শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২৩:০৯

অসাধ্য সাধন করতে হবে

আসিফ ইকবাল

অসাধ্য সাধন করতে হবে

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ১৯১। সেটা আবার ১৪ বছর আগে, ২০০৭ সালে। কলম্বোয় ম্যাচ বাঁচাতে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৯১ রান করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম। দুজনে রেকর্ড গড়েছিলেন জুটিতে। কিন্তু ম্যাচ

বাঁচাতে পারেননি। আজ পাল্লেকেলেতে দুই তরুণ তুর্কি লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজকে এমনই একটি রেকর্ড জুটি গড়তে হবে এবং করতে হবে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং। তাহলেই স্বপ্ন পূরণ হবে। সর্বোচ্চ রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের রেকর্ডও গড়া হবে। অবিশ্বাস্য রেকর্ডটি গড়তে বাংলাদেশকে আজ পঞ্চম ও শেষদিন আরও ২৬০ রান করতে হবে। হাতে আছে ৫ উইকেট। পারবেন তো লিটনরা?

টার্গেট ৪৩৭ রান। ১৪৪ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এতো বড় স্কোর তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। চারশয়ের উপর স্কোর তাড়া করে টেস্ট জয়ের রেকর্ড সাকল্যে চারটি। তার উপর বাংলাদেশের রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের রেকর্ডই তিনটি এবং সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট জর্জেসে জিতেছিল টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ২০১৬ সালে নিজেদের ১০০তম টেস্টে ৪ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক টেস্টটি আবার জিতেছিল ১৯১ রানের টার্গেটে। জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া ১০০ রান টপকাতে টাইগাররা হারিয়েছিল ৭ উইকেট। এমন সব উদাহরণ যখন টাইগারদের, তখন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখা পাহাড় ডিঙানোর মতোই। তারপরও ক্রিকেট ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলেই স্বপ্ন দেখা যায়। সেই স্বপ্ন পূরণ করার পুরো দায়িত্ব লিটন ও মিরাজের উপর। তবে চতুর্থ ইনিংসে চারশ’র উপর রান করার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫২১ রান তাড়া করতে নেমে ২০০৮ সালে মিরপুরে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ।

লিটন, মিরাজ, তাইজুলদের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়তে সামলাতে হবে স্বাগতিক দুই স্পিনার প্রভীন জয়াবিক্রমা ও রমেশ মেন্ডিসের ঘূর্ণিকে। গতকাল চতুর্থ দুই স্পিনার যেভাবে বল ঘুরিয়েছেন উইকেটে, তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে টাইগার ব্যাটসম্যানদের। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান নাজমুল শান্তকে যেভাবে টার্নে বোল্ড করেন জয়াবিক্রমা, আজ শেষ দিন তাকে খেলাটা একটু কঠিনই হবে। ২৩ বছর বয়স্ক বাঁ হাতি স্পিনার জয়াবিক্রমার অভিষেক হয়েছে এই টেস্টেই। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টেই ৬ উইকেট নিয়ে জানান দিয়েছেন লম্বা রেসের ঘোড়া তিনি। তার বাঁ হাতের ঘূর্ণিতেই ২৫১ রানে গুটিয়ে যায় মুমিনুল বাহিনী। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৯৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল স্বাগতিকরা। ২৪২ রানে এগিয়েও ফলোঅন করায়নি মুমিনুলদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ১৯৪ রান তুলে টার্গেট দেয় ৪৩৭ রানের। বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল দুরন্ত বোলিং করেন। ৩৩ টেস্ট ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো তুলে নেন ৫ উইকেট। তার উইকেট সংখ্যা এখন ১৩৪টি।

৪৩৭ রানের টার্গেটে দুই ওপেনার তামিম ও সাইফ ৩১ রান যোগ করেন। তামিমের বিদায়ের পর সাইফ সাজঘরে ফিরেন দলীয় ৭৩ রানে। সিরিজে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন তিনি। সর্বোচ্চ ৪০ রান করে অভিজ্ঞ মুশফিক। অধিনায়ক ভালো খেলতে খেলতেই প্লেড অন হন ব্যক্তিগত ৩২ রানে। এখন ব্যাট করছেন লিটন ১৪ ও মিরাজ ৪ রানে।


তাইজুলের ৫ উইকেট

প্রথম ইনিংসে ছিলেন ব্যর্থ। দ্বিতীয় ইনিংসে সেটা পুষিয়ে নেন তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত বোলিং করে তুলে নেন শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট। ৩৩ টেস্ট ক্যারিয়ারে অষ্টমবার ৫ বা ততোর্র্ধ্ব উইকেট নিয়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার। তার বোলিং স্পেল ১৯.২-২-৭২-৫। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫৫ রানের খরচে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ক্যারিয়ারে তার উইকেট ১৩৪টি।