পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার এক অস্বস্তিকর পরীক্ষা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে নরওয়ের, যাদের বিপক্ষে ইতিহাসে এখনো একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্ম; সবকিছুই ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা। আগামী ৫ জুলাই দিবাগত বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শেষ আটে ওঠার অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই পরাশক্তি।
কাগজে-কলমে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও অতীতের পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প। এখন পর্যন্ত ফুটবলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে চারবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল, যার মধ্যে দুটি ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ, ইউরোপের এই দলটির বিপক্ষে এখনো জয়হীন রয়ে গেছে সাম্বার দেশ ব্রাজিল। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৮৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ফুটবলবিশ্বকে চমকে দেয় নরওয়ে।
তবে দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর লড়াইটি হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। কিয়েতিল রেকদালের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে রূপকথা লিখেছিল নরওয়ে। এরপর ২০০৬ সালে দুই দলের সর্বশেষ দেখাও ১-১ গোলে ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়। দীর্ঘ দুই দশক পর এবার বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে আবারও সেই পুরোনো হিসাব-নিকাশ মেলাবার পালা।
চলতি বিশ্বকাপে দুই দলই দারুণ ছন্দে থেকে নকআউটের টিকিট কেটেছে। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, একই ব্যবধানে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে নরওয়ে। এবারের নরওয়েজিয়ান শিবিরের সবচেয়ে বড় শক্তির নাম আর্লিং হালান্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ষাটে উন্নীত করেছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। তার সঙ্গে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভাঙতে প্রস্তুত আছেন তরুণ উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা।
বিপরীতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগও কম শক্তিশালী নয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রদ্রিগো, ম্যাথেউস কুনিয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেইমারকে নিয়ে সাজানো হয়েছে সেলেসাওদের আক্রমণভাগ। জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়টি কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে হালান্ড-নুসাদের রুখে দিয়ে ব্রাজিল কি পারবে দীর্ঘদিনের জয়খরা ঘুচিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে, নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে তাদের অপরাজেয় রেকর্ড।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ