শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ মে, ২০২০ ১৭:৪৭
আপডেট : ২৮ মে, ২০২০ ১৭:৫২

১৫ বছরে লাল পাহাড়ের সবুজ ক্যাম্পাস

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা:

১৫ বছরে লাল পাহাড়ের সবুজ ক্যাম্পাস
ফাইল ছবি

২০০৬ সালের ২৮ মে। দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি)। আজ (২৮ মে) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে লালমাই পাহাড়ের সবুজ ক্যাম্পাস খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টি। অন্যান্য বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও এবছর কোন আয়োজন নেই। 

সূত্র জানায়, ৭ম-৮ম শতাব্দীর দিকে জ্ঞানচর্চার আতুড়ঘর ছিল কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহার। প্রাচীন বাংলার ‘সমতট’ রাজ্যর প্রাণকেন্দ্র ছিলো ‘লালমাই-ময়নামতি’ অঞ্চল। খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দী থেকে (কারও কারও মত সপ্তম শতাব্দী) দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ওই রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ৫০০ মাইল। সপ্তম শতাব্দীত চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেব এখানে শালবন বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। ষাটের দশক থেকে কুমিল্লাবাসীর দাবি ছিলো এই অঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার। সে প্রেক্ষিতে ১৯৬২ সাল কুমিল্লায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সেটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় এক জনসভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরপর ২০০৬ সালের মে দেশের ২৬ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু কর। এর ঠিক এক বছর পর ২০০৭ সালর ২৮ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। 

৫০ একর নিয়ে জায়গা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন লালমাই পাহাড়ে পাদদেশে প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন শালবন বিচারের কোল ঘেঁষে  কার্যক্রম শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ৭টি বিভাগ, ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চালু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি আবাসিক হল রয়েছে। যেখানে ছাত্রদের জন্য তিনটি, ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একটি আবাসিক হল। এছাড়াও শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে একটি ডরমেটরি। তাছাড়া একটি ছাত্রী হল, শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমিটরি ও একটি গেস্টহাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের ১৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়াধীন। এই প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরো ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয়জন। 

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলন, ‘এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বছরর প্রথমই একটা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমরা। বর্তমান করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবারই তা হাত-পা বাঁধা। বিশ্ববিদ্যালয়র সাবক সকল উপাচার্যদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানোর পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছিলাম। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আগামীতে জাঁকজমকপূর্ণভাব দিবসটি উদযাপন করবো।’


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর