শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ জুন, ২০১৯ ২২:০২

৮১০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন ঢাবির, কমছে গবেষণায় বরাদ্দ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

৮১০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন ঢাবির, কমছে গবেষণায় বরাদ্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। 

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত এ বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন। বৃহস্পতিবার পাশ হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট।

উপস্থাপিত ওই বাজেটে দেখা যায়, ২০১৯-২০ সালের বাজেটে বেতন খাতে ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ভাতাদি বাবদ ১৯৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, পণ্য ও সেবা খাতে ১৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, বিশেষ অনুদান খাতে ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য অনুদান খাতে ব্যয়ের জন্য ১৭৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

সে হিসাবে মোট বাজেটের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ বাজেটের ৫৫.৮২ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার বরাদ্দ হবে। এছাড়াও পণ্য ও সেবা খাতে ২১.১৯ শতাংশ, বিশেষ অনুদান ১.৩১ শতাংশ ও অন্যান্য অনুদানে ২১.৬৮ শতাংশ ব্যয় হবে। 

অন্যদিকে, এই প্রস্তাবিত বাজেটের ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৬৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ৬৬ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকছে ৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। 

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৭৪১  কোটি ১৩ লাখ টাকা। এই অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ওই বাজেটের চেয়ে ৬৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি। তবে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঘাটতি থাকলেও এ বছরে তা ৫.৬৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত ১৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই বাজেটের অনমোদন দেয়।
 
বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ বাজেটে ঘাটতি বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিভিন্ন খাতে অর্থ না দেওয়ায় এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদিসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমের সম্মানী, বইপত্র ও সাময়িকীর মূল্য, গবেষণা ব্যয় বাড়ার অনুপাতে মঞ্জুরি কমিশন থেকে অর্থ না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রসমূহে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।  
 
তিনি আবও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের সবচেয়ে মেধাবি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। তাদের শিক্ষাব্যয় নির্বাহের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা সমীচীন। তাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবশ্যই সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে মঞ্জরি কমিশনের নীতি উৎসাহব্যঞ্জক নয়।
  
এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেটের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন কৃতি ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিভিন্ন স্তরের যে সব সদস্য বিগত অধিবেশনের পর পরলোকগমন করেছেন, তাদের  জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন উপাচার্য। এরপর সিনেটের কার্যসূচি অনুযাযী অভিভাষণ বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অভিভাষণ বক্তব্যের শুরুতে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শহীদ জাতীয় চার নেতা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল স্বাধীকার আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদ এবং ১৫ আগস্টে নিহত জাতির জনকের পরিবারের সকলের আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জাতীয় সংসদ এবং ডাকসু থেকে আসা নতুন ১০ সিনেট সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান উপাচার্য। 

তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষা ও কেবল সনদ প্রদানই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং মেধাবিকাশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেশ, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণাও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের দ্বার উন্মোচন করাই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ মহান দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এর গৌরবময় ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে এবং গুণগত উৎকর্ষ অর্জনে সক্রিয় রাখবে। 
  
এরপর বাজেট ও উপাচার্যের অভিভাষণ বক্তব্যের উপর আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. বজলুল হক, সংসদ সদস্য আব্দুস সোবহান গোলাপ, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানসহ অন্যান্য সিনেট সদস্যরা। 

এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদসহ সিনেট, সিন্ডিকেট, নির্বাচিত রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট, জাতীয় সংসদ থেকে নির্বাচিত সদস্যগণ ও ডাকসু থেকে সিনেটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, এই বাজেট অধিবেশন ছিল দীর্ঘ তিন দশক পরে হওয়া সিনেটের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন। এতে অংশ নিয়েছেন সিনেটের ১০৫ জনের প্রায় সবাই। 

পরে বাজেট অধিবেশনে উপাচার্যের অভিভাষণ, কোষাধ্যক্ষের বাজেট উপস্থাপন, পূর্ববর্তী অধিবেশনের কার্য-বিবরণী অনুমোদন, ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক বিবরণী বিবেচনা, জগন্নাথ হল ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য ছয়জনের একটি প্যানেল অনুমোদন প্রদান করা হয়।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য