বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর যুগ্মসচিব পদোন্নতির মাধ্যমে প্রশাসনে বড় পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের ৪ মাসে প্রশাসনের বিভিন্ন রদবদল ও দু-এক জনের পদোন্নতি হলেও ব্যাচভিত্তিক বড় পদোন্নতি এবারই প্রথম আসতে যাচ্ছে। উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উপসচিব হিসেবে নিয়মিত ব্যাচ ২৫ এবং ২৪-এর বাদ পড়া মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন শ কর্মকর্তার তথ্য পর্যালোচনা হচ্ছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি)। এবার উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে নিয়মিত হিসেবে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আনা হচ্ছে। এ ব্যাচ থেকে ১৭০ কর্মকর্তা পদোন্নতিযোগ্য হিসেবে তথ্য পর্যালোচনা করছে এসএসবি। এ ছাড়া বিগত সময়ে বাদ পড়া কর্মকর্তা মিলে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা সাড়ে তিন শ। পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের কর্মজীবনে অনুবেদন, প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরি জীবনের শৃঙ্খলা, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, গোয়েন্দা তথ্যসহ সামগ্রিক বিষয় এসএসবির সভায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এসএসবি সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে একাধিক সভা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব। দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানান, ২৫ ব্যাচের নয় কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁদের মধ্যে এক ডিসি নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘পদোন্নতিতে কেউ যাতে দলীয় রঙে বাদ না পড়েন সেটা আমরা চাই, কাজের মূল্যায়ন হোক।’ ২৫ ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘কারও নামে মামলা বা দুর্নীতি থাকলে সেটার জন্য রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারে। তবে পদোন্নতির জন্য গোয়েন্দা রিপোর্ট সংগহের পদ্ধতি থেকে বের হওয়া উচিত। এটি দিনদিন আমাদের স্বকীয়তা নষ্ট করে দিচ্ছে।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘যোগ্য, দক্ষ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক আমরাও চাই। আমাদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময়ই দক্ষতা ও মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। পদোন্নতি নিয়ে এসএসবিতে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’ তবে ২৪ ও ২৫ ব্যাচের পদোন্নতি একসঙ্গেই হবে বলেও জানান তিনি।
গত বছরের মার্চে যুগ্মসচিব পদে ১৯৬ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সময় নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিসিএস ২৪-এর পদোন্নতিযোগ্য ৩২০ জনের মধ্যে পদোন্নতি পান মাত্র ১৩৭ জন। বাকিরা বঞ্চিত হন। কর্মকর্তাদের কোন কারণে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হচ্ছে, জনপ্রশাসন সে বিষয়ে কখনো জানায় না। যদিও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলে আসছেন, পদোন্নতিবঞ্চিত করলে যৌক্তিক কারণ জানানো উচিত। গত বছরের মতো অন্য কোনো সময় এত কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করা হয়নি। ২৪ ব্যাচের যুগ্মসচিব না হওয়া বঞ্চিত কর্মকর্তারা কয়েকবার ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে দেখা করলে তাঁদের রিভিউ হবে-এমন আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপণ করেছেন সিনিয়র কর্মকর্তারা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এসএসবির একাধিক বৈঠক হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা। পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন ব্যাচের চেয়ে বিগত সময়ে বঞ্চিতদের সংখ্যা বেশি। সব মিলে আড়াই শর মতো কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনে বড় পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে সরকার।
নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগ দেন ২০০৬ সালের ২১ আগস্ট। সে সময় ১৯৯ জন কমকর্তা প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। এই কর্মকর্তারা উপসচিব হন ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর। ২০২৩ সালে যুগ্মসচিব পদোন্নতি কথা থাকলেও অপেক্ষায় কেটেছে আরও তিন বছর।
পদোন্নতি বিধিমালামতে উপসচিব পদে অন্যূন পাঁচ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা উপসচিব পদে অন্যূন তিন বছর চাকরিসহ ক্যাডার পদে ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছেন, বর্তমান প্রশাসনে যুগ্মসচিবের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫০২টি। তবে সরকারি কর্মচারী বাতায়ন তথ্যে জানা গেছে, কর্মরত রয়েছেন ৮৯০ জন।