শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামের একটি একটি দরিদ্র রাষ্ট্রের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে থাকা দরিদ্র বাংলাদেশ ১৯৭৫-এ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশে তালিকায় স্থান পায়। এরপর নানা সরকার এসেছে কিন্তু সেই তালিকা থেকে আর উত্তরণ ঘটেনি বাংলাদেশের। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ আর স্বল্পোন্নত কোনো দেশ নেই বলে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব। ২০১৮ সালে বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকার উপরে স্থান দেয়। জাতিসংঘের এই মর্যাদা ঘোষণার ফলে উন্নয়নশীল দেশের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু বাংলাদেশের। জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত- এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) প্রতি তিন বছর অন্তর এলডিসি দেশগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করে। ২০১৮ সালের পর ২০২১ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার পর্যালোচনায় যোগ্য হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করবে ওই কমিটি। এর তিন বছর পর ২০২৪ সালে পুরোপুরি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাবে বাংলাদেশ। বিভিন্ন সময়ে বিশে^র বিভিন্ন দেশ এই মর্যাদা অর্জন করলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনন্য। কারণ বাংলাদেশের মতো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ ৩টি সূচকেই উত্তরণ করে এগিয়ে আসতে পারেনি আর কোনো দেশ। বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন যেভাবে আছে, তার কোনো বড় ধরনের ব্যত্যয় না ঘটলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সবচেয়ে বড় বিষয় মর্যাদার। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তার একটা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এটি। আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মর্যাদার জন্য জনগনকেই দিয়েছেন সকল কৃতিত্ব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বাংলার মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পর্যায়ের অর্জন ধারাবাহিকভাবে এসেছে; বিশেষ করে বিগত ৮-১০ বছরে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর অন্যদিকে জনগণের পরিশ্রমের কারণে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। জাতীয় উৎপাদের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬ শতাংশের ওপরে ছিল এবং ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে ৭ শতাংশের ওপরে ছিল। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জনগণের গড় সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সফল দেশ। শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য উন্নয়নশীল অনেক দেশ থেকে এগিয়ে গেছে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি বিগত কয়েক বছরে অনেক চাঙ্গা হয়েছে। রপ্তানি আয় অব্যাহতভাবে বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল হয়েছে সুউচ্চ। জীবনমান উন্নত করতে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশও হয়েছে ব্যাপক।


আপনার মন্তব্য