৬ অক্টোবর, ২০২১ ০৯:০০
সকলের সহযোগিতা চান ঢাবি উপাচার্য

ঢাবির হলে হলে অছাত্ররা, আসন সংকটের শঙ্কা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাবির হলে হলে অছাত্ররা, আসন সংকটের শঙ্কা

দীর্ঘ দেড় বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল। প্রথম পর্যায়ে অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য এক ডোজ করোনা টিকা গ্রহণ ও বৈধ শিক্ষার্থী হওয়া সাপেক্ষে হলে উঠার কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হল খোলার প্রথম দিনেই প্রায় প্রতিটি হলেই স্নাতকোত্তর শেষ করা অছাত্ররা নিজেদের আগের কক্ষে উঠে গেছেন বলে জানা গেছে। ফলে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের আসন সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমবেশি সব হলে থাকলেও ছেলেদের বেশ কয়েকটি হলে অছাত্ররা বেশি পরিমাণে অবস্থান করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের অবস্থান বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এসব শিক্ষার্থীদের বড় অংশই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ফলে নিজেদের ‘রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচাতে’ হলে থাকছেন সাবেক এই শিক্ষার্থীরা। এদের অনেকেই আবার ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রফেশনাল মাস্টার্স, এমফিল বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন। অন্যদিকে, ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার খরচ বাঁচিয়ে নির্বিঘ্নে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হলে থাকেন ‘অরাজনৈতিক সাবেক শিক্ষার্থীরা’।

হলে উঠা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানা গেছে, হলগুলোতে ইতোমধ্যেই মাস্টার্সের ফলাফল প্রকাশিত হয়ে গেছে, এমন শিক্ষার্থীরা উঠতে শুরু করেছেন।

ছাত্রলীগের বিরোধী ভাবাপন্ন ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ, দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতেই অছাত্রদের হলে রাখে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সিনিয়র পদগুলোতে স্বভবতই সিনিয়র নেতাদের পদায়ন করতে হয়। ফলে চাইলেও হলের বাহিরে থেকে রাজনীতি করা অনেকটাই অসম্ভব।

ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কঠোর হত, তাহলে আবাসিকত্ব শেষ হওয়ার সাথে সাথে হল থেকে বের হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতো। কিন্তু প্রশাসন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের পুুতুলে পরিণত হওয়ায় তাদের মর্জিমত সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই সাধারণ শিক্ষার্থীরা থাকবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে, কারা বৈধ ছাত্র হিসেবে হলে থাকবে, আর কারা থাকবে না। প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।

ছাত্রলীগের অছাত্র যেসব নেতা-কর্মী হলে থাকছেন, তাদের হলে না থাকার বিষয়ে ছাত্রলীগের কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া হয়নি। এখন অনেকেই মাস্টার্স বা পিএইচডি করছে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো মানদণ্ডে ধরে নেবে তাদের ছাত্রত্ব নেই?

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, মাস্টার্সের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আবাসিকত্ব শেষ হয়ে যায়। আর এমফিল বা পিএইচডি’র শিক্ষার্থীরা একটি আবাসিক হলের অধীনে ভর্তি হলেও তাদের আবাসিক শিক্ষার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এ নিয়মটি ‘ক্লিয়ার’ করেনি বলে দাবি করেন সনজিত চন্দ্র দাস।

এদিকে, গণরুম নির্মূল করতে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদের হল রাখা যাবে না বলে মনে করেন অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসতিয়াক এম সৈয়দ।

তিনি বলেন, হলে আবাসিক শিক্ষকদের রোস্টার ভিত্তিতে ফ্লোর পরিদর্শনের দায়িত্ব আছে। এখন এটি বেশি করা হবে। পর্যায়ক্রমে অছাত্রদের হলে না রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার হল খোলার প্রথম দিনেই বিজয় একাত্তর হল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় সাবেক শিক্ষার্থী বা অছাত্রদের মধ্যে যারা হলে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত বিষয়। এটির একটি ভালো ও সম্মানজনক সুরাহার জন্য সকলের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সিনিয়র শিক্ষার্থীদের এটি একটি দায়িত্ব। সবাই সহযোগিতা করলে সমস্যার প্রত্যাশিত সমাধান আসবে। একইভাবে গণরুম সমস্যা সমাধানের জন্যও ‘ক্রিয়াশীল ছাত্রসংঠন’সহ সকলের সহযোগিতা চান উপাচার্য। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর