বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বোসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সান্তা ক্লারায় ঘরের মাঠে, কোটি কোটি দর্শকের সামনে এই ম্যাচটি মার্কিন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটি ঘিরে রয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর প্রবল চাপ। তবে এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের মুখে দাঁড়িয়েও অদ্ভুত এক শান্ত ও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে পুরো মার্কিন শিবির।
দলের প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি হোর্হে ভালদানোর একটি বিখ্যাত উক্তি মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, রিলাক্স মুডই মূলত গভীর মনোযোগের মূল চাবিকাঠি। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফুটবলাররা যেন কোনো বাড়তি চাপ মাথায় না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক সহজাত খেলাটা খেলতে পারে, সেই প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে। পচেত্তিনোর এই দর্শনের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক টিম রিমও। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে তারা কোনো বাড়তি মানসিক চাপ অনুভব করছেন না এবং গ্রুপ পর্বের মতোই আরেকটি স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই এটিকে দেখছেন। যদিও অনেকেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে এই ম্যাচের ফেবারিট ভাবছেন, তবে পচেত্তিনো এই তকমা গায়ে মাখতে নারাজ। তার মতে, ম্যাচ মাঠের লড়াইয়ে গড়ানোর আগে এই শব্দটির কোনো মূল্য নেই।
মার্কিন আক্রমণের অন্যতম সেরা অস্ত্র ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের চোট কাটিয়ে ফেরা দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কাফের ইনজুরির কারণে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ মিস করার পর তুরস্কের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাঠে ফিরেছিলেন এসি মিলানের এই তারকা। পুলিসিক নিজে জানিয়েছেন, তিনি এখন পুরোপুরি ফিট এবং দলের প্রয়োজনে ৯০ বা ১২০ মিনিট খেলতেও প্রস্তুত। বোসনিয়ার রক্ষণাত্মক কৌশলের বিপক্ষে মাঠের দুই প্রান্ত ধরে পুলিসিক ও সার্জিনো দেস্তের আক্রমণাত্মক উইং প্লে এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্ষণভাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাও বেশ সুদৃঢ়। গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস ও ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডস জানিয়েছেন, গোল হজম না করাটা কেবল রক্ষণভাগের একার কাজ নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত দায়িত্ব। তবে মার্কিন ডিফেন্ডারদের জন্য এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী বসনিয়ান কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এডিন জেকো।
ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে চার শতাধিক গোলের মালিক এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এর পাশাপাশি বোসনিয়া দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রেরই সাবেক যুব ফুটবলার এসবির বাজরাকতারেভিচ, যিনি বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে মার্কিন তারকা দেস্ত ও পেপির সতীর্থ। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব, যেখানে মাঠের রণকৌশলের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষাতেও উতরে যেতে চায় পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
সূত্র: গোল
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ