মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২ ০০:০০ টা

অযত্নে মরছে পুকুর-দিঘি

নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ার টিঅ্যান্ডটি অফিসের পুকুরটি অযত্নে মরতে বসেছে। কচুরিপানা জমাট বাঁধা পুকুরে বেড়ে উঠেছে কলা গাছ। এটি সর্বশেষ কবে সংস্কার হয়েছে তা কেউ জানে না

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

অযত্নে মরছে পুকুর-দিঘি

কুমিল্লা নগরীতে দিন দিন দখল দূষণ আর অযত্নে মরছে পুকুর-দিঘি। এনিয়ে পরিবেশ অধিদফতরসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নগরীর সচেতন বাসিন্দারা। ভরাট হয়ে যাচ্ছে নগরীর ৩০০ বছরের পুরনো ছোটরা জংলিবিবি পুকুর। এ পুকুরের উত্তর পাশে রাতের আঁধারে চলে ভরাটের কাজ। নগরীর আরেকটি ৩০০ বছরের প্রাচীন দিঘি উজির দিঘি। দিঘিটি ভরাট চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।  নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে আপাতত সেটির কাজ বন্ধ রয়েছে। কাপ্তান বাজার এলাকার কয়েকটি পুকুর ময়লা-আবর্জনা ফেলে কৌশলে ভরাট করা হচ্ছে। নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ার টিঅ্যান্ডটি অফিসের পুকুরটি অযতেœ মরতে বসেছে। কচুরিপানা জমাট বাঁধা পুকুরে বেড়ে উঠছে কলা গাছ। এটি সর্বশেষ করে সংস্কার হয়েছে তা কেউ জানে না।

ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবির বলেন, নগরীর বজ্রপুর ইউসুফ স্কুল রোডে অজিতগুহদের একটি পুকুর, মোহিনী মোহন বর্ধনের বাড়ির সামনে পুকুর, ইউসুফ স্কুলের  ভিতরের পুকুর, ডা. নিত্যহরির বাড়ির ভিতরের পুকুর, প্রয়াত বাদল হাজরার বাড়ির পাশের পুকুর ছিল। সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পাকিস্তান আমলে ভরাট হয়ে গেছে ইপিজেড রোডের আনন্দ সাগর দিঘিটি। ৭০-এর পর ভরাট হয়েছে শাসনগাছা ডাক বাংলো দিঘি। তালপুকুরপাড়ে দুটি পুকুর আর নেই, হারিয়ে গেছে রায় বাড়ির পুকুর, ভিক্টোরিয়া কলেজের কমন রুমের পাশের পুকুর, ক্ষিতি দত্তের পুকুর, সারদা পাল মাঠের পুকুর, ঠাকুরপাড়া জোড়পুকুর, লালা পুষ্কুরণী, ঝাউতলা কামিনী কুটিরের পাশের পুকুর, খ্রিস্টানপাড়ার পুকুর, পার্কের ভিতরে ব্যাঙ সাগর। পুরো নগরীতে গত ১০০ বছরে শত শত পুকুর ভরাট হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, ব্যক্তি মালিকানার দোহাই দিয়ে অনেকে পুকুর দিঘি ভরাট করছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর দিঘির প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনে পুকুর দিঘি অধিগ্রহণ করতে পারে। তারপর দেখভালের জন্য সেগুলো লিজ দিতে পারে। এ ছাড়া কচুরিপানায় মরতে বসা পুকুরগুলো সংস্কার করতে পারে।

পরিবেশ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক শওকত আরা কলি জানান, ছোটরা জংলিবিবি পুকুর ভরাট নিয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। উজির দিঘির বিষয়েও আমরা অবগত রয়েছি। অন্যান্য ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, আমরা কয়েক মাস আগে নগরীর কয়েকটি পুকুর পরিষ্কার করেছি। পুকুর দিঘি পরিষ্কার করার উদ্যোগটি আবার গ্রহণ করব। নগরীতে কোনো পুকুর দিঘি ভরাট করতে দেওয়া হবে না।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর