মোহাম্মদপুর থানার একটি মাদক মামলায় ভাগনে মিঠুন আসামি। গতকাল মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ঠিক ছিল। ভাগনের সঙ্গে এদিন মামা আইয়ুব আলীও আদালতে আসেন।
ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নজরুল ইসলাম মিঠুনের পাঁচ বছরের সাজার রায় ঘোষণা করেন। ভাগনের সাজার রায় শুনেই আদালতে আইয়ুব আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পাশেই ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক এস এম রাশেদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে (হাসপাতালে) আনার আগেই তিনি মারা যান। ধারণা করছি, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তিনি মারা গেছেন।’ সংশ্লিষ্ট আদালতের ওমেদার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘রায়ের পর মিঠুনের সঙ্গে তার মামা কথা বলেন। এর মাঝেই বৃষ্টি শুরু হয়। উনি বাইরে বের হয়ে ভিজে যান। এরপর দেখি উনি কেমন যেন করছেন। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করি। আদালত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলেন।’ আইয়ুব আলীর প্রতিবেশীরা জানান, মামা-ভাগনে দুজনই আজিমপুরে সেলুনের দোকানে কাজ করতেন।
এদিন আদালত ১ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আসামি মিথুনসহ ৯ আসামিকে পাঁচ বছরের সাজার রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত অপর আট আসামি হলেন মো. মুরাদ, ছাবির, মো. রাজা, মো. মাসুম হোসেন, মো. বিল্লাল, রাজা, মো. ওয়াহিদুল সনু ও মো. জুম্মন মিয়া। তাদের মধ্যে শুধু মিঠুনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার জেনেভা ক্যাম্পে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন সংবাদে অভিযান চালায় র্যাব-২।
এ সময় ১ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ ৯ ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এর মধ্যে মিঠুনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৫০ পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় ওই দিনই র্যাব-২-এর ইন্সপেক্টর ইকরামুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুলাই ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই সাজেদুল হক। পরের বছরের ২৭ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।