শিরোনাম
শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

মুসলিম বিশ্বের প্রাচীন পাঠাগার

বই সংগ্রহ ও জ্ঞানচর্চা মুসলিম ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাঠাগার মুসলিম ঐতিহ্যের অংশ। যেখানে মলাটবন্দী রয়েছে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও গবেষণাধর্মী কাজগুলো বই কিংবা নথিতে। যুগের পর যুগ ধরে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে বইগুলো ভূমিকা রেখে চলেছে। সেসব বই নিয়ে গড়ে উঠেছে লাইব্রেরি। কয়েক শতাব্দী আগে চালু হওয়া প্রাচীন পাঠাগারগুলো ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় মানব সভ্যতার উন্নয়ন ও বিকাশে সেরাদের কাতারে থাকা মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগার নিয়ে আজকের রকমারি... লিখেছেন- আবদুল কাদের

মুসলিম বিশ্বের প্রাচীন পাঠাগার

হাউস অব উইজডম

হাউস অব উইজডম

 [ইরাক]

মধ্যযুগে ইসলামী সভ্যতার সবচেয়ে বড় বইয়ের ভাণ্ডারটি ছিল বাগদাদে। নাম বাইতুল হিকমাহ বা হাউস অব উইজডম। অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত পাঠাগারটি ছিল সে সময়ের জ্ঞানচর্চার মহামিলন ক্ষেত্র। যাকে হাউস অব উইজডম বা জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। খলিফা হারুন-অর-রশিদ আব্বাসীয় রাজধানী বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এর নাম ছিল ‘খাজানাতুল হিকমাহ।’ এরপর তাঁর ছেলে খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন এই পাঠাগারটির পূর্ণতা দান করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, খলিফা আল মামুনের যুগই ‘বায়তুল হিকমাহ’-এর স্বর্ণযুগ। আল মামুনের শাসনামলে মানমন্দির স্থাপিত হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলকেমি, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল এবং মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান হয়ে ওঠে। অসংখ্য পণ্ডিত ব্যক্তি এ গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‘বায়তুল হিকমাহ’-ই মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং এর মধ্য দিয়েই জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে গবেষণার আধুনিক ধারণার উদ্ভব ঘটে।

 

আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি

 [মিসর]

আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি বিশ্বের প্রাচীন, বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলোর একটি। খ্রিস্টপূর্ব ২৮৮ অব্দে টলেমি-১, ফেলেরনের দিমিত্রিয়াসের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত এ পাঠাগার। এটি এথেন্সে অবস্থিত অ্যারিস্টটলের বক্তৃতাকক্ষের আদলে নির্মাণ করা হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি, ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছরের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখার আবিষ্কার ও দলিলের সাক্ষী হয়েই ছিল এই পাঠাগার। ধারণা করা হয়, ৭ লাখের মতো চামড়া বা কাগজে পেঁচানো প্রাচীন গ্রন্থ ছিল এখানে। ১ লাখেরও বেশি ছাপা বই কাঠের শেলফে সংরক্ষিত ছিল। যদিও পরবর্তীকালে পাঠাগারটি ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবারও গ্রন্থাগারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ইউনেস্কোর সহায়তায় ১৯৯৫ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল এক প্রজেক্টের অধীনে লাইব্রেরিতে নির্মাণ করা হয় ৮০ লাখ বই রাখার মতো শেলফ ও ১১টি চৌবাচ্চায় প্রায় ৭০ হাজার বর্গমিটারজুড়ে মূল পাঠকক্ষটি। আছে বিশাল কনফারেন্স সেন্টার, চারটি মিউজিয়াম, চারটি গ্যালারি। বিশেষ গবেষণা কেন্দ্র আছে সাতটি।

 

বায়তুল হিকমা

 [মিসর]

বায়তুল হিকমা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র। মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত প্রাচীন গ্রন্থাগার এটি। ৯৮৮ সালে ফাতেমি খলিফা আল আজিজ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশাল এই সংগ্রহশালায় বহু পণ্ডিত ও বিদ্বানের আগমন ঘটত।

এই পাঠাগারে ১ লাখের মতো বই ছিল। ফাতেমি পাঠাগারের বিশালতা নিয়ে ঐতিহাসিক ইবনে আবি শামা রাওজাতাইন ফি আখবারিদ দাওলাতাইন গ্রন্থে লেখেন, এটা ছিল তৎকালের ‘সপ্তাশ্চর্যের’ একটি। কথিত আছে, কায়রোর রাজপ্রাসাদে (ফাতেমিদের রাষ্ট্রীয় ভবনে) এত বিশাল পাঠাগার ছিল যে, তৎকালে এর কোনো নজির ছিল না। এই পাঠাগারের অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল মূলকপির আধিক্য। একেকটা কিতাবের শতাধিক নুসখাও মজুদ ছিল। কথিত আছে, এক তাফসিরে তাবারিরই ১ হাজার ২০০ নুসখা (মূলকপি) ছিল। নুসখার আধিক্যের মতো মূলগ্রন্থের সংখ্যাও অনেক ছিল।

মদিনা লাইব্রেরি

 [সৌদি আরব]

আধুনিককালে আরবিতে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারকে ‘খাজানাতুল কুতুব’ (বইয়ের ভাণ্ডার) বলে অভিহিত করা হয়। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মদিনা মুনাওয়ারা লাইব্রেরি’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। ‘খাজাইনুল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ’ গ্রন্থের লেখকের মতে, গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৮৮৬ হিজরির ১৩ রমজানের অগ্নিকাণ্ডের আগে। সেই হিসাবে এই লাইব্রেরির বয়স সাড়ে ৫০০ বছরের বেশি। ১৩৫২ হিজরি সালে সৌদি আরবের ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ওবায়েদ মাদানির পরামর্শে, লাইব্রেরিকে ‘মাকতাবাতু মাসজিদিন নববী’ নামকরণ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে এর অবস্থানেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। অত্যাধুনিক কারিগরি ব্যবস্থাপনায় সুবিন্যস্ত ও সুশৃঙ্খল করে সাজানো হয় গোটা লাইব্রেরিকে। কয়েক ভাগে বিভক্ত মনোরম এ লাইব্রেরিটি। মসজিদের ছাদের ওপর রয়েছে অধ্যয়ন কক্ষ। এতে আছে ৩৫৮টি সেলফ, এক লাখ বই এবং গবেষকদের জন্য ৩০০ চেয়ার। এতে আছে ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের সাহায্যে কম্পিউটারে অধ্যয়নের সুব্যবস্থা। পাণ্ডুলিপিসহ অসংখ্য গ্রন্থের বিপুল সমাহার। আছে নির্দিষ্ট অধ্যয়ন কক্ষ, সাময়িকী বিভাগ, দুর্লভ গ্রন্থ বিভাগ, নারীদের অধ্যয়ন কক্ষ ও বিশেষ সংগ্রহ বিভাগ রয়েছে। এখান থেকে বাঁধাই প্রকল্প, কিতাব ও পাণ্ডুলিপি মেরামত এবং সংরক্ষণ, হস্ত ও মেশিনে কিতাব লিখন করা যায়। এখানে ২৫ হাজার দুর্লভ কিতাবের বিশাল সংগ্রহের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ হাজার এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা গ্রন্থ। ১০ হাজারের বেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক সাময়িকী।

মক্কা লাইব্রেরি

 [সৌদি আরব]

বিশ্বের নামিদামি পাঠাগারগুলোর মধ্যে মক্কা লাইব্রেরি অন্যতম। আব্বাসী খলিফা মাহদির শাসনামলে সাফা-মারওয়া সাঈর থেকে পূর্ব পাশে ১৬০ হিজরিতে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, এখানেই জন্ম নেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ১৩৫৭ হিজরি সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ এর নামকরণ করেন ‘মাকতাবাতুল হারাম আল-মাক্কি’। প্রথমে এটি হারাম শরিফের একটি গম্বুজের অংশবিশেষ থাকলেও পরবর্তীতে গ্রন্থাগারটি হারাম শরিফের বাইরে স্থানান্তর করা হয়। বিশাল এই গ্রন্থাগারটির সংগ্রহে আছে পাঁচ লক্ষাধিক বই। এর মধ্যে ৮ হাজারের অধিক মুদ্রিত-অমুদ্রিত পাণ্ডুলিপি রয়েছে। দুর্লভ পাণ্ডুলিপি আছে ৫ হাজারের মতো। এখানে থাকা ইবনে নাদিমের (মৃত্যু ৪৩৮ হি.) ‘আল-ফিহরিস্ত’, আল্লামা হায়ছামির ‘মাজমাউল বাহরাইন’ গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পৃথিবীতে এই একটিই। মক্কা লাইব্রেরির বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। এর পরিসেবা বিভাগটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত। লাইব্রেরির বিশাল হলরুমে রয়েছে ১ লাখেরও বেশি সংকলন। যে কোনো আগ্রহী পাঠক এসে মনোরম পরিবেশে অধ্যয়ন করতে পারেন। লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগ নির্ধারিত করা হয়েছে গবেষক ও বিশ্লেষকদের জন্য। গবেষণার জন্য এখানে আছে প্রায় ৬ হাজার ৮৪৭টি মূল পাণ্ডুলিপি। সেই সঙ্গে ৩৫৮টি অনারবি এবং ২ হাজার ৩১৪টি ফটো পাণ্ডুলিপিও রয়েছে। এ ছাড়াও এখানে রয়েছে প্রশিক্ষণ বিভাগ, ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি বিভাগ, মাইক্রোফিল্ম বিভাগ, ফটো মাইক্রোফিল্ম বিভাগ, হারামাইন স্টল, নারী বিভাগসহ আরও অনেক সুবিধা।

মাকতাবাতু কারাউইন

[মরক্কো]

বিশ্বের প্রাচীনতম গ্রন্থাগার আফ্রিকার মরক্কোতে অবস্থিত আল-কারাউইন। হাজার বছরের বেশি পুরাতন এ গ্রন্থাগার এখনো বিলিয়ে যাচ্ছে জ্ঞানের আলো। অসংখ্য মূল্যবান পাণ্ডুলিপির সমাহার রয়েছে এখানে। পাঠাগার নির্মাণের পর থেকে এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী, পর্যটক ও ছাত্র-শিক্ষকরা আসতেন। ৮৫৯ সালে আরবের ধনাঢ্য নারী ফাতেমা আল ফিহরির ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেজ নগরীতে কারাউইন নামে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। সে বছরই মসজিদের আঙিনায় তিনি গড়ে তোলেন আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৩৫৯ সাল পর্যন্ত একটানা চালু ছিল পাঠাগারটি। তবে বিভিন্ন সময়ের যুদ্ধে উপনিবেশবাদীদের দখল-বেদখলের ঘটনায় ফেজ শহর আঘাতপ্রাপ্ত হলেও আল-কারাউইন মোটামুটি অক্ষতই ছিল। কখনো কখনো বন্ধ থেকেছে বিশাল এ জ্ঞানের ভাণ্ডার। কয়েক প্রজন্ম ধরে পাঠাগারের রক্ষীরা এসব মূল্যবান তথ্য-উপাত্ত রেখেছেন তালাবদ্ধ। কিন্তু পাঠাগারের অবকাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিকভাবে। ১৯১৩-৫৬ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক আমলে ফ্রান্স পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরেকবার ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও সনদ বিতরণ বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। ১৯৫৬ সালে মরক্কো স্বাধীনতা লাভ করার পর কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন বাদশাহ মুহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত, পদার্থ, রসায়নসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান বিভাগ ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলেন। ১৯৫৭ সালে খোলা হয় নারী শিক্ষার্থী বিভাগ। ১৯৬৩ সালে কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে মরক্কোর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি আল-কারাউইন পাঠাগারকে বাঁচাতে নতুন পদক্ষেপ নেয় মরক্কোর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। পাঠাগারটিকে পুনরায় চালু করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তারা নিয়োগ দেয় আজিজা চাউনি এবং তাঁর স্থাপত্য দলকে। প্রকৌশলীরা ভবনের ভিত্তি পুনরায় স্থাপন করেছেন। সেখানে নতুন করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং ভবনের সবুজ রঙের ছাদের প্রতিটি টাইলস আগের মতো দৃষ্টিনন্দন রূপে তৈরি করেছেন।

তেহরান বুক গার্ডেন

 [ইরান]

বিশ্বের নামিদামি সব লাইব্রেরিকে পেছনে ফেলে ১ লাখ ১০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল জায়গা নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে নির্মিত হয়েছে তেহরান বুক গার্ডেন। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধারণা করা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানে নির্মিত পাঠাগারটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি। তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আব্বাসাবাদ হিলসে এটি অবস্থিত। এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত সেকশন। শুধু তাদের জন্যই রয়েছে ৪ লাখ বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। এ লাইব্রেরির অন্যান্য অংশের মধ্যে রয়েছে মুভি থিয়েটার, সায়েন্স হল, ক্লাসরুম, একটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি প্রার্থনা ঘর। আর মনোরম পরিবেশে পড়ার জন্য লাইব্রেরির ছাদে রয়েছে সবুজ পার্ক। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধন হওয়া লাইব্রেরিটি দেশের জন্য একটি বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সুযোগ গ্রহণ করে শিশুরা সর্বোত্তমভাবে গড়ে উঠবে বলে ধারণা দেশটির বোদ্ধাদের। তেহরান বুক গার্ডেনের প্রথম প্রস্তাব এসেছিল ২০০৪ সালে। এর আগে গিনেস বুক রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরির তকমা অর্জন করেছিল নিউইয়র্ক শহরের ফিফথ এভিনিউয়ের বার্নেস অ্যান্ড নোবেল। আয়তন ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার বর্গফুট। সেখানে দীর্ঘ ১২ মাইলজুড়ে বই রাখার সেলফ রয়েছে।

মাকতাবা দারুল উলুম দেওবন্দ

[ভারত]

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে অবস্থিত মাকতাবা দারুল উলুম পাঠাগার। দেওবন্দ মাদরাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বিখ্যাত এ পাঠাগারটি। মূলত মাদরাসার ছাত্রদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য মাকতাবা দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই নিজস্ব পাঠাগারটি স্থাপন করে। মাদরাসার পুরাতন দারুল হাদিসের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দ্বিতীয় তলায় এর অবস্থান। পাঠাগারটি প্রথমে ছোট পরিসরে হলেও এখন এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে কিতাবের সমাহার। এমন কোনো বিষয় বাদ নেই, যার অন্তত একটি কিতাব বা পাণ্ডুলিপি নেই এখানে। আনুমানিক লক্ষাধিক কিতাব রয়েছে পাঠাগারটিতে। বাদশাহ আলমগীরের হাতে লেখা একটি কিতাবও আছে। আছে বিভিন্ন বিষয়ের নকশাসমৃদ্ধ দেয়ালিকা।

রাজা লাইব্রেরি রামপুর

[ভারত]

ভারত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থাগারটি অবস্থিত ভারতের উত্তর প্রদেশে। তখন ছিল মুসলিম নবাব সাইয়েদ মুহাম্মদ সাইদ খানের শাসনামল (১৮৪০-৫৫)। তাঁর শাসনামলে গৌরবপ্রাপ্ত রাজকীয় গ্রন্থাগারের নাম ছিল ‘কুতুবখানা রিয়াসত-ই-রামপুর।’ ওই সময় এই কুতুবখানার জন্য ১ হাজার ৪০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে বই কেনা হয়। ১৮৭৯ সালে এই পাঠাগারে ৯ হাজার ৩৪৭টি ও ১৯২৭ সালে ২৪ হাজার ১১৭টি বই থাকার তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে এখানে বইয়ের সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। সংরক্ষিত আছে ১৫ হাজার বিরল পাণ্ডুলিপিও। এ সংগ্রহশালায় থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ হলো- হজরত আলী (রা.)-এর হাতে লেখা পবিত্র কোরআনের একটি কপি ও উর্দু ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রথম অনুবাদের পাণ্ডুলিপি। এ ছাড়া সংস্কৃত, উর্দু, পশতু, তামিল ভাষার বহু বই রয়েছে এই গ্রন্থাগারে। ভারত স্বাধীনের পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একটি ট্রাস্টের হাতে এই গ্রন্থাগারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের জুলাই থেকে ভারত সরকার প্রাচীনতম এই গ্রন্থাগারের দায়িত্ব নেয়।

সর্বশেষ খবর