ব্রাজিল জেতায় স্বস্তি নেমে এসেছে। শীর্ষ ৩২ থেকেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা হারলে বিশ্বকাপের উন্মাদনাটা অর্ধেক কমে যেত। বিশেষ করে আমাদের দেশের ফুটবলপ্রেমীরা যন্ত্রণায় ছটফট করত। এখন তাদের মুখে হাসি ঝিলিক দিচ্ছে। তবে এক দিনে দুই ফেবারিটের বিদায়টা বেদনাদায়ক। বিশ্ব ফুটবল এতে বিস্মিত। মিশন শেষ হয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও তিনবারের রানার্স আপ নেদারল্যান্ডসের। ১৯৭৪ সালে দুই দেশই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল। মরক্কো ও প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করায় অবশ্যই তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলে খুবই পরিচিত দুই দলের বিদায়টাও আবার মেনে নেওয়ার মতো নয়।
ইতালি তো এবার বিশ্বকাপেই নেই। উরুগুয়ের বিদায় ঘটেছে গ্রুপ পর্ব থেকে। যে ছয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল, সেখানে টপ ৩২-এ বিদায় নিল জার্মানি। এরপর কার পালা সেটাই দেখার বিষয়। জার্মানি হেরেছে প্যারাগুয়ের কাছে। মরক্কো বিদায় করেছে নেদারল্যান্ডসকে। দুটোর ফল আবার নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। মরক্কোর বিজয়কে অঘটন বলাটা ঠিক হবে না। গতবার আফ্রিকার এই দেশটি সেমিফাইনালও খেলেছে। এবারও তারা দুর্দান্ত খেলছে। বিশ্বকাপটা শুরুই করেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে। আমার বিশ্বাস, সামনে মরক্কোর বিপক্ষে যারাই খেলুক না কেন চাপে থাকবে।
যে প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা করেছিল ১-৪ গোলে শোচনীয় হারে। টাইব্রেকারে হলেও তারা চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারাবে তা চমক বললেও ভুল হবে না। তবে এটা ঠিক প্যারাগুয়েনরা জার্মানদের চ্যালেঞ্জ দিয়েই লড়েছিল। তাদের কথা আমরা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তিকে হারালে জার্মানিকে কেন পারব না। ঠিকই পেরেছে প্যারাগুয়ে। বাহবা পেতেই পারে তারা। জার্মানি এবার কী যে করল বুঝতে পারলাম না। দুর্বল কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে মিশনটা শুরু করে ছিল তারা। পরে কষ্ট হলেও আইভরিকোস্টকে হারিয়ে ছিল। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি আবার লিড নিয়েও ইকুয়েডরের কাছে হেরে যায়। এত বড় দলের কোনো ধারাবাহিকতা ছিল না।
টাইব্রেকারে হারলেও জার্মানির দুঃখ ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও তা ভিএআরে বাতিল হয়ে যায়। এবার ভিএআর নিয়েও কম বিতর্ক হচ্ছে না। রেফারিং তো আছেই। এ গোলটি বাতিল না হলে জার্মানি নিশ্চিত জিতত। কারণ তখন সময় ছিল খুবই কম। এখন টাইব্রেকারে ভাগ্য পুড়ল। ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপে নেই। জার্মান থেকেও করুন চেহারা। তাহলে কি সাবেক চ্যাম্পিয়নদের তেজ কমে আসছে। এখন কোচ বা অনেক কিছু নিয়েই সমালোচনা হবে। কিন্তু যা হারিয়েছে তা তো আর ফিরে পাবে না জার্মানি। আসা যাক, নেদারল্যান্ডস প্রসঙ্গে। বিশ্বকাপে সব চেয়ে অভাগা দেশের নাম নেদারল্যান্ডস। টানা দুবার ও সব মিলিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠে তাদের রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এবার ফাইনাল না হলেও তাদের বিদায়টা সত্যিই বেদানাদায়ক। খেলা যখন ৭২ মিনিটে তখন গোল করে এগিয়ে যায় তারা। শেষের দিকে এসেও লিডটা ধরে রাখতে পারল না। ১২০ মিনিট ১-১ ড্র। এরপর শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার হার। এ কষ্ট ডাচ সমর্থকরা সইবে কীভাবে?