গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রী এবং প্রেমে প্রতারিত হয়ে এক যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর এলাকার কামরুল ইসলাম খানের মেয়ে কণা আক্তার (১৯)। তিনি জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দুবুরিয়া এলাকার মাসুদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মেহেদীর স্ত্রী। অন্যজন, নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা দর্জিবাড়ি এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে সৈয়দ আফ্রিদি (২৩)।
কণা আক্তারের স্বজনেরা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে কণার সঙ্গে সৌদি প্রবাসী মেহেদীর বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর স্বামী প্রবাসে চলে যান। এর কিছুদিন পর থেকেই শাশুড়ির সঙ্গে কণার পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে কণা তার বাবার বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তিন-চার দিন আগে কণা তার নানাবাড়ি কাপাইস এলাকায় বেড়াতে যান।
মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী স্বামী মেহেদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে দুপুরে নানাবাড়িতে থাকা অবস্থায় একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
জানালা দিয়ে স্বজনেরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে নিহত সৈয়দ আফ্রিদির স্বজনেরা জানান, রাথুরা এলাকার আওলাদ হোসেনের মেয়ের সঙ্গে আফ্রিদির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি প্রেমিকা তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঘরের দরজা বন্ধ করে গামছা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে থাকে আফ্রিদি।
স্বজনরা দরজা ভেঙে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই তারা আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম