ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। গতকাল তাঁরা কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না। তেহরানের বর্তমান অগ্রাধিকার চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা নয়, বরং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পূর্বঘোষিত দোহাভিত্তিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ। এ ছাড়া উইটকফ ও কুশনার কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি আজ মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল পৃথকভাবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ে কোনো আলোচনার সূচি নেই। তেহরানের বর্তমান অগ্রাধিকার চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা নয়, বরং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ইরানের মূল লক্ষ্য এখন সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন এবং এর আওতায় নিজেদের দাবিগুলো কার্যকর করা। তেল বিক্রি-সংক্রান্ত ১০ নম্বর ধারার আওতায় প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জারি করেছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইরান অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার সঙ্গে সম্পর্কিত ১১ নম্বর ধারার বাস্তবায়নও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নিতে ইরানের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দোহা সফর করবে।
বাঘাইয়ের ভাষ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করেনি। সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। বর্তমানে এসব ধারা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধিদল গেলে তার সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই। ইরানের সফরের উদ্দেশ্য কেবল সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, বিশেষ করে ১১ নম্বর ধারার কার্যক্রম তদারকি করা।