প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে সরকার কোনো বাধা দেবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে। বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ১২ হাজার কোটি টাকার সেবা খাতে দুর্নীতির হিসাব এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতির দায় শুধু রাজনৈতিক সরকারের নয়, রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই থাকে। সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি তারা করছেন না। তবে দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আগামী বছরের টিআইবির প্রতিবেদনে দুর্নীতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে, যা দূর করতে সরকার কাজ করছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। আমরা আশা করছি, আমাদের মিডিয়াগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।