যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫০ বছরের পুরোনো সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকল।
আদালত জানিয়েছেন, এ সাংবিধানিক অধিকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তনযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হলে তাদের সন্তানকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন। গত বছর দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পরই অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য একগুচ্ছ নীতির অংশ হিসেবে এ নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। তবে শুরু থেকেই এ আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকটি রাজ্য এ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাদের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনের আওতায় সুরক্ষিত অধিকার, যা কেবল প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ দিয়ে পরিবর্তন করা যায় না।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালত। এবার সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন। রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস লিখেছেন, ‘তখনো যেমন, এখনো তেমন নাগরিকত্ব মানে অধিকার ভোগ করার অধিকার; আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধন গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত হয়েছিল, যাতে দাসসহ প্রত্যেকের জন্যই এ অধিকার নিশ্চিত করা যায়।’ -রয়টার্স