Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৯ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০
বড় পর্দার খলনায়করা...
প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন \'ছবিতে খলনায়কই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। যে কিনা গল্পকে শ্বাসরুদ্ধকরভাবে এগিয়ে নেয় ও ছবিতে গতি এনে দেয়। তাই নায়কের চেয়ে খলনায়কের গুরুত্ব বেশি। কারণ খলনায়কের কাজ হচ্ছে গল্পে ব্যঞ্জনা যোগ করা\'। অন্য নির্মাতারা বলেন, আসলেই তাই, এ জন্যই বিশ্বের সব ছবিতেই খলনায়ক হিসেবে নির্দিষ্ট একটি চরিত্র থাকে। ঢালিউডেও আছে। ঢাকাই ছবির সূচনাকাল থেকে এ পর্যন্ত খলনায়ক হিসেবে যারা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন এখন কেমন আছেন। তাই তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ
বড় পর্দার খলনায়করা...

খলিল

খল অভিনেতা খলিলের প্রকৃত নাম খলিলউল্লাহ খান। ১৯৩৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে তার জন্ম। ছাত্র জীবন থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। প্রথমে মঞ্চে কাজ করেন। ১৯৬০ সালে 'প্রীত না জানে রীত' ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় আসেন তিনি। পরে 'সোনার কাজল' ছবিতেও নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। 'জংলী ফুল' ছবি দিয়ে খলনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু তার। ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয়শ' ছবিতে অভিনয় করেন। পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে দক্ষ খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিকবার জাতীয়, বাচসাসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০১২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। বর্তমানে বার্ধক্যজনিত কারণে অভিনয় থেকে দূরে আছেন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসায় কাটছে তার অবসর জীবন। বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাও ছিলেন খলিল।

এটিএম শামসুজ্জামান

অভিনেতা, গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, নির্মাতা এটিএম শামসুজ্জামানের জন্ম ১৯৪১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায়। স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু তার। কবি ফেরদৌসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুল ম্যাগাজিনে প্রথমবার 'অবহেলা' নামে গল্প লিখেন। সত্তরের দশকের শুরুতে নারায়ণ ঘোষ মিতা, খান আতাউর রহমান, কাজী জহির ও সুভাষ দত্তের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। একই সঙ্গে চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭২ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার 'নীল আকাশের নীচে' ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৭ সালে আমজাদ হোসেনের 'নয়নমনি' ছবিতে খলনায়ক হয়ে আসেন তিনি। এতে মোড়ল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে চলচ্চিত্রে মন্দ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এরপর খলনায়ক হিসেবে 'গোলাপী এখন ট্রেনে', সূর্য দীঘল বাড়ী', অশিক্ষিতসহ অনেক ছবিতে অভিনয় করেন ও পুরস্কৃত হন। একসময় অবশ্য মন্দ মানুষের চরিত্র থেকে বেরিয়ে এসে কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। একাধারে তিনি টিভি, মঞ্চ ও বেতারে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে 'এবাদত' নামে একটি ছবি পরিচালনা করেন তিনি। এখনো অভিনয়ে সক্রিয় রয়েছেন জনপ্রিয় এই খল ও কৌতুক অভিনেতা।

আহমেদ শরীফ

অভিনেতা আহমেদ শরীফের প্রকৃত নাম শরীফউদ্দীন আহমেদ। ১৯৪৩ সালের ১২ আগস্ট কুষ্টিয়ায় তার জন্ম। ১৯৭২ সালে খোকন মাসুদ নামে নজরুল ইসলামের 'স্বরলিপি' ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। পরে খল অভিনেতা হিসেবে ডাকু মনসুর, রাজদুলারী, মহেশখালীর বাঁকে, রুপালী সৈকতে, রাজমহলসহ প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এবং জাতীয়, বাচসাসসহ নানা সংগঠনের অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। টিভি নাটক পরিচালনায় করেন এই অভিনেতা। বর্তমানেও অভিনয়ে সক্রিয় রয়েছেন আহমেদ শরীফ।

মিজু আহমেদ

অভিনেতা মিজু আহমেদের প্রকৃত নাম মিজানুর রহমান। জন্ম ১৯৫০ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায়। ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার 'তৃষ্ণা' ছবির মাধ্যমে খল অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আগমন তার। এরপর গাংচিল, মাসুম, জনতা এঙ্প্রেসসহ তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এবং এখনো সক্রিয় আছেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতিও নির্বাচিত হন মিজু আহমেদ।

মিশা সওদাগর

মিশা সওদাগরের জন্ম ১৯৬৬ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৮৬ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আসেন তিনি। প্রথম অভিনয় করেন ১৯৯০ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদের 'চেতনা' ছবিতে। এতে নায়ক ছিলেন তিনি। একই বছর নায়ক হিসেবে 'অমরসঙ্গী' নামের আরেকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে 'আশা আমার ভালোবাসা' ছবিতে প্রথম খলনায়ক হয়ে আসেন এবং সাফল্যের সঙ্গে এ পর্যন্ত আট শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এবং এখনো অভিনয়ে যুক্ত আছেন। ২০১১ সালে 'বস নাম্বার ওয়ান' ছবিতে অভিনয়ের জন্য খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন তিনি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকও তিনি।

ওমর সানি

নব্বই দশকে শেখ নজরুল ইসলামের 'চাঁদের আলো' ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু ওমর সানির। প্রায় এক দশক সুপারস্টার হিসেবে যাত্রা শেষে ২০০০ সালের শুরুতে নায়ক ওমর সানি খলনায়ক হিসেবে নতুন করে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। এ চরিত্রেও সফল হন তিনি। এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। তবে বর্তমানে পজেটিভ চরিত্রে বেশি অভিনয় করছেন এবং টিভি নাটক প্রযোজনা করছেন।

ডন

১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' ছবির মাধ্যমে খলনায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু ডন-এর। এ পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং এখনো অভিনয়ে সক্রিয় আছেন ডন।

ডিপজল

খল অভিনেতা ডিপজলের প্রকৃত নাম মনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় তার জন্ম। ১৯৯২ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের 'টাকার পাহাড়' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে খলনায়ক হিসেবে চিত্রজগতে আসেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্রের মন্দলোক হিসেবে চরম খ্যাতি পান তিনি। তার মুখের প্রতিটি সংলাপই দর্শকের মুখে মুখে ফিরত। তাকে 'কেরাবেরা কিং', 'বাসু'সহ নানা উপাধিতে ভূষিত করে দর্শকরা। খলনায়ক চরিত্রে দুই ডজনেরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ২০০৬ সালে নিজের প্রযোজিত 'কোটি টাকার কাবিন' ছবির মাধ্যমে খলনায়কের পরিবর্তে অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু তার। তিনি প্রযোজকও।

 

 

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow