ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন সিলেটের পাঁচ প্রবাসী। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর গতকাল কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছে তাদের লাশ। সকাল ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাশগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কানাইঘাট উপজেলায় নিয়ে একসঙ্গে জানাজা শেষে লাশগুলো দাফন করা হয়।
নিহত প্রবাসীরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আবদুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ। গতকাল বিমানবন্দরে লাশগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। তবে ভোর থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। একে একে কফিনগুলো বের করে আনা হলে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে এসে মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর লাশগুলো হস্তান্তর করলে নেওয়া হয় কানাইঘাট উপজেলার কানাইঘাট আকুনি মাদ্রাসা মাঠে। বাদ জোহর সেখানে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিমানবন্দরে লাশ নিতে আসা জিবাল উদ্দিনের শিশুসন্তান পারভেজ আহমদ জানায়, তারা পাঁচ ভাই-বোন।
পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার বাবা। বাবার মৃত্যুতে তারা এখন বড় অসহায়। নিহত জুবায়ের আহমদের ভগ্নিপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, পরিবারটি আগেও অসহায় ছিল, এখন আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন, ঋণ আর শোধ করা হলো না। এদিকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিহতদের পরিবারগুলোকে আরও ৩ লাখ টাকা করে প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের পাঁচ প্রবাসীসহ ছয়জন নিহত হন।