শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২১ ২১:৪৪

বিবিসির মিথ্যা জালে যেভাবে ফেঁসেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা

জামশেদ আলম রনি

বিবিসির মিথ্যা জালে যেভাবে ফেঁসেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা
Google News

বিবিসির সাংবাদিক মার্টিন বশির। ১৯৯৫ সালে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রিন্সেস ডায়ানার বিখ্যাত সাক্ষাৎকার নেন। যেটি প্রচারিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি এ ঘটনায় বশিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি বিবিসি থেকে অব্যাহতি নেন।  তখনকার আলোচিত সেই ঘটনায় প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে রাজপরিবারের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।  জানা যায়, মার্টিন বশির ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেনসারের সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন। তিনি স্পেনসারের আস্থা অর্জনের জন্য তাঁকে জাল নথিপত্র দেখান, যাতে মার্টিন বশির প্রিন্সেস ডায়ানার কাছে সহজে পৌঁছতে পারেন। আর্ল স্পেনসার বলেন, ‘আমি যদি ওই দলিলগুলো না দেখতাম তাহলে আমি আমার বোনের সঙ্গে বশিরের পরিচয় করিয়ে দিতাম না।’ ডেইলি মেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানের রিপোর্টার বশির তার সঙ্গে কথা বলার সময় রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন সদস্যদের ব্যাপারে মিথ্যা ও মানহানিকর বেশ কিছু উক্তি করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বশির বিবিসির ম্যানেজারদের মিথ্যা বলেছিলেন তিনি কাউকে কোনো জাল নথিপত্র দেখাননি। রিপোর্ট আরও বলছে ১৯৯৫ সালে বশির যেসব কথা বলেছিলেন তাঁর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ‘অনির্ভরযোগ্য, অকল্পনীয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসৎ।’ বশির নথি জাল করার জন্য একটি বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া তিনি এও বলেছেন, এই সাক্ষাৎকার নিয়ে তিনি ‘অসম্ভব গর্বিত।’ তিনি বলেছেন, ‘তাঁকে এই সাক্ষাৎকার দিতে প্রিন্সেস ডায়ানা ব্যক্তিগতভাবে রাজি হয়েছিলেন এবং ব্যাংকের ওই দলিলপত্রের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের কোনো যোগাযোগ ছিল না।’

‘প্রিন্সেস ডায়ানার নিজের হাতে লেখা এই মর্মে কাগজ প্রমাণ হিসেবে তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করে। ওই কাগজটিও রিপোর্টের পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে। লর্ড ডাইসনের কাছে এর স্বপক্ষে আরও তথ্যপ্রমাণ তুলে দেওয়া হয়েছিল।’

বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছেন, ‘এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ডায়ানা প্রিন্সেস অব ওয়েলস বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, ওই সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য যে পথ নেওয়া হয়েছিল, তা শ্রোতাদর্শক আমাদের কাছ থেকে যে মান প্রত্যাশা করে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এ জন্য খুবই দুঃখিত। লর্ড ডাইসন এই ব্যর্থতা স্পষ্টভাবেই চিহ্নিত করেছেন।’ বর্তমানে বিবিসিতে প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির অনেক উন্নতি ঘটানো হয়েছে, তবে সে সময় যেভাবে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণের পথ নেওয়া হয়েছিল তা ঠেকানো উচিত ছিল।’ সে সময় ঠিক কী ঘটেছিল তার গভীরে গিয়ে সেটা খতিয়ে দেখার জন্য বিবিসির আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং বিবিসি যা জানে সে বিষয়ে স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল।’ প্যানোরামা অনুষ্ঠানের জন্য মার্টিন বশিরের নেওয়া প্রিন্সেস ডায়ানার সাক্ষাৎকার তখন বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আলোচিত ওই সাক্ষাৎকারে প্রিন্সেস ডায়ানার বিস্ফোরক বক্তব্যের পর ব্রিটিশ রাজপরিবারে সংকট দেখা দেয়, যার জেরে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। বিবিসির এই সাক্ষাৎকারে প্রিন্সেস তাঁর জীবন নিয়ে প্রথমবার এমন সব কথা বলেছিলেন যা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। ওই সাক্ষাৎকারে ডায়ানা তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন- ‘এই বিয়েতে ছিলাম আমরা তিনজন।’ তখন ডায়ানা ও চার্লস আলাদা থাকেন, কিন্তু তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ওই সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ভিতরের একজন সদস্য প্রথম এত খোলাখুলি কথা বলেছিলেন, যেখানে তিনি প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তাঁর অসুখী বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলেন। এর পর থেকে ডায়ানার ভাই দাবি করে আসছিলেন বশির মিথ্যা কথা বলে এই সাক্ষাৎকার নেন। তিনি যাতে ডায়ানার সঙ্গে বশিরের পরিচয় করিয়ে দেন এর জন্য বশির তাঁকে জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখান এবং সেভাবে তিনি স্পেনসারের আস্থা অর্জন করেন। গত বছর স্পেনসার প্রকাশ্যে তাঁর অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিবিসি নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেয়, যার ফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হলো। বশির সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিবিসি থেকে ইস্তফা নেন। ৫৮ বছর বয়সী মার্টিন বশির ২০১৬ সাল থেকে বিবিসির ধর্ম বিষয়ক সংবাদদাতা এবং সম্পাদক ছিলেন।

মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ায় ফের ক্ষমা চাইল বিবিসি

২০ মে বিবিসির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য সাংবাদিক বশির জাল নথি ব্যবহার করেছিলেন। বিবিসির ব্যবস্থাপকদের কাছে পরে এ নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন। ২৫ বছর আগে প্রিন্সেস ডায়ানার একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার নিতে বিবিসির সাংবাদিক মার্টিন বশির জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে এক তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বশিরের প্রতারণা নিয়ে ডায়ানার ভাই চার্লস স্পেনসারের অভিযোগের পর গত নভেম্বরে সাবেক জ্যেষ্ঠ বিচারক জন ডাইসনকে প্রধান করে বিবিসি একটি তদন্ত শুরু করে। বিবিসি বলেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যর্থতার আলামত স্পষ্ট হয়েছে। আমরা এ জন্য দুঃখিত। তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বশির যা করেছেন তাতে নৈতিক এবং সুষ্ঠু সাংবাদিকতার নীতিমালা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেন, যদিও তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে যে প্রিন্সেস ডায়ানা নিজেই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন, তবুও সাক্ষাৎকার আয়োজনের পদ্ধতিতে আমরা ব্যর্থতা দেখেছি। দর্শকরা আমাদের কাছ থেকে আরও বেশি আশা রাখেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগের সময়ে আমরা ফেরত যেতে পারব না। তবে আজকের বিবিসি পরিপূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে পারে। এ ঘটনায় সাংবাদিক বশিরও জাল নথি ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

 

‘ডায়ানা-চার্লসের সম্পর্কে চির ধরায় বিবিসি’

প্রিন্সেস ডায়ানার পুত্র প্রিন্স উইলিয়াম স্মৃতিচারণা করেন, ডায়ানা-চার্লসের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছিল বিবিসির সেই অসৎ সাক্ষাৎকারটি। বিবিসির অসততার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে উইলিয়াম বলেন, ‘যেসব ছলচাতুরীর মাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল সেগুলো আমার মায়ের বক্তব্যকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে আমি মনে করি। প্রচারের পর সাক্ষাৎকারটি আমার মা-বাবার সম্পর্ককে আরও খারাপ করে ফেলেছিল এবং তারপর থেকে অসংখ্য মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিবিসির ব্যর্থতা কতটা গভীরভাবে মায়ের ভয়, আতঙ্ক ও একাকিত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছিল সে চিন্তা আমার জন্য অবর্ণনীয় কষ্টদায়ক। তৎকালীন বিবিসির শীর্ষ কর্মকর্তারাও তাঁর আস্থা ভঙ্গ করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের মাধ্যমে চিহ্নিত এসব ব্যর্থতা শুধু আমার মা এবং আমার পরিবারকেই অপদস্থ করেনি, এটা জনগণের আস্থাও নষ্ট করেছে।’


 

বিবিসির ভুল সংবাদ ও বারবার ক্ষমা প্রার্থনা

 

স্যার জেমস ডাইসনের কাছে বিবিসির ক্ষমা প্রার্থনা

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা স্যার জেমস ডাইসনকে বিশিষ্ট টরি সমর্থক হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষমা চেয়েছে। গত ১২ মে এক বিবৃতিতে বিবিসি এ ক্ষমা প্রার্থনা করে। বিবৃতিতে বিবিসি জানায়, আমরা স্বীকার করছি যে জেমস ডাইসন একজন কনজারভেটিভ সমর্থক নন, যেটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কিছু টেক্সট মেসেজ আমাদের কিছু কাভারেজে প্রচার করেছি। জেমস ডাইসন ফাউন্ডেশন স্কুল শিশুদের জন্য উইল্টশায়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ফেস্টিভ্যালকে সমর্থন করার জন্য একটি দাতব্য উপহার দিয়েছিল। আমরা স্বীকার করি যে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয় না এবং আমরা রেকর্ডটি সহজভাবেই রাখতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর টেক্সট মেসেজ পরবর্তীতে অফিসে পাঠানো হয়েছে। আমরা দুঃখিত এই বিষয়গুলো সব সময় আমাদের কাভারেজে প্রতিফলিত হয়নি। এটি না করার জন্য আমরা ক্ষমা চাই। এর জবাবে জেমস ডাইসন বলেন, বিবিসি এখন স্বীকার করছে বিষয়টি ভুল ছিল এবং ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে, যেটি আমি গ্রহণ করেছি। আমি একজন বিশিষ্ট কনজারভেটিভ সমর্থক এই দাবির পক্ষে বিবিসি নির্লজ্জভাবে স্কুল শিশুদের জন্য আমাদের দাতব্য উপহারের বিষয়টিকে সংবাদে বর্ণনা করেছে। উদ্যোক্তা ডাইসন এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাটি বিবিসি প্রথম প্রকাশ করেছিল।

 

নাইজেরিয়ার হোটেলে  ‘মানুষের মাংস’ বিক্রির ভুল সংবাদ প্রকাশ

ভুল করে হোক বা জেনেশুনে, নাইজেরিয়ার আনামব্রায় একটি রেস্টুরেন্টে মানুষের মাংস পরিবেশন করার অভিযোগ ওঠে। আর সেই সংবাদ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)। খবরে প্রকাশ করা হয়, হোটেলের কাস্টমাররা অভিযোগ করেন তাদের মানুষের মাংস পরিবেশন করা হয়েছে। গুজব না সত্যি যাচাই করতে তদন্তে নামে পুলিশ। আর তাতে বেরিয়ে আসে সত্যটা। রেস্টুরেন্টে মানুষের মাংস বিক্রি হয় না। এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিবিসি জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার হোটেলে বিক্রি হচ্ছে ‘মানুষের মাংস’, এমন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি ভুল এবং অনুপযুক্ত। তারা আরও জানিয়েছে, প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে রেস্টুরেন্টে মানুষের মাংস বিক্রির কোনো প্রমাণ পায়নি। বিবিসি ২০১৫ সালে ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিল রেস্টুরেন্ট মালিকের কাছে। সে সময় বিবিসি জানিয়েছিল, এটি একটি ভুল সংবাদ। সম্পূর্ণ অনুসন্ধান ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশের জন্য দ্রুত সংবাদটি মুছে ফেলা হয়। পরে কী কারণে বা কেন এমন সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও করে গণমাধ্যমটি।

 

দায় স্বীকার করে বিবিসি প্রধানের পদত্যাগ

সাবেক রাজনীতিকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ভুল খবর পরিবেশনের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন বিবিসির মহাপরিচালক ও প্রধান সম্পাদক। ২০১২ সালে বিবিসি টেলিভিশনের চলতি ঘটনা বিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘নিউজনাইট’-এ সাবেক এক রাজনীতিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়। অথচ প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো মন্তব্য নেওয়া হয়নি। পরে দেখা যায়, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফলে শুরু হয় তোলপাড়, কেননা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

এ ঘটনার আগে বিবিসির ভূমিকা প্রশ্নের মুখে ছিল। কেননা এর আগে বিবিসি বিখ্যাত উপস্থাপক জিমি স্যাভিলের বিরুদ্ধে থাকা শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা চেপে গিয়েছিল। ঘটনাটি হলো- ব্রিটেনে বিবিসির প্রতিদ্বন্দ্বী আইটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায় যে, জিমি স্যাভিল বিবিসিতে কাজ করার সময় প্রায় ৩০০ জন শিশু ও তরুণীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর কিছু কিছু ঘটনা বিবিসিতেও ঘটেছে। যখন ঘটনা ঘটে তখন বিবিসি টিভির প্রধান ছিলেন জর্জ অ্যান্টউইসল। সাবেক রাজনীতিকের বিরুদ্ধে প্রচারিত প্রতিবেদনটি সম্পর্কে তিনি জানতেন না বলে দাবি করেছেন অ্যান্টউইসল। তবে তিনি যেহেতু বিবিসি সংস্থার প্রধান তাই দোষটা তাঁরই।

 

চীনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজের সম্প্রচার নিষিদ্ধ

চীনের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। করোনাভাইরাস ও উইঘুর ইস্যুতে বিবিসির প্রতিবেদনের সমালোচনা করে চীন। বিবিসি জানায়, তারা চীনের এই সিদ্ধান্তে ‘হতাশ’। যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ মিডিয়া রেগুলেটর অফকম চীনা গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) লাইসেন্স বাতিলের এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিবিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে চীন। সিজিটিএনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গত বছর যুক্তরাজ্যের নাগরিক পিটার হামফের জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি সম্প্রচার করা হয়, যাতে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং রেগুলেশনের নিয়ম ভঙ্গ করা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় চলচ্চিত্র, টিভি এবং রেডিও প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেছে, চীন সম্পর্কে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজ সম্প্রচারের নীতিমালাগুলো ‘গুরুতরভাবে লঙ্ঘন’ করেছে। এর মধ্যে ‘খবরের সত্যতা ও নিরপেক্ষতা’ এবং ‘চীনের জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি না করার’ নীতিমালাগুলো লঙ্ঘন করেছে। তারা বলেছে, আরও এক বছর সম্প্রচার করার জন্য বিবিসি যে আবেদন করেছিল সেটা গ্রহণ করা হবে না। চীনের এই সিদ্ধান্তের পর বিবিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চীনের এমন সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সারা বিশ্ব থেকে নিরপেক্ষভাবে কোনো ভয় বা আনুকূল্য ছাড়া বিবিসি খবর প্রচার করে।

 

খুনি ফিল স্পেক্টরকে ‘মেধাবী তবে ত্রুটিযুক্ত’ বলার পর জনসম্মুখে ক্ষমা চায় বিবিসি

হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফিল স্পেক্টটরকে ‘মেধাবী তবে ত্রুটিযুক্ত’ বলার পর ক্ষমা চেয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। চলতি বছরের শুরুতে এমন ঘটনা ঘটেছিল বিবিসির একটি প্রতিবেদনে। করপোরেশন বলছে, নিবন্ধনের শিরোনাম ছিল ‘আমাদের সম্পাদকীয় মান পূরণ করেনি’। বিবিসি নিশ্চিত করেছিল, অভিনেত্রী লানা ক্লার্কসন হত্যায় ন্যূনতম ১৯ বছরের কারাদন্ড পাওয়া ফিল স্পেক্টরের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে এমন ভুলের অভিযোগ উঠেছিল। খবরে বলা হয়েছিল, ২০০৯ সালে হলিউড অভিনেত্রী লানা ক্লার্কসনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন ফিল। ২০০৩ সালে লানাকে হত্যা করেন তিনি। তদন্তে বলা হয়, বার্বারিয়ান এই সুন্দরীকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশি তদন্ত সাপেক্ষে আদালত অভিনেত্রী লানা ক্লার্কসনকে হত্যার দায়ে সংগীত প্রযোজক ফিল স্পেক্টরকে ১৯ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করে। তবে চলতি বছর ৮১ বছর বয়সী ফিল স্পেক্টর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে স্পেক্টরকে ‘মেধাবী তবে ত্রুটিযুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

রিপোর্টে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করায় ক্ষমা প্রার্থনা

রিপোর্টে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করে এটিকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়েছে বিবিসি। গত বছরের ২৯ জুলাই বিবিসিতে সম্প্রচারিত ওই প্রতিবেদনটি নিয়ে ১৮ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ অভিযোগ জানায়। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে এনএইচএস কর্মীর ওপর জাতিগতভাবে উত্তেজিত আক্রমণ নিয়ে করা ওই প্রতিবেদন জুড়ে এন-শব্দ (জাতিগতভাবে নিন্দা) ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিবিসি রেডিওর ওয়ানএক্সট্রা ডিজে সাইডম্যান যার আসল নাম ডেভিড হোয়াইটলি এ ঘটনার জেরে স্টেশন ছাড়েন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, এই কাজটি এবং এটিকে রক্ষা করার বিষয়টি আমাদের সম্প্রদায়ের মুখে চপেটাঘাত বলে মনে হয়েছে।

বিবিসির মহাপরিচালক টনি হল বলেন, তিনি এখন মনে করেন বিবিসির ভিন্ন পন্থা গ্রহণ করা উচিত। হল ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই প্রতিবেদনটি অনেক লোকের মধ্যে কষ্ট সৃষ্টি করেছে এবং বিবিসি তার আউটপুটে আপত্তিকর ভাষা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা জোরদার করবে। সম্প্রচারে এন-শব্দের ব্যবহার বহু সমালোচককে আহত করেছিল, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং বিবিসির স্টাফও ছিলেন।