শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৯
প্রিন্ট করুন printer

সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার ৭টি উপায়

অনলাইন ডেস্ক

সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার ৭টি উপায়
প্রতীকী ছবি

মৌলিক কিছু জিনিসে পরিবর্তন এনে একটু সচেতন হলেই শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা বা তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নজরদারি করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে-

১. প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন
শিশুদের যদি কোন ডিভাইস দেয়া হয় তাহলে সেটিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাটাই নিরাপদ বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, গুগলে একটা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম আছে। যা ব্যবহার করে শিশু কী দেখছে তার উপর নজরদারি করা সম্ভব।

তিনি যে পরামর্শটি দিয়েছেন তা হচ্ছে, শিশুদের যে ডিভাইসটি দেয়া হলো সেটি চালু করতে হলে একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস দরকার হয়। আর এটি যদি জি-মেইল হয় তাহলে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এটিকে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাকাউন্ট হিসেবে খোলা যায়।

শিশুদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি খোলার সময় তার জন্ম তারিখটি সংযুক্ত করার পর সেটি যদি ১৩ বছরের নিচে হয় তাহলে, গুগল আপনা-আপনিই বলবে যে, ওই অ্যাকাউন্টটি প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অধীনে হবে। আপনি করতে চান কিনা।

সেক্ষেত্রে জানতে চাওয়া হবে যে, ওই অ্যাকাউন্টটি অন্য কার অ্যাকাউন্টটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থাৎ সেখানে যেকোন একজন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট চাইবে। এখানে বাবা কিংবা মায়ের একটা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দেয়ার সুযোগ থাকে।

এরপর থেকে এই জি-মেইল অ্যাকাউন্ট পুরো ডিভাইসের অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা হবে তখন সে এটি দিয়ে কী কী খুঁজলো, কী কী অ্যাপ ইন্সটল করলো, ইউটিউব-ফেসবুকে কী দেখলো-সব কিছু তখন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে দেখা যাবে। এমনকি ওই ডিভাইসটি নিয়ে শিশু কোথায় গেলো সেই স্থানটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, "এখন ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের একটা সার্ভিস আছে যে, প্যারেন্টসদের সাথে অ্যাকাউন্ট ট্যাগ করে দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে শিশু কাকে ইমেইল পাঠাচ্ছে, কার সাথে কথা বলছে সেটা দেখা যাবে।"

২. কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ ইন্সটল করুন
তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, প্যারেন্টাল সেফ ব্রাউজার একটি অ্যাপ আছে। এটা যদি শিশুর ডিভাইসে ইন্সটল করা হলে এটি ব্যবহার করে কোন ধরণের অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট দেখতে পারবে না শিশু।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু অ্যাপ ইন্সটল করা উচিত।

ইউটিউব কিডস নামে একটি অ্যাপ আছে যেটি শিশুদের কথা মাথায় রেখেই কন্টেন্ট তৈরি করে। তবে এটি এখনো বাংলাদেশে নেই বলে জানান মি. সেলিম। এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অনেক সময় দেখা যায় যে, বাবা বা মায়ের ডিভাইস-ই শিশু ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষেত্রে সেফ ব্রাউজার-প্যারেন্টাল কন্ট্রোল নামে একটা অ্যাপস আছে। সেটি মোবাইল, ল্যাপটপ বা পিসিতে ইন্সটল করে যখন বাচ্চারা ব্যবহার করবে তখন সেটি চালু করে রাখা সম্ভব বলে জানান তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, এই অ্যাপটি এনাবল-ডিসাবল করার অপশন আছে। এটি প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা যায়।

তিনি বলেন, "সিকিউরিটি বিষয়ক আরো অ্যাপস আছে যেগুলো ইন্সটল করে রাখলে অন্যান্য অ্যাপসেও যাতে অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট না আসে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।"

সেলিম বলেন, পিসি বা ল্যাপটপের ব্রাউজারে আলাদা ছোট প্লাগ-ইনস এর মতো "ব্রাউজার এক্সটেনশন" ইন্সটল করে রাখলে সেটিও অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আসা বন্ধ করে দেয়। এমনকি সার্চ করলেও পাওয়া আসবে না। এসব "ব্রাউজার এক্সটেনশন" ফ্রিতে পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

৩. চাইল্ড ভার্সন অপশনটি ব্যবহার করুন
ফেসবুক এবং মেসেঞ্জার এর ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের চাইল্ড ভার্সন আছে। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেয়া যায় যেটি তারা ব্যবহার করলেও অভিভাবকদের সুপারভাইজ করার সুযোগ থাকে। সেখানে কেউ আপনার বাচ্চাকে অনুরোধ বা রিকোয়েস্ট পাঠালে আপনার কাছেও সেটি আসবে। আপনি অনুমতি দিলে তারা চ্যাট করতে পারবে।

৪. ইন্টারনেট সংযোগ নেয়ার সময় সচেতন হোন
বাংলাদেশে বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছেন যারা ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকেন। তবে যে কোম্পানির কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগটি নেয়া হচ্ছে তাদের বাচ্চাদের জন্য সেফ ইন্টারনেট-এর ফিচারটি আছে কিনা সেটি যাচাই করে নেয়াটা ভাল।

এই ফিচারটি থাকলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকেই কিছু সাইট বা কন্টেন্ট ব্লক করে দেয়ার ব্যবস্থা থাকে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ওয়াইফাই সংযোগের জন্য আমরা যে অ্যাকসেস পয়েন্ট বা ডিভাইস যেমন রাউটার ব্যবহার করি সেগুলোর বেশিরভাগগুলোতেই কিছু সুবিধা থাকে। যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা যায়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একবার ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এগুলোর মাধ্যমে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো আর ঘেঁটে দেখা হয় না।

আহমেদ বলেন, এগুলোর ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড নিজে নিয়ে নিতে হবে যাতে এর উপর কন্ট্রোল থাকে। এর মাধ্যমে ল্যাপটপ থেকে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের ফিচারগুলো এনাবল বা চালু করে দিতে হবে।

৫. ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় বেঁধে দিন
শিশুরা কতক্ষণ অনলাইন বা ইন্টারনেটে থাকবে তার একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হলে ইন্টারনেট সংযোগ বাসায় কখন কখন থাকবে আর কখন থাকবে না সেটির একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

এক্ষেত্রে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা যারা ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকেন তাদের পোর্টালে ঢুকে একটা আবেদনের মাধ্যমে সংযোগের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেয়া যায়।

আবার এটি ব্যক্তি পর্যায়েও করা যায় বলে জানান আহমেদ। তিনি বলেন, ভাল মানের যেসব ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আছে তাদের কাছে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের একটা ফিচার আছে। যেখানে নির্ধারণ করা যায় যে, কোন কোন ডিভাইসে কখন ইন্টারনেট থাকবে, কোন কোন কন্টেন্ট থাকবে, কোন কোন অ্যাপস থাকবে কোনটা থাকবে না।

এছাড়া ইউটিউব, ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এবং বয়স নির্ধারণের ব্যবস্থা আছে। এটি চালু থাকলে কোনভাবেই কিছু কন্টেন্ট শিশুদের কাছে আসবে না।

ল্যাপটপসহ যেকোন ডিভাইস এবং ব্রাউজারেও এসব ফিচার রয়েছে। এগুলো অন বা চালু করে দেয়া উচিত।

৬. শিশুর সাথে আপনিও অংশ নিন
ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় আপনিও শিশুর সাথে বসুন। শিক্ষামূলক বিভিন্ন চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট রয়েছে। তাদেরকে সেগুলো দেখতে উৎসাহিত করুন। নতুন কিছু শিখতে বা তৈরি করতে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলুন।

এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ইউটিউব কিংবা অন্য সাইটগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী যে বিষয়গুলো দেখে সেই একই ধরণের বিষয় বা কন্টেন্টগুলোই পরামর্শ বা সাজেশান্স হিসেবে আসতে থাকে।

আর এজন্যই শিশুদের আগ্রহ অনুযায়ী ভাল ও শিক্ষামূলক কন্টেন্ট দেখতে উৎসাহিত করলে তাদের কাছে সেসব কন্টেন্টই আসবে।

৭. আপনি কী দেখছেন সে বিষয়েও সতর্ক হোন
বাংলাদেশে সাধারণত কোন একটি বাড়িতে একটি ওয়াইফাই সংযোগ নেয়া হয় এবং বাড়ির প্রতিটি সদস্য সেই একই ওয়াইফাই শেয়ার করে ব্যবহার করে। প্রতিটি ওয়াইফাই ডিভাইসের একটা নির্দিষ্ট আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল নম্বর বা অ্যাড্রেস থাকে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, ওই বাড়ির বাবা-মা বা প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যরা যদি ওই ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহার করে উল্টা-পাল্টা কিছু সার্চ করে বা দেখে, তাহলে সেগুলো ওই আইপি অ্যাড্রেসেই জমা হয়।

তিনি বলেন, ওই ইন্টারনেট ব্যবহার করে যদি বাড়ির শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরাও কিছু ব্রাউজ করে তাহলে ওই জিনিস বা কন্টেন্টগুলো তাদেরও সামনে চলে আসে।

আর তাই শিশুদের এ ধরণের কন্টেন্ট থেকে দূরে রাখতে ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদেরও সতর্ক হতে হবে বলে মত দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

তবে এক্ষেত্রে শিশুদের ডিভাইসে যদি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল জি-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয় তাহলে সেটি অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট শিশুদের থেকে ফিল্টার করে দূরে রাখে বলে জানান।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৪
প্রিন্ট করুন printer

করোনার টিকাদান কেন্দ্র দেখাবে গুগল ম্যাপস

অনলাইন ডেস্ক

করোনার টিকাদান কেন্দ্র দেখাবে গুগল ম্যাপস
ফাইল ছবি

শিগগিরই গুগল ম্যাপসে করোনার টিকাদান কেন্দ্রের অবস্থান দেখানো শুরু হবে। সঙ্গে থাকবে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক তথ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সুবিধাটি ছাড়া হবে। এরপর ক্রমে তা অন্যান্য দেশেও পাওয়া যাবে।

সোমবার গুগল জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুর তুলনায় এ কয়েক দিনে ‘নিকটস্থ টিকা’ খোঁজার হার বেড়েছে পাঁচ গুণ। মানুষের সে চাহিদার ভিত্তিতে গুগল ম্যাপসে ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী টিকাকেন্দ্রের তথ্য দেখানো শুরু করা হচ্ছে।

নতুন সুবিধায় ম্যাপে পাবেন নিকটস্থ টিকাকেন্দ্র। আরও পাবেন প্রাসঙ্গিক তথ্য, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে কি না, টিকা সবাইকে দেওয়া হবে কি না, ‘ড্রাইভ-থ্রু’, অর্থাৎ গাড়ি চালিয়ে গিয়ে টিকা নেয়া যাবে কি না-এসব তথ্যও থাকবে।

গুগল বলেছে, তারা নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য স্থানীয় সরকার এবং ওষুধ বিক্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

অবশ্য গুগল প্রথম নয়। এর আগে স্টারবাকস, আমাজন ও ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠানও টিকা সরবরাহে নানাভাবে যুক্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:০৪
প্রিন্ট করুন printer

মহামারীতে রাকুতেন ভাইবারের ব্যবহার বেড়েছে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মহামারীতে রাকুতেন ভাইবারের ব্যবহার বেড়েছে

গত বছর এশিয়া প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলে বিনামূল্যে এবং সহজে যোগাযোগের জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অ্যাপ রাকুতেন ভাইবারের ব্যবহার সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে গত বছর মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন এসেছে। 

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ৪২১ শতাংশ ব্যবহারকারী বৃদ্ধির মাধ্যমে বছর শেষ করে অ্যাপ্লিকেশনটি। একই সময়ে ভাইবার থেকে পাঠানো বার্তার হার ৫০৯ শতাংশ বেড়েছে এবং গ্রুপে পাঠানো বার্তার হারও বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া কমিউনিটি মেসেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে ভাইবারের কমিউনিটি ফিচারের দুর্দান্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২০ এর এই প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির বিষয়টি ২০১৯ সালের একই সময়ে সময় রেকর্ডকৃত তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। 
 
গত বছরের জানুয়ারি এবং ডিসেম্বরের তথ্যের তুলনা করলে বাংলাদেশের মতো এপিএসি অঞ্চলের নির্দিষ্ট বাজারে অ্যাপটির ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্যণীয় হয়েছে। যা বিগত দশ বছরের মধ্যে গত বছরটিই ভাইবারের অন্যতম সাফল্যময় বছরে পরিণত করেছে।  

২০১৯ এর তুলনায় বাংলাদেশে সক্রিয়ভাবে ভাইবার ব্যবহারের পরিমাণ ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাইবারে লগ ইন করা সংখ্যার উপর ভিত্তি করে দেখা গেছে, বাংলাদেশিরা ভাইবার কমিউনিটিতে বেশি সময় ব্যয় করেছে। ব্যবহারকারীদের কমিউনিটিতে অংশগ্রহণের হার ১৪৯ শতাংশ বেড়েছে এবং কমিউনিটিতে বার্তা প্রেরণের হার ১১৬ শতাংশ বেড়েছে। তারা আরও অধিক পরিমাণে টেক্সটিং, অডিও কল, ভিডিও কল করেছে এবং চ্যাট এক্সটেনশান ব্যবহার করেছে। ভাইবারে ভিডিও কল ৪০ শতাংশ এবং চ্যাট এক্সটেনশান ব্যবহার ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ব্যবহারকারীদের উন্নতমানের সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং তাদের অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও সুখকর করার লক্ষ্যে ভাইবার ২০২০ সালে মাই নোটস-এর মতো নতুন ফিচার চালু করে। এটি ব্যবহারকারীদের করণীয় কাজের তালিকা এবং তাদের সকল ডিভাইসের মিডিয়াকে সুসংগত করতে সহায়তা করে। 

বার্থডে রিমাইন্ডার ব্যবহারকারীদের তাদের কন্টাক্ট লিস্টের মানুষদের বিশেষ দিন উদযাপনের তারিখ মনে করিয়ে দেয়। ডিসঅ্যাপেয়ারিং মেসেজ ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল বার্তার সময়কাল সীমাবদ্ধ করার সক্ষমতা প্রদান করে, আর অন্যদিকে জিআইএফ ক্রিয়েটর প্রত্যেক ব্যবহারকারীর সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। 

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে মানুষ অনলাইনে যোগাযোগের পরিমাণ বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ভাইবার গত বছর গ্রুপ কল ও অডিও কলে একসাথে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২০ জন করে। এছাড়াও অ্যাপটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কোভিড-১৯ হতে সুরক্ষিত থাকার তথ্য সরবরাহ করে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইবার চ্যাটবট চালু করেছে, যা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত মানুষের জিজ্ঞাসার উত্তর দেয়। ইউনিসেফ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং আইসিটি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের জন্য তাদের নিজস্ব ভাইবার চ্যাটবট এবং কমিউনিটি তৈরি করেছে।  

ব্যবহারকারীদের সকল কার্যক্রমে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা এবং অ্যাপে তাদেরকে সুরক্ষিত রাখতে , ভাইবার ২০২০ সালে ফেসবুকের সাথে তাদের সকল ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর কারণ ফেসবুক তাদের লাভের জন্য ব্যবহারকারীদের তথ্যের অপব্যবহার করছিল। সুরক্ষাকে অন্যতম ভিত্তি বিবেচনা করা মেসেজিং অ্যাপটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তার সমস্ত বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে এবং ফেসবুক কানেক্ট ও গিফি ফিচার সরিয়ে দেয়। 

এ নিয়ে  রাকুতেন ভাইবারের ভাইবারের চিফ গ্রোথ অফিসার আনা জামেনস্কায়া বলেন, ‘২০২০ সালে সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আমাদের কাজের ধরনে, যোগাযোগ, ব্যবসা পরিচালনায় এবং আরও বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে। মহামারী অসংখ্য মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়েছে এবং অভিনব উদ্ভাবনের দিকে পরিচালিত করেছে। আমরা দেখেছি সারা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষ করোনা মোকাবিলায় তৎপর ছিল। তারা বেঁচে থাকার জন্য এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজে বেড়িয়েছে। 

আমরা তাদের এই উদ্যমী মানসিকতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হই। এটি আমাদের কাজে মূল্য যোগ করে এবং আমাদের কাজ যে আমাদের ব্যবহারকারীদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে এমন সংকটকালীন সময়ে, সে কথা মনে করিয়ে দেয়’। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বছরের শুরুতে সকল ক্ষেত্রে আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এর পাশাপাশি, আমরা আমাদের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাব এবং আরও উদ্ভাবনী ফিচার নিয়ে আসব, যা ভাইবার ব্যবহারকারীদের জীবনকে আরও বেশি সহজ করে তুলবে এবং তাদেরকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে যুক্ত করবে।’  

রাকুতেন ভাইবার ২০২০ সালে তার দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মকে ‘একের ভেতর সব’ বা ‘লাইফটাইম’ অ্যাপে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে তারা সামনে নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসবে এবং তারা ইতিমধ্যে চ্যাটবট পেমেন্ট সেবা চালু করার মধ্য দিয়ে এই লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিরাপদভাবে পণ্য ও সেবা কিনতে পারে এবং অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রদান করা যায়।  

বিগত দশকের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ব্যবহারকারীদের কল্যাণে রাকুতেন ভাইবারের এগিয়ে যাওয়ার পথে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে। এজন্য তথ্য নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত তাদের প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রেখে, রাকুতেন ভাইবার প্রস্তুত হয়েছে নতুন বছরে ভিন্নধর্মী সব ফিচার নিয়ে।

রাকুতেন ভাইবার: 

বিশ্বজুড়েই সবাইকে কানেক্টেড রাখতে কাজ করে রাকুতেন ভাইবার। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর পরিচয় এবং তাদের অবস্থান বিবেচ্য নয়। সারাবিশ্বে আমাদের ব্যবহারকারীরা ওয়ান-অন-ওয়ান চ্যাট, ভিডিও কল এবং গ্রুপ মেসেজিং ফিচার ব্যবহারের সুবিধা উপভোগ করেন। 

এছাড়াও তারা তাদের পছন্দের ব্র্যান্ড এবং সেলেব্রেটিদের সাথে আলোচনা এবং তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে পারেন এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। ভাইবার এর ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করে, যেনো তারা কোনো সংশয় ছাড়াই তাদের অনুভুতিগুলো শেয়ার করতে পারেন। 

রাকুতেন ভাইবার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স এবং আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রাকুতেন ইনকরপোরেটের একটি অংশ। ভাইবরি বিশ্বের জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার অফিশিয়াল কমিউনিকেশন চ্যানেল এবং গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়রস -এর অফিসিয়াল ইন্সট্যান্ট মেসেজিং ও কলিং অ্যাপ পার্টনার। তাই, বিরামহীন যোগাযোগে অভিজ্ঞতা পেতে আজই যুক্ত হোন ভাইবারে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন: [email protected]

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:০০
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

মেডিকেল সরঞ্জাম থেকে আইফোন দূরে রাখার আহ্বান অ্যাপলের

অনলাইন ডেস্ক

মেডিকেল সরঞ্জাম থেকে আইফোন দূরে রাখার আহ্বান অ্যাপলের

মেডিকেল সরঞ্জাম থেকে আইফোন দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। তাদের মতে, আইফোন মেডিকেল ডিভাইসের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। আজ মঙ্গলবার এ খবর প্রকাশ করেছে সিএনএন।

অ্যাপলের সাপোর্ট পেজে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি আইফোন ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। অ্যাপল বলেছে, আইফোনে ম্যাগনেট এবং রেডিও থাকে যা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড নির্গত করে। দুটিই শরীরে স্থাপনকৃত পেসমেকার, ডিফাইব্রিলেটরসহ (হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহৃত ডিভাইস) বিভিন্ন মেডিকেল ডিভাইসের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। মেডিকেল ডিভাইসে সেন্সর থাকে যা এ ম্যাগনেট কিংবা রেডিও ওয়েবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। 

আইফোন ১২ মডেল ও ম্যাগসেফ (MagSafe) অ্যাকসেসরিস ব্যবহারকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কারণে আগের মডেলগুলোর তুলনায় আইফোন ১২ সংস্করণে বেশি ম্যাগনেট থাকে। অ্যাপল সব আইফোন ও ম্যাগসেফ চার্জারকে ৬ ইঞ্চি এবং তারবিহীনভাবে চার্জ দেওয়ার সময় ১২ ইঞ্চি দূরে রাখতে বলেছে।    

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:৩৪
প্রিন্ট করুন printer

করোনা মহামারিতে রোবটের গণ-উৎপাদনের কথা ভাবছেন ‘সোফিয়া’র নির্মাতারা

অনলাইন ডেস্ক

করোনা মহামারিতে রোবটের গণ-উৎপাদনের কথা ভাবছেন ‘সোফিয়া’র নির্মাতারা
২০১৬ সালে আলোচিত হয় রোবট নারী 'সোফিয়া

২০১৬ সালে আলোচিত হয় রোবট নারী 'সোফিয়া। এর উৎপাদন করে হংকংয়ে অবস্থিত হ্যানসন রোবোটিকস। সংস্থাটি এবার রোবটের গণ-উৎপাদনের কথা ভাবছে।

সোফিয়াসহ চারটি মডেল ২০২১ সালের প্রথমার্ধেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। গবেষকরা মনে করছেন, রোবোটিক্স শিল্পের জন্য এক নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করে দেবে এই মহামারি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড হ্যানসন বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ এর সময়ে বর্তমান বিশ্বের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আরও অনেক বেশি অটোমেশনের দরকার।’

হ্যানসন বিশ্বাস করেন, মহামারির রোবোটিক সেবা শুধু স্বাস্থ্যখাতেই সীমাবদ্ধ নয়, শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও, যেমন খুচরা ও বিমান সংস্থাগুলোর গ্রাহকদের সহায়তা করতে পারে। মহামারি যেখানে মানুষকে একাকী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সেখানে রোবটের ব্যবহার অনেকখানি কার্যকরী হবে।

২০২১ সালে ছোট বড় মিলিয়ে হাজার হাজার রোবট বিক্রির লক্ষ্য হ্যানসন রোবটিক্সের। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 

 
  
 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:১৬
প্রিন্ট করুন printer

'গার্টনার পিয়ার ইনসাইটস কাস্টমারস চয়েস' স্বীকৃতি পেলো হুয়াওয়ে

অনলাইন ডেস্ক

'গার্টনার পিয়ার ইনসাইটস কাস্টমারস চয়েস' স্বীকৃতি পেলো হুয়াওয়ে

আইসিটি অবকাঠামো এবং স্মার্ট ডিভাইস উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে তাদের ডাটা সেন্টার এবং ক্লাউড নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ‘২০২০ গার্টনার পিয়ার ইনসাইটস কাস্টমারস চয়েস’স্বীকৃতি লাভ করেছে। হুয়াওয়ের ‘ক্লাউডফ্যাব্রিক ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক (ডিসিএন) সল্যুশন’ এর জন্য এই স্বীকৃতিটি এসেছে। ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত হুয়াওয়ে প্রায় ২০ ভেন্ডররের মধ্যে ৪.৯/৫ স্টার রেটিং নিয়ে প্রথমস্থান লাভ করে।

হুয়াওয়ে ক্লাউডফ্যাব্রিক ক্লাউডইঞ্জিন সিরিজ ডাটা সেন্টার (ডিসি) সুইচেস, আইমাস্টার এনসিই-ফ্যাব্রিক (স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং ডিসিএন ম্যানেজমেন্ট এবং কন্ট্রোল সিস্টেম) এবং হুয়াওয়ে আইএমাস্টার এনসিই-ফ্যাব্রিকইনসাইটের (ডিসিএনের জন্য ডিজাইন করা বুদ্ধিমত্তা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম) মতো প্রোডাক্ট এবং সল্যুশন কাভার করার ফলে  বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিল্পখাতের কাছ থেকে উৎসাহজনক গ্রাহক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। প্রোডাক্ট ক্যাপাবিলিটিস, ইনটিগ্রেশন এবং ডিপ্লয়মেন্ট, এবং সার্ভিস ও সাপোর্ট ক্যাটাগরিতেও হুয়াওয়ে বিভিন্ন খাতের (যেমন - ফাইনান্স, ইন্টারনেট, ক্যারিয়ারস এবং জনসাধারণের পরিষেবা) গ্রাহকদের কাছ থেকে উচ্চ রেটিং পেতে সক্ষম হয়েছে।

হুয়াওয়ে ক্লাউডফ্যাব্রিক ১৪০ টিরও বেশি দেশে ৯২০০ এরও বেশি এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের সেবা দেয়। হুয়াওয়ের নিরবচ্ছিন্ন উদ্ভাবনী মানসিকতা এবং ডিসিএনে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানের কারণে তারা গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জনে সফলতা পেয়েছে। ২০২০ সালে হুয়াওয়ে একদম নতুন ক্লাউডফ্যাব্রিক ২.০ সল্যুশন উন্মোচন  করে। উন্মুক্ত আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে এই সল্যুশনটি একাধিক ক্লাউডের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং একাধিক ভেন্ডররের ডিভাইসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার ফলে অপারেটিং ব্যয় (ওপেক্স) প্রায় ২৮ পার্সেন্ট  পর্যন্ত হ্রাস পায়। উচ্চ ঘনত্ব-সম্পূর্ণ ৪০০জিই ইন্টিলিজেন্ট এবং ক্ষতিহীন নেটওয়ার্কের মধ্যে ‘জিরো প্যাকেট লস’ এবং ‘লো ল্যাটেন্সির মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার ফলে কম্পিউটিং সক্ষমতা ২৭ পার্সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং ডাটা স্টোরেজ আইওপিএস ৩০ পার্সেন্ট এরও বেশি উন্নত হয়। 

হুয়াওয়ে ক্লাউডইঞ্জিন ১৬৮০০ নেক্সট জেনারেশন ৪০০জিই ডিসি স্যুইচও চালু করেছে। শিল্প-শীর্ষস্থানীয় নতুন প্ল্যাটফর্ম, নতুন অপটিক্যাল ইন্টারফেস এবং নতুন বুদ্ধিমত্তার উপর ভিত্তি করে সুইচটি 'নতুন অবকাঠামো'র বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ সহযোগ সমর্থন করে এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করে। উদ্ভাবনী সমাধান এবং পণ্যগুলি ছাড়াও হুয়াওয়ের ক্লাউডইঞ্জিন ডিসি স্যুইচগুলো বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করেছে। গার্টনারের মার্কেট শেয়ারের তথ্য অনুসারে, হুয়াওয়ের ১০ জিবিপিএস এবং ২৫ জিবিপিএস ইন্টারনেট সুইচগুলো গ্লোবাল পোর্ট শিপমেন্ট বিবেচনায় সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্ক অর্জন করেছে।

‘গার্টনার পিয়ার ইনসাইটস’ হলো আইটি প্রফেশনাল এবং প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের দ্বারা লিখিত এবং পড়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে আইটি সফটওয়্যার এবং সার্ভিসেসের পর্যালোচনা ও সেগুলোর রেটিং সম্পর্কে জানা যায়। আইটি লিডারদের আরও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করে তাদের পণ্যগুলোকে উন্নত করতে সহায়তা করাই হলো এই প্ল্যাটফর্মের  উদেশ্যে। ‘গার্টনার পিয়ার ইনসাইটস’-এ ৩৪০ টিরও বেশি বাজারের আলোকে করা ৩,৫০,০০০ এরও বেশি যাচাইকৃত পর্যালোচনা আছে।


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর