শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৩৫

শিরোপার চেয়ে বড় অর্জন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শিরোপার চেয়ে বড় অর্জন

ঘরোয়া ফুটবলে পাতানো খেলা নতুন নয়। এ যেন ভাইরাস আকারে ধারণ করেছে। ১৯৭৪ সালে একটি দলের সুপার লিগ ঠেকাতে ওপেন পাতানো ম্যাচ খেলেছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান। যা তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় স্বীকারও করেছিলেন দলের বেশ কজন খেলোয়াড়। শিরোপা নিশ্চিত করতে যেমন ম্যাচ পাতানো হয়েছে তেমনি রেলিগেশন থেকে বাঁচতে বিভিন্ন ক্লাব এই পথে হেঁটেছে। পেশাদার লিগেও পাতানো নিয়ে কম বিতর্ক ওঠেনি। তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের জিজ্ঞাসাবাদসহ জরিমানা করা হয়েছে। তবু বন্ধ করা যায়নি পাতানো ম্যাচ। যদি কোনো দলের বিপক্ষে পাতানোর অভিযোগ উঠে তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি প্রমাণ মিলে সব শাস্তি মেনে নেব।’ যা কিনা হাস্যকর, কেননা মাঠে খেলার ধরনই বলে দেয় ম্যাচ পাতানো কিনা। আশি দশকে দেখা গেছে ম্যাচ পাতানো হচ্ছে বলে দর্শকরা ধিক্কার জানিয়ে গ্যালারি ছেড়েছে।

অনেকদিন পর এবার জমজমাট একটা পেশাদার লিগের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। যা ক্রীড়াঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। তবু কোনো ম্যাচ যে পাতানো হয়নি তা বলাটা হাস্যকর হবে। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় রেলিগেশন থেকে রক্ষা পেতে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে বেশ কটি পাতানো ম্যাচ হয়েছে। ওই যে প্রমাণ নেই বলে বলা যাবে না কারা খেলেছে। আর কোন কোন ক্লাবকে উদ্দেশ করে এই কথা বলা হচ্ছে তা এই প্রতিবেদন দেখলেই বুঝতে পারবেন।

এবার যে ম্যাচটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি পাতানোর গুঞ্জন ছিল। তা দ্বিতীয়পর্বে সিলেটে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচ। মোহামেডানের কাছে ঢাকা আবাহনী ৪-০ গোলে হারায় শিরোপা জিততে কিংসের প্রয়োজন ছিল বাকি চার ম্যাচে একটিতে জয়। অর্থাৎ শেখ রাসেলকে হারাতে পারলেই বসুন্ধরা কিংস তিন ম্যাচ আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। ম্যানেজমেন্টও একই ঘরনার দল বলেই অনেকে ধরেই নিয়েছিল শেখ রাসেলের বিপক্ষে পাতানো ম্যাচে জয়ী হয়ে বসুন্ধরা কিংস চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে?

আসলে এ ধারণাটা ভুলও ছিল না। কেননা এমন অবস্থায় থেকে অতীতে কেউ কেউ পাতানো ম্যাচে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস ও শেখ রাসেল সেই ধারণার পরিবর্তন আনে। সেদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে বসুন্ধরা হেরে যায় ১-০ গোলে। যা লিগে এটিই ছিল তাদের একমাত্র হার। অভিষেক আসরে শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছে কিংস। অপরাজিত থাকলে আরেকটি ইতিহাস হতো। ম্যানেজমেন্ট এক হয়েও বসুন্ধরা দেখিয়ে দিল পাতানো না খেলেও শিরোপা জেতা যায়। এ যে আরও বড় অর্জন। এ এক বিপ্লবই বলা যায়। ঘরোয়া ফুটবলে পাতানো যেখানে ভাইরাসের খেতাব পেয়ে যায় সেই নোংরা পথ থেকে বেরিয়ে বসুন্ধরা কিংস নতুন এক উদাহরণ তৈরি করল। শিরোপার চেয়ে বড় অর্জন এই অর্থে বলা হচ্ছে কেননা ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিলেন যতই শক্তিশালী দল হোক না কেন, পাতানো ছাড়া চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় না। এক মৌসুমে এত প্রাপ্তি শুধু বসুন্ধরা কিংসেরই।


আপনার মন্তব্য