রক্ষণের ইস্পাতকঠিন দেয়াল আর আক্রমণভাগের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে রাজকীয় ভঙ্গিতে এগিয়ে চলেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। গত মঙ্গলবার রাতে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে ‘এল ত্রি’রা। এই জয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, পুরো আসরে এখন পর্যন্ত নিজেদের জালে একটি গোলও ঢুকতে দেয়নি মেক্সিকানরা।
টানা চার ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার এই অবিশ্বাস্য রক্ষণাত্মক রেকর্ডের ওপর ভর করেই দীর্ঘ ৪০ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ বা নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে এটাই মেক্সিকোর প্রথম জয়।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বেশ নাটকীয় ছিল। প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে খেলা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়াও স্বাগতিকদের ছন্দ নষ্ট করতে পারেনি। প্রথমার্ধেই ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে হুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে মেক্সিকোকে উল্লাসে ভাসান। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল জিমেনেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর বল দখলে এগিয়ে থেকে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর জমাট রক্ষণের সামনে তাদের সব আক্রমণ ভেস্তে যায়। উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপি।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মেক্সিকো সিটির রাস্তাগুলোতে নেমে এসেছে লাখো মানুষের ঢল, পুরো দেশ যেন মেতে উঠেছে এক রাজকীয় উৎসবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মেক্সিকান ভক্তদের এই বাঁধভাঙা উদযাপনের ভিডিও শেয়ার করে একে একটি ‘ঐতিহাসিক রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই জয়ের মাধ্যমে মেক্সিকানরা ঘুচিয়ে দিল টানা আটটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই হেরে বিদায় নেওয়ার এক দীর্ঘ ও লজ্জাজনক রেকর্ড। কোচ হাভিয়ের আগিররের অধীনে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রা ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে মেক্সিকো তাদের পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি