শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৭

ভুল সিদ্ধান্তেই বেহাল দশা!

ভুল সিদ্ধান্তেই বেহাল দশা!
রোহিত শর্মাকে আউট করার পর এবাদতের অভিনব উদযাপন -এএফপি

চারশ বছরের পুরনো কলকাতা কাল ডুবেছিল ক্রিকেট আমেজে। দেড়শ বছরের পুরনো ইডেন কাল মেতেছিল ক্রিকেট উৎসবে। গোলাপি বলের দিবা-রাত্রির টেস্ট আয়োজন করে ক্রিকেট ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও অভিজাত করেছে ব্রিটিশ লেডি এমিলি ইডেনের নামাঙ্কিত ইডেন গার্ডেন। গোলাপি বলের টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাসের সোনালি পাতায় চিরস্থায়ী হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। অথচ ইতিহাস গড়া দিনে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছেন মুমিনুল, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহদের বাংলাদেশ। তিন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব ও ‘লোকাল বয়’ মোহাম্মদ সামীর বিষাক্ত ছোবলে নীল হয়ে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ১৭৪ মিনিট স্থায়ী ইনিংসটি খেলতে ইডেনের হার্ড ও বাউন্সি উইকেটে টাইগাররা বল খরচ করেছে মাত্র ৩০.৩ ওভার! টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৪৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নর্থ সাউন্ডে। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে ইডেনের বাউন্স ও গতিশীল উইকেট এবং গোলাপি বলে প্রথম খেলতে নামা মুমিনুল কী চিন্তা করে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে টাইগার কোচ ডোমিঙ্গো বলেছেন ভুল করেননি মুমিনুল।     

কলকাতার ‘মহারাজা’ গাঙ্গুলীর প্রিয় ভেন্যু ইডেনে মুমিনুলদের অভিষেকটা স্বপ্নের হতে পারত। বরং হেঁটেছে উল্টো পথে। ‘রহস্যময়’ গোলাপি বলের আচরণ কেমন হবে, তা না বুঝে মুমিনুল টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই আত্মাহুতি বলেন! গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টে কাল বাংলাদেশ খেলতে নামে দুটি পরিবর্তন নিয়ে। ইডেনের হার্ড ও বাউন্সি উইকেটের একাদশ সাজানো হয় ইন্দোর একাদশের দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজকে বাদ দিয়ে। তাদের পরিবর্তে আসেন নাইম হাসান ও আল আমিন। আশ্চর্য হলেও সত্যি, গতকাল আইসিসির ‘কনকুশান সাবস্টিটিউট’ নিয়মে মিরাজ ও তাইজুল খেলেন লিটন দাস ও নাইম হাসানের পরিবর্ত ক্রিকেটার হিসেবে। প্রথমবারের মতো ১২ ক্রিকেটার ব্যাটিং করেও ১০৬ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। ২০০০ সালের অভিষেক টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ইনিংসটির স্থায়িত্ব ছিল ৪৬.৩ ওভার।

ইডেনের উইকেটে অপরিচিত গোলাপি বলে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের স্তব্ধ করে দেন মুমিনুল। কিন্তু টাইগার কোচ ডোমিঙ্গো অবাক হননি অধিনায়কের সিদ্ধান্তে, ‘এমন উইকেটে যে কোনো দলই আগে ব্যাটিং করতে চাইবে। টস জিতে অধিনায়ক যে আগে ব্যাটিং নিয়েছেন, তাতে অবাক হইনি।’ দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য আত্মবিশ্বাসহীনতাকে দুষেছেন, ‘গোলাপি বলে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস কম ছিল। তবে ভারতের বোলিংটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’  আগে ব্যাট করে দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সাদমান ইসলাম ৬.৩ ওভার পর্যন্ত টিকেছিলেন। দলীয় ১৫ রানের মাথায় ইমরুল লাইন মিস করেন লেগ বিফোর হন ইশান্তের বলে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। অবশ্য দুই বল আগে আরও একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচেছিলেন তিনি। গতকাল ইমরুল আউট হন ৪ রানে। ইন্দোরের দুই ইনিংসে করেছিলেন ৬ ও ৬ রান। ইন্দোরে ব্যর্থ সাদমান গতকাল ২৯ রানের ইনিংস খেলে ঋৃদ্ধিমানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন। গোলাপি বলে ঈশান্ত-যাদবদের গতি, বাউন্স ও মুভমেন্টের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে প্রথম সেশনে ২১.৪ ওভারে ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারায়। দ্বিতীয় সেশনে আরও ৩৩ রান যোগ করে ৮.৫ ওভারে। অবশ্য দু-দুটি দুর্ঘটনা ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। সামীর বাউন্সারে হুক করার সময় মাথায় আঘাত পান লিটন। আইসিসির ‘কনকুশান সাবস্টিউিট’ নিয়মে লিটনের পরিবর্তে ব্যাট করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ইডেনে মিরাজ শুধু ব্যাটিং করবেন। লিটন ২৪ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন। মিরাজ করেন ৮ রান। ইনিংসের শেষ দিকে নাইম হাসানও ব্যথা অনুভব করেন। তার কনকুশান সাব হিসেবে খেলবেন তাইজুল। তাইজুল শুধু বোলিং করবেন। দুঃস্বপ্নের ব্যাটিংয়ে তিন ব্যাটসম্যান দুই অংকের রান করেন। সাদমান ২৯, লিটন ২৪ ও নাইম ১৯ রান করেন। ‘গোল্ডেন ডাক’ মুমিনুল, মিথুন, মুশফিক ও রাহীর।  

ভারতীয় পেসারদের সফল ইশান্ত ১২ ওভারের স্পেলের ২২ রানের খরচে ৫ উইকেট নেন। যাদব ৭ ওভারের স্পেলে ২৯ রানের খরচে ৩ উইকেট এবং সামী ১০.৩ ওভারে ৩৬ রানের খরচে নেন ২ উইকেট। বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা বল করেন এক ওভার।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস : ১০৬/১০, ৩০.৩ ওভার

(সাদামান ২৯, লিটন ২৪, নাঈম ১৯; ইশান্ত ৫/২২, জাদব ৩/২৯, শামি ২/৩৬)।

ভারতের প্রথম ইনিংস : ১৭৪/৩, ৪১ ওভার (কোহলি ৫৯*, পুজারা ৫৫; এবাদত ২/৬১, আল আমিন ১/৪৯)।


আপনার মন্তব্য