উল-হক

চেনা ছন্দে সিদ্দিকুর
প্রথম দুই দিনে ৮ আন্ডার খেলতে পেরে আমি খুশি। আমি যেভাবে খেলছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমার বিশ্বাস পরের দুই রাউন্ডেও আমি এই ছন্দে খেলতে পারব। আমি খুবই আশাবাদী।

 

ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সিদ্দিকুর রহমান। প্রথম দিন ৫ আন্ডার খেলার পর গতকালও খেলেছেন ৩ আন্ডার পার। বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ ওপেনে বাংলাদেশি গলফারদের মধ্যে তিনিই এখন শীর্ষে। তবে দুই রাউন্ড মিলে ‘৮ আন্ডার’ খেলে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন দেশসেরা গলফার।

সিদ্দিকুর প্রথম রাউন্ড শেষে ছিলেন সপ্তম স্থানে। গতকাল আরও তিন ধাপ এগিয়েছেন। সিদ্দিকুরের লক্ষ্য একটাই শিরোপা। যদিও সে পথটা মোটেও সহজ নয়। কেন না দুই রাউন্ড শেষে থাইল্যান্ডের গলফার স্যাডম কেয়াকাঞ্জানা ‘১৫ আন্ডার পার’ খেলে শীর্ষে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের রশিদ খান। তিনি পারের চেয়ে সব মিলে ১২ শট কম খেলেছেন। প্রথম রাউন্ডের শীর্ষ গলফার অস্ট্রেলিয়ার মেভরিক অ্যান্টক্লিফ গতকাল ততটা সুবিধা করতে পারেননি। সব মিলে ৯ আন্ডার খেলে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

এবার আসরে সিদ্দিকুর ছাড়াও বাংলাদেশের অন্য গলফাররা বেশ ভালো করছেন। কাট পেয়েছেন মোট ১২ জন গলফার। এর আগের চার টুর্নামেন্টে এত বেশি স্থানীয় গলফার তৃতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পায়নি।

স্থানীয় অন্য গলফারদের মধ্যে আকবর হোসেন ৭ আন্ডার পার খেলে যৌথভাবে সপ্তম স্থানে রয়েছেন। ৬ আন্ডার খেলে ১১তম স্থানে রয়েছেন মো. নাজিম।

শুধুমাত্র দ্বিতীয় রাউন্ডের পারফরম্যান্সে স্থানীয়দের মধ্যে সেরা ছিলেন জামাল হোসেন মোল্লাহ। তিনি এই রাউন্ডে ৫ আন্ডার খেলেছেন। প্রথম দিনটি ভালো না হওয়ায় ‘কাট’ পাবেন কিনা তা নিয়েই ছিল শঙ্কা। কিন্তু সব মিলে ৪ আন্ডার খেলে ২২তম স্থানে থেকেই নিশ্চিত করেছেন তৃতীয় রাউন্ড।

গতকাল সবচেয়ে বাজে দিন ছিল মুয়াজ মোহাম্মদের। প্রথম রাউন্ডে ৬ আন্ডার খেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে চমক দেখিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল ৩ ওভার খেলেছেন। দুই দিন মিলে ৩ আন্ডার পার নিয়ে যৌথভাবে ২৯তম স্থানে রয়েছেন। একই অবস্থানে আছেন স্থানীয় আরেক গলফার মো. সায়ুম। এছাড়া দেশি গলফারদের মধ্যে ‘কাট’ নিশ্চিত করেছেন বাদল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন সোহেল, শাহ আলম, নুর জামাল ও দিল মোহাম্মদ।

গলফে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে হয় তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডে। এ সময় ফিটনেস ধরে রাখাই কঠিন হয়ে যায়। কেননা প্রতি রাউন্ডে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা করে হাঁটতে হয় কোর্সে। এভাবে টানা চার ঘণ্টা করে হাঁটা এবং সেই সঙ্গে স্কিল ধরে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। তাই লিডারবোর্ডে নিয়মিত উত্থান-পতন দেখা যায়। তবে শিরোপার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী সিদ্দিকুর। গতকাল মিডিয়াকে বলেন, ‘শেষের হোলের কথা বাদ দিলে আরেকটি ভালো রাউন্ড শেষ করলাম। তবে খুব সহজ একটা বগী হজম করতে হয়েছে। যদিও এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। সব মিলে দিনটা খুবই ভালো ছিল। প্রথম দুই দিনে ৮ আন্ডার খেলতে পেরে আমি খুশি। আমি যেভাবে খেলছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।’

গতকাল দিনের শেষ হোলে বগী না খেলে তৃতীয় স্থানে থাকত সিদ্দিকুর। তাই খানিকটা আপসোস তো থাকবেই। তবে সব মিলে নিজের পারফরম্যান্সে তিনি ভীষণ খুশি, ‘আমার পাটিং খুবই ভালো হয়েছে। শটও দুর্দান্ত খেলেছি। পাটিং ভালো হওয়ার কারণেই আমি ভালো করছি। আমার বিশ্বাস পরের দুই রাউন্ডেও আমি এই ছন্দে খেলতে পারব। এর কোনো পরিবর্তন হবে না। আমি খুবই আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, পরের দুই রাউন্ডের জন্য আমি নিজেকে ফিট রাখতে পারব।’

কুর্মিটোলায় ২২টি দেশের গলফারদের মধ্যে ‘কাট’ বা তৃতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ৬৯ জন গলফার। তার মধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন। স্থানীয়দের এই সাফল্য দেশসেরা গলফারকে রোমাঞ্চিত করছে। সিদ্দিকুর বলেন, ‘দেখতে ভালো লাগছে যে আমাদের স্থানীয় গলফাররা অনেক ভালো করছে। আমি দেখতে পাচ্ছি তারা ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। আসতে আসতে বাংলাদেশের গলফের যে উন্নতি হচ্ছে তা দেখতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’


আপনার মন্তব্য