শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০১৯ ২৩:০৪

কখন বাজবে শেষ বাঁশি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কখন বাজবে শেষ বাঁশি
আবাহনীর বিপক্ষে গোলের পর উল্লসিত বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা -ফাইল ফটো

এখনো নিশ্চিত নয়। তবু একথা বলা যায় স্বপ্নের সেই শিরোপা বসুন্ধরা কিংসের নাগালেই। যে কোনো সময় ট্রফি তাদের হাতের মুঠোয় বন্দী হয়ে যেতে পারে। কবে বা কখন হবে সেটাই অপেক্ষা। কখন বাজবে সেই উৎসবের বাঁশি। পেশাদার ফুটবল লিগে আরও অনেক ম্যাচ বাকি। কিন্তু ১৪ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে অনেকটাই ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে বসুন্ধরা কিংস। বিশেষ করে রবিবার ফিরতি পর্বে ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে সবচেয়ে বড় বাধা অতিক্রম করল দলটি। ম্যাচে হারলেও শীর্ষে থাকত কিংস। কিন্তু শিরোপা রাস্তা পাড়ি দেওয়াটা কঠিন হয়ে যেত। তখন দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান থাকত মাত্র এক।

তিন পয়েন্টের ম্যাচে এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকাটা আহামরি কিছু নয়। যে কোনো সময় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কাটা ছিল কিংসের। সেই ভয়কে জয় করেছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়ে। একথা ঠিক আবাহনী কিংবা শেখ রাসেলের চেয়ে সাত পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও কিংসই যে নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন হবে তা বলার সময় আসেনি। তবে শিরোপার রাস্তাটা সহজ হয়ে গেছে। সামনে বড় বাধা সাইফ ও শেখ রাসেলই। আবার দুর্বল প্রতিপক্ষদের খাটো করে দেখার উপায় নেই। রহমতগঞ্জ ও আরামবাগের বড় দলের পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। মোহামেডানও দ্বিতীয় পর্বে ভালো খেলেছে। মুক্তিযোদ্ধা বা চট্টগ্রাম আবাহনীকেও ফেলে দেওয়া যাবে না। চলতি লিগে বসুন্ধরাই শুধু অপরাজিত রয়েছে। একমাত্র ড্রটা করেছে টিম বিজেএমসির বিপক্ষে। যারা কিনা পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে। সুতরাং ‘পচা শামুকেও’ যে পা কাটে সেই সতর্কতা নিয়ে খেলতে হবে। ঢাকা লিগের এমনো ঘটনা ঘটেছে মোহামেডান ১১ ও আবাহনী আট পয়েন্ট এগিয়ে থেকেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। বিশেষ ১৯৮৫ সালের উদাহরণটা টানা যায়। সেবার প্রথম পর্বে আবাহনীর চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবার সেই ধরনের ঘটনা ঘটবে কি ঘটবে না তা সময়ই বলে দেবে। তবে বসুন্ধরার বড় ভয়টা পার হয়ে গেছে আবাহনীকে হারিয়ে। ড্র হলেও অবস্থান একই থাকত। কিন্তু এই জয়ের সঙ্গে ফাইনালে শিরোপা জেতার তুলনা চলে।

নতুন দল। অথচ অভিষেক আসরেই ঘরোয়া ফুটবলে স্মরণকালের সেরা দল গড়েছে। এমনিতেই তারা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। আবাহনীকে হারানোর পরতো তাদের গতি উসাইন বোল্টের মতো হয়ে গেছে। কলিনড্রেস, মার্কোস, বখতিয়ার, মতিন মিয়ারা যে ফর্মে রয়েছেন তারা সতর্ক হয়ে খেলতে পারলে সামনে প্রতিটি ম্যাচই জেতা সম্ভব। স্বাধীনতা কাপ জিতে ঘরোয়া ফুটবলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বসুন্ধরা কিংস।

এবার লিগ জিতে আরেকটি ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। কেননা, এর আগে কোনো ক্লাবই অভিষেক আসরে লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। বসুন্ধরা কখন সেই স্বপ্নের ট্রফি হাতে তুলবে সেটাই অপেক্ষা।


আপনার মন্তব্য