রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

ঘুরেফিরে ব্যাটিংয়ে একই চিত্র

ব্যাটিং বিপর্যয়ে টাইগারদের প্রথম হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঘুরেফিরে ব্যাটিংয়ে একই চিত্র

ছবি : রোহেত রাজীব

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও ব্যাটসম্যানরা বলার মতো ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি। টাইগাররা জয় পেয়েছে বোলারদের ক্যারিশমায়। গতকালও ব্যর্থ ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০৪ রানেই আটকে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ঘুরে ফিরে সেই একই চিত্র। ১০৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের প্রথম জয় এটি।

গতকাল দুর্দান্ত বোলিং করেন অস্ট্রেলিয়ার বদলি দুই বোলার মিচেল স্বেপসন ও অ্যান্ড্রু টাই। লেগ-স্পিনার স্বেপসন ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। পেসার টাইও ৩ উইকেট নিয়েছেন ১৮ রানে।

আগের ম্যাচে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন পেসার নাথান এলিস। কিন্তু দলে তার বোলিং তেমন কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। চার ওভারে তিনি দিয়েছিলেন ৩৪ রান। সে কারণেই দ্বিতীয় ম্যাচেই একাদশ থেকে বাদ পড়েন। তার জায়গায় টাই ফিরেই দারুণ বোলিং করলেন।

 

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও ব্যাটসম্যানরা বলার মতো ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি। টাইগাররা জয় পেয়েছে বোলারদের ক্যারিশমায়। গতকালও ব্যর্থ ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০৪ রানেই আটকে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ঘুরেফিরে সেই একই চিত্র।

 

স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা আগের ম্যাচে দারুণ বোলিং করলেও চমক আনার জন্য তাকে বসিয়ে মিচেল স্বেপসনকে নেওয়া হয়। সেই লেগ-স্পিনারই কাল বাজিমাত করে দেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ নাঈম ও নুরুল হাসান সোহানের উইকেট নিয়ে।

গতকাল বাংলাদেশকে বড় জুটিই গড়তে দেননি অসি বোলাররা। প্রথম দুই জুটিতে এসেছিল ২৪ রান করে। এরপরের জুটিগুলো আরও ছোট। এ কারণেই বাংলাদেশের স্কোর বড় হয়নি। সাত ব্যাটসম্যান তো ডাবল ফিগারেই পৌঁছাতে পারেননি।

শেষ পাঁচ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলতে নামা সৌম্য যেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নিজেকে খুঁজেই পাচ্ছেন না। চার ম্যাচেই ‘সুপার ফ্লপ’! প্রথম তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ৪ রান (২, ০, ২), গতকালও দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছাতে পারলেন না।

বাংলাদেশ সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ায় নির্ভার হয়ে খেলতে নেমেছিলেন। দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর যেন ‘যে লাউ সেই কদু’! ৮ রানেই আউট।

দলীয় ২৪ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের জুটিটা ভালোই জমে উঠেছিল। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ভুলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। জস হ্যাজলউডের বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটকিপারের কাছে। ২৬ বল থেকে ১৫ রান!

এরপর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও নুরুল হাসান সোহান রানের খাতাই খুলতে পারলেন না। বাংলাদেশের স্কোর ৪৮/১ থেকে হঠাৎ হয়ে যায় ৫১/৪। অসি লেগ-স্পিনার  স্বেপসন পরপর দুই বলে দুটি লেগ-বিফোর করেন।

টাইগার দলপতিকে শূন্য রানে বিদায় করে দেওয়ার পরের বলেই সোহানকে দারুণ এক গুগলিতে বিভ্রান্ত করেন। ফিল্ড আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন স্বেপসন।

তিন রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে পড়তে থাকে উইকেট। যদিও ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করছিলেন মোহাম্মদ নাঈম। কিন্তু স্বেপসনের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। ৩৬ বলে ২৮ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরেন নাঈম।

আফিফ হোসেন বাইশগজে গিয়ে বরাবরের মতোই চড়াও হয়েছিলেন। দারুণ একটি ছক্কাও হাঁকান অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে। কিন্তু সেই অ্যাগারকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়েই ক্যাচ হন। ১৭ বলে ২৩ রান করেন আফিফ।

জিম্বাবুয়েতে অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান শামীম হোসেন বেশ সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। যুব বিশ্বকাপ জয়ী এই ব্যাটসম্যান লোয়ার অর্ডারে বেশ ভরসাই দিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু তরুণ শামীম খুব সহজেই বুঝতে পারলেন জিম্বাবুয়ের বোলিং লাইনআপ ও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনআপের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

সৌম্য সরকারের মতো তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক ম্যাচেও নিজের স্কোরকে ডাবল ফিগারে নিয়ে যেতে পারলেন না। শামীমকে দলে নেওয়ার পেছনে বড় যুক্তি ছিল তার হার্ডহিটিং ব্যাটিং। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে ফ্লপ তিনি।

শেষ দিকে মেহেদী হাসান ১৬ বলে ২৩ রান করায় বাংলাদেশের স্কোর একশ পেরিয়ে যায়।