Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫২
কৃত্রিম গর্ভ-উন্নয়ন গবেষণায় সামিহা
শনিবারের সকাল ডেস্ক
কৃত্রিম গর্ভ-উন্নয়ন গবেষণায় সামিহা

কৃত্রিম গর্ভ-উন্নয়ন গবেষণায় অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী সামিহা মাহিন। নর্থ হলিউডের একটি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সামিহা গবেষণা করছেন ইউএসসি স্কুল অব ফার্মেসিতে। এক্সট্রা ইউটেরিন বা কৃত্রিম গর্ভ-উন্নয়ন গবেষণায় লিড গবেষক হিসেবে কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বের সব প্রান্তেই বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার। এরই ধারাবাহিকতায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এগিয়ে। এরই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সামিহা। 

 

কৃত্রিম গর্ভ-উন্নয়ন গবেষণায় অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী সামিহা মাহিন। সামিহার দেশের বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুরে। নর্থ হলিউডের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সামিহা গবেষণা করছেন ইউএসসি স্কুল অব ফার্মেসিতে। এক্সট্রা ইউটেরিন বা কৃত্রিম গর্ভ-উন্নয়ন গবেষণায় লিড গবেষক হিসেবে কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

এর আগে সাইন্স ফেয়ারে অন্য ৬০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফ্রান্সিসকো ভ্রাবো মেডিকেল ম্যাগনেট হাই স্কুলের USC STAR (Science Technology and Research program) I EHA (Engineering for Health Academy program)  প্রোগ্রামে অংশ নেন সামিহা। হেলথ একাডেমির অধীনে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিষয়ে তরুণদের গবেষণায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য ১৯৮৯ সালে এই প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তিনি হাই স্কুলের একজন সিনিয়র। এই প্রোগ্রামটির মাধ্যমে USC অধ্যাপক ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক টিমের সঙ্গে বিভিন্ন গবেষণায় নবীনদের যোগসূত্র তৈরি ও বিজ্ঞানীদের উৎসাহ প্রদান এবং সেই সঙ্গে গবেষণা কাজে নানা দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। 

সামিহার তিন বছরের একাডেমিক জীবনে কৃত্রিম গর্ভ বিষয়ে নিজ থেকে পড়াশোনা করেন এবং এই বিষয়ে গবেষণা করেন।

ইউএসসি স্কুল অব ফার্মেসি থেকে জানানো হয়, সামিহার গবেষণার বিষয় ছিল, অপরিপক্ব শিশুর উচ্চ মৃত্যুহার কমিয়ে স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা নিয়ে সামিহা গবেষণা করেন।

বেশ কিছুদিন কাজ করার পর সামিহা এই গবেষণায় সফল হয়েছেন। এই অসাধারণ কাজের জন্য তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনাল সায়েন্টিস্টদের কাছ থেকে সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন সামিহা।

সামিহা ইউএসসি স্কুল অব ফার্মেসিতে ‘পুরুষ প্রজননের ওপর পরিবেশগত রাসায়নিক মিশ্রণের প্রভাব বিষয়ে ডা. মার্টিন কাল্টের সঙ্গে কাজ করেছেন।

বায়োটেক শিল্প সম্প্রসারিত হচ্ছে। রিসার্চ ও ল্যাব সার্ভিস অনেক প্রফেশনাল। বিজ্ঞানী ডা. মার্টিন কাল্ট সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায়  কর্মরত ৭৫ হাজার ৪৯০ জন ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। এই গবেষকের তত্ত্বাবধানে সামিহাও বেশ সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। সামিহার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে বায়োমেডিকেল প্রকৌশলে নিজের ক্যারিয়ার গড়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের তথ্য মতে, সাধারণত ৩৭ সপ্তাহ বয়সের আগে কোনো বাচ্চা জম্ম গ্রহণ করলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে প্রিম্যাচিউর বেবি বলে। নির্ধারিত সময়ের আগে জম্ম গ্রহণ করার কারণে প্রিম্যাচিউর বেবির নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। বাইরের আবহাওয়া কিংবা পরিবেশের সঙ্গে খাপ না খাওয়াতে পারা এবং জেনেটিক ডিজঅর্ডারের মতো সংকটপূর্ণ জতিলতার ভিতর দিয়ে তাকে তাই এই সময় প্রিম্যাচিউর বেবির অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার বা কৃত্রিম গর্ভের দরকার হয়। আর এ বিষয়েই গবেষণা করেন তরুণ বিজ্ঞানী সামিহা।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow