শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৩৭

একেই বলে ক্যাপ্টেনস নক

বাংলাদেশের তিনে তিন

মেজবাহ্-উল-হক

একেই বলে ক্যাপ্টেনস নক
ছবি : রোহেত রাজীব
Google News

আউট করেই মিচেল মার্শের দিকে ব্যাঘ্রের মতো ছুটে গেলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। গর্জন করলেন! যুব বিশ্বকাপ জয়ী পেসারের সেই গর্জন যেন কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দর্শকশূন্য মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে হয়ে গেল ‘স্পাইরাল অব সাইল্যান্স’!

তবে শরিফুলের আওয়াজটা প্রতিধ্বনিত হলো গোটা দেশে। এমনকি গোটা ক্রিকেটবিশ্বে।

কারণ, অস্ট্রেলিয়ার ভরসা মার্শকে আউট করার পরই তো লো-স্কোরিং ম্যাচে জয়ের রাস্তাটা তৈরি হয়ে যায়।

যদিও শরিফুলের করা সেই ১৮তম ওভারে দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আবারও ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। কারণ, যত বন্ধুর উইকেটই হোক না কেন টি-২০তে শেষ দুই ওভারে ২৩ রান কঠিন কিছু নয়। এরপর ১৯তম ওভারে মুস্তাফিজের ক্যারিশমা। মাত্র ১ রান দিলেন কাটার মাস্টার। মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৫ বলই কি না ডট দিলেন মুস্তাফিজ!

শেষ ওভারে মঞ্চস্থ হয় আরেক নাটক। দুই পেসারের বোলিং কোটা শেষ। সাকিব আল হাসান, নাসুম আহমেদেরও কোটা পূরণ। মাহমুদুল্লাহর হাতে অপসন এক-পার্টটাইমার মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার, দুই-স্পিনার মেহেদী হাসান!

ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ অভিজ্ঞ মেহেদীকেই বেছে নিলেন। টি-২০তে শেষ ওভারে স্পিনারের হাতে বল তুলে দেওয়া তো ‘জুয়া’! অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছয় বলে ২২, প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে যেন চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন। তবে পরের পাঁচ বলে মেহেদীর অভিজ্ঞতারই জয় হলো। বাংলাদেশ পেল ১০ রানের অসাধারণ এক জয়।

টানা তিন ম্যাচে তিন জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। টি-২০তে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম সিরিজ জয়। সেটাও কি না সিরিজের দুই ম্যাচ হাতে রেখেই।

আগের দুই ম্যাচের মতো গতকালও বাংলাদেশ দলে ছিল সম্মিলিত প্রয়াস। দুর্দান্ত টিম ওয়ার্ক। পুরো দলই অসাধারণ খেলেছে। তবে আলাদা করে বলতে হবে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর কথা। কেননা প্রথম ইনিংসে তার ৫২ রানের লড়াকু ইনিংসটাই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল ১২৭ রানের পুঁজি।

যদিও ওই ইনিংসে রানের চেয়ে বল বেশি খেলায় ক্যাপ্টেনের হাফ সেঞ্চুরি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রল হতে থাকে। মাহমুদুল্লাহ লম্বা সময় উইকেটে থাকার পরও কেন এত বল হজম করলেন?

ভক্তদের হাজারো অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায়! তবে কেন মাহমুদুল্লাহ এমন ধীরগতিতে হাফসেঞ্চুরি করেছেন সে উত্তরটা পেতে খুব বেশি দেরি করতে হয়নি। যে উইকেটে টি-২০র ভয়ংকর দল অস্ট্রেলিয়া পাওয়ার প্লেতে (প্রথম ৬ ওভারে) মাত্র ২০ রান করে সেখানে মাহমুদুল্লাহর ইনিংসটিকে নিঃসন্দেহে মহাকাব্যিকই বলা যায়।

তা ছাড়া গতকাল কী ভয়ংকর অবস্থার মধ্য দিয়েই না বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে। দলের ৩ রানের মাথায় পরপর দুই বলে দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও সৌম্য সরকার আউট। এরপর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মাহমুদুল্লাহর ৪৪ রানের জুটি।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ২৬ রান করে আউট হওয়ার পর আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের দুই নায়ক আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে রানআউট হয়ে যান। তরুণ তুর্কি শামীম আহমেদও ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। এমন দিনেও একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের ইনিংস টেনে ১২৭-এ নিয়ে গেলেন মাহমুদুল্লাহ।

তবে টাইগারদের ইনিংসটা আরও বড় হতে পারত, যদি না শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করতেন অস্ট্রেলিয়ার অভিষিক্ত বোলার নাথান এলিস। ইনিংসের শেষ তিন বলে মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজ ও মেহেদীকে আউট করে ইতিহাস লিখলেন বটে এলিস। কিন্তু দিন শেষে তার হ্যাটট্রিক কোনো আলোচনার বিষয়বস্তুই হতে পারল না।

কারণ, বাংলাদেশের বোলাররা দ্বিতীয় ইনিংসে যা দেখিয়েছেন, তাতে এলিসের হ্যাটট্রিকটি যেন হয়ে গেল কেবল মাত্র ইতিহাসের খেরোখাতায় পড়ে থাকা কয়েকটি সংখ্যা।

মুস্তাফিজ ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৯ রান। ৪ ওভারের কোটায় সাকিব ২২ এবং নাসুম দিয়েছেন ১৯ রান। কোনো উইকেট না পেলেও কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ হয়ে গেলেন ‘মোস্ট ভেলুয়েবল প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’।

অবশ্য বোলিংয়ে এমন কিপটেমি করলে উইকেটের দরকার কি! কারণ, জয়ের জন্য যে রান আটকাতে হবে সেই কাজটিই বেশ সূচারুভাবে করেছেন মুস্তাফিজ।

তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মাহমুদুল্লাহর সেই ৫৩ বলে ৫২ রানের ইনিংস নিয়ে। যে সমর্থকরা কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিনায়ককে নিয়ে ট্রল করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের পড়ি মরি অবস্থা দেখে সেই ভক্তরাই প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন মাহমুদুল্লাহকে।

আহ্, কী দারুণ এক ইনিংস। একেই বলে ‘ক্যাপ্টেনস নক’!