Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:২৮

শিরোপার অপেক্ষায়...

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শিরোপার অপেক্ষায়...

অচেনা প্রতিপক্ষ। তার ওপর খেলছেন না দলের সেরা দুই স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না ও কৃষ্ণা রানী সরকার। দুই তারকা ফুটবলারের অনুপস্থিতিতে দল শক্তি হারালেও স্বপ্নের ফাইনালে উঠতে কোনো সমস্যা হয়নি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনালে লাওসের প্রতিপক্ষ হতে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় তুলে নিয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। গোল ব্যবধান আরও বড় হতো, যদি গোল মিসের মহড়ায় মেতে না উঠতেন সাজেদা, মারিয়ারা। প্রথম সেমিফাইনালে লাওস ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কিরগিজকিস্তানকে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৩ মে।

প্রচন্ড গরমে জীবন ওষ্ঠাগত। বিপর্যস্ত জনজীবন। এমন নাভিশ্বাস গরমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল সন্ধ্যায় শীতল পরশ বুলিয়েছেন মনিকা চাকমা, মার্জিয়া, তহুরারা। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছন্দোময় পাসিং ফুটবল খেলে মাঠে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শকের মন ভরিয়ে দেয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। যদিও প্রথম গোলের উচ্ছ্বাসে মাততে মিশরাত জাহান মৌসুমীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত মিনিট পর্যন্ত। তবে প্রথম গোলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল ২৫ সেকেন্ডে। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই বল নিয়ে মঙ্গোলিয়ার রক্ষণভাগে হামলে পড়েন সাজেদা। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি গতকাল প্রথম খেলতে নামা এই স্ট্রাইকার। সুযোগ মিস হওয়ার পর থেকে আক্রমণের ধারা বাড়িয়ে দেয় ছোটনের দল। ১৫ মিনিটে ভাগ্য সহায় না থাকায় গোল পাননি সাজেদা। গোল উচ্ছ্বাসে মেতে উঠা হয়নি যুবা দলের। ডি বক্সের ডান প্রান্ত থেকে সাজেদার ডান পায়ের শট সাইড পোষ্টে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচসেরা মনিকা চাকমা বিশ্বমানের গোলটি করেন বাঁ পায়ের ভলিতে (১-০)। এরপর বিরতির বাঁশি বাজান। দ্বিতীয়ার্ধে গোল বাড়াতে সাজেদার বদলে নামানো হয় স্ট্রাইকার তহুরাকে। এরপর আক্রমণের ধার বেড়ে যায়। ৬৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করেন মার্জিয়া। মনিকার থ্রু পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে খানিকটা এগিয়ে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল ব্যবধান ২-০ করেন মার্জিয়া। টুর্নামেন্টে এটা তার প্রথম গোল। এরপরও গোল পেতে একের পর এক আক্রমণ করতেই থাকে বাংলাদেশের যুবারা। অবশেষে ৮৪ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন তহুরা (৩-০)। ডিফেন্ডার শামসুন্নাহারের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তহুরার শট এক খেলোয়াড়ের গায়ে  লেগে কিছুটা দিক পাল্টে জালে জড়ায়। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েও আটকাতে পারেননি। ফাইনাল নিশ্চিত করে উৎফুল্ল কোচ ছোটন, ‘দলের সবাই দারুণ ফুটবল খেলেছে। আমি সন্তুষ্ট দলের পারফরম্যান্সে। তবে গোল আরও বেশি হলে ভালো হতো।’

 

প্রথম বল স্পর্শ

২৩ মিনিটে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ গোলরক্ষক রূপমা চাকমা প্রথম বল স্পর্শ করেন। মধ্য মাঠ থেকে আঁখির ব্যাক পাস পা দিয়ে থামিয়ে আবার পাস দেন রূপমা।

ম্যাচসেরা মনিকা

নিজে করেছেন এক গোল। আবার আরেকটি গোল করিয়েছেন। দুর্দান্ত খেলার পুরস্কারও পান ৬ নম্বর জার্সিধারী মনিকা চাকমা। হয়েছেন ম্যাচসেরা এবং পুরস্কার পেয়েছেন ৫০০ ইউএস ডলার।

মনিকার নজর কাড়া গোল

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে চোখ ধাঁধানো গোল করেন মনিকা চাকমা। বক্সের বাইরে জটলায় বল মাথা দিয়ে ফাঁকায় নিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে বিশ্বমানের গোল করেন মনিকা (১-০)।

মার্জিয়ার সুপার ফিনিশ

৬৯ মিনিটে মনিকার ডিফেন্স চেড়া পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ে মাটি কামড়ানো শটে দুর্দান্ত ফিনিশ করেন মার্জিয়া (২-০)।

তহুরার ঠান্ডা মাথায় গোল

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলতে নেমেই নামের প্রতি সুবিচার করেন তহুরা খাতুন। মাঝ মাঠ থেকে বাড়ানো বল ধরে তিন-চার স্টেপ এগিয়ে ডান পায়ের প্লেসিং শটে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন (৩-০)।

প্রথম সুযোগ নষ্ট

২৫ সেকেন্ডে মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষক সেনডিজেবকে একা পেয়েও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সাজেদা খাতুন।

সাইড পোষ্টে লাগে

একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করেও গোল করতে পারছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। ১৫ মিনিটে সাজেদার ডান পায়ের ভলি মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও সাইড পোষ্টে লেগে ফিরে আসে।

খেলেননি কৃষ্ণা, স্বপ্না

গ্রুপ পর্বে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েন কৃষ্ণা রানী সরকার ও সিরাত জাহান স্বপ্না। দুজনের জায়গায় খেলেছেন সাজেদা ও মার্জিয়া।


আপনার মন্তব্য