দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ এখনো আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান তিনি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জলাবদ্ধতাপ্রবণ ১০৮টি হটস্পট চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিষ্কার করছে। তিনি আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার সড়ক ও ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। এ ছাড়া ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণ এবং ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল, এই তিনটি আউটলেট দিয়ে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। প্রয়োজন মেটাতে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বড় আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট ও ৮ ফুট ব্যাসের বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের কাজ চলছে। ডিএসসিসি এলাকায় ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করে খাল পরিষ্কার, পুনঃখনন, বক্স কালভার্ট ও নর্দমা পরিষ্কারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের জন্য ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০১৯ অনুযায়ী, দেশের ১১ শতাংশ মানুষ এখনো আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিরাপদ পানি সরবরাহে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর খনন ও পুনঃখনন এবং সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার ১১ শতাংশ থেকে ৫ থেকে ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।