ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এদিকে, চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের নেতাদের মধ্যে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
জেডি ভ্যান্স সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন চায় এই আলোচনা সফল হোক। তবে চুক্তি না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং সামরিক শক্তি এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ভ্যান্স আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের মতোই তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। ইরানের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা চললেও ইরান অবশ্য শান্তি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, ১৭ জুনের সমঝোতা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের ভেতরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাটানকা জানান, ইরানের নেতারা প্রশ্ন তুলছেন—কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও বাস্তবে কাজ কোথায়? কেন এখনও ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়া হলো না? ইসরায়েলই বা কেন এখনও লেবাননে অবস্থান করছে?
ইরানের একটি পক্ষ মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ফাঁদে ফেলতে পারে। তারা হয়তো ইরানকে কোনো সুযোগ-সুবিধাই দেবে না। এই অভ্যন্তরীণ চাপের কারণেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দোহা সফরে গিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী চুক্তির পথে এগোতে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফ্রান্সের প্যারিসে ১৪ দফার এই সমঝোতায় ট্রাম্প সরাসরি ও পেজেশকিয়ান তেহরান থেকে ইলেকট্রনিকভাবে সই করেন। এর মাধ্যমে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রাথমিক ধাপ পার করেছে দেশ দুটি। বিশ্বনেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে