আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এক টাকা দিয়ে আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এমনটি করা হলে বিচার বিভাগের প্রয়োজনই থাকবে না, দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
গতকাল সংসদ অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরির দাবি উত্থাপন করা হয়। পরে এ বরাদ্দ এক টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়ে বিচার বিভাগের নানা সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য আল ফারুক আবদুল লতিফ বলেন, নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ও তুলে ধরেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বরাদ্দের চেয়েও কম। তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলা জটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিভাগীয় শহরগুলোতে হাই কোর্টের বেঞ্চ স্থাপন কিংবা পেপারলেস জুডিশিয়ারি চালুর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
বিচার বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানায় সাধারণ মানুষের হয়রানি ও তদন্ত কার্যক্রমের দুর্বলতার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন।
সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোতে নিজেদের মধ্যেই সাংঘর্ষিক অবস্থান দেখা গেছে। কেউ বলছেন বরাদ্দ বেশি, তাই ১ টাকায় নামিয়ে আনা হোক। আবার কেউ বলছেন বরাদ্দ কম, তাই সেটিও এক টাকা করা হোক। এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। এক টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের প্রয়োজনই থাকবে না। দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো জনপ্রিয় বক্তব্য হলেও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১১৮ বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধু বরাদ্দ এক টাকায় নামানোর প্রস্তাব দিলেই হবে না, এর পরিবর্তে কীভাবে বিচার বিভাগ পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কোনো বিকল্প নীতিও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমান বাস্তবতায় বিচার বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম হতে পারে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে এটিই বাস্তবসম্মত বরাদ্দ। তাই ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ করে মূল বাজেট অনুমোদনের জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।