রেকর্ড ভাঙা যেন তার কাছে ছেলেখেলা। হাসতে হাসতেই যেন সবকিছু পায়ে দলে যান তিনি। তালগাছের মতো সবকিছু ছাড়িয়ে উঁকি মেরে আকাশে দাঁড়িয়ে থাকেন একা।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ একের পর এক রেকর্ড নিজের নামে করে নিচ্ছেন ফ্রান্সের ১০ নম্বর জার্সিধারী কিলিয়ান এমবাপ্পে। মঙ্গলবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য কীর্তি গড়লেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ৩-০ ব্যবধানে সুইডেনকে হারিয়ে ফ্রান্স যখন টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডে পা রাখল, তখন এমবাপে পৌঁছে গেলেন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে।
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ২৮ বছর বয়সী এই তারকার নকআউট পর্বেই এখন মোট গোল সংখ্যা ১০টি। এই জোড়া গোলের সুবাদে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন। একই সাথে চলতি বিশ্বকাপে এটি তার ষষ্ঠ গোল, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির পাশাপাশি বসিয়েছে।
বিশ্বকাপের নকআউটে ১০ গোল করার মাধ্যমে এমবাপে পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালডো নাজারিও এবং লিওনিদাসকে, যাদের নকআউট গোল ছিল ৮টি করে। এই তালিকায় জুস্ত ফন্তেইন ও পেলের গোল সংখ্যা ৭টি। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৯ গোলদাতা লিওনেল মেসি নকআউট পর্বে গোল করতে পেরেছেন মাত্র ৫টি। অন্যদিকে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপে কোনো নকআউট গোলই নেই। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে প্লে-মেকার মাইকেল অলিসের চমৎকার তিনটি অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে এমবাপে তার স্বভাবসুলভ গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জোড়া গোল আদায় করেন। ম্যাচ শেষে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন যে তারা চোখের সামনে ফুটবল ইতিহাস তৈরি হতে দেখছেন।
১৯৯৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর পর নকআউট পর্বে এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় জয়। আগামী ৪ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে বর্তমান রানার্সআপরা।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ