৫ আগস্ট, ২০২২ ১৬:৫৪

‘ব্ল্যাকমেইলিং’র শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন সেই ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

‘ব্ল্যাকমেইলিং’র শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন সেই ছাত্রী

প্রতীকী ছবি

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রী স্মৃতি রানী দাসের আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এক যুবকের ‘ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার’ হয়ে ওই পথ বেছে নিয়েছিলেন স্মৃতি। এ ঘটনায় ‘ব্ল্যাকমেইলার’ যুবককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর হাকিম ১ম আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তি দেয় শ্যামল দাস নামের ওই যুবক। পরে তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। 

শ্যামল দাস (২১) হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামের সুধাংশু দাসের ছেলে। গত বুধবার নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে শাহপরান থানা পুলিশ। 

আত্মহননকারী স্মৃতি রানী দাস (২০) সিলেটের এমসি কলেজের ইংরেজি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। সে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের যুগল কিশোর দাসের মেয়ে। 

চলতি বছরের ২৫ মে এমসি কলেজের নতুন হোস্টেলের চারতলার ৪০৩নং কক্ষ থেকে স্মৃতি রানী দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হোস্টেলের তৃতীয় তলায় ৩০৭নং কক্ষে থাকতেন। স্মৃতি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে তখন জানিয়েছিল পুলিশ। স্মৃতি রানী দাসের আত্মহত্যার ঘটনায় পেনাল কোডের ৩০৬/৩৪ ধারায় শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন তার বাবা যুগল কিশোর দাস।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, ‘ঘটনার পর স্মৃতির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল। ফোন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে কাজ শুরু করে পুলিশ। বুধবার শ্যামল দাসকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, স্মৃতি রানী দাসকে তিনি কল দিতেন, উত্যক্ত করতেন। ওই ছাত্রীর কোনো একটি ‘ডকুমেন্ট’ পেয়ে সেটি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন শ্যামল দাস। স্মৃতির কাছে টাকাও চাইতেন তিনি। বিকাশে টাকাও নিয়েছিলেন।’

শাহপরান (রহ.) থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, ‘স্মৃতি রানী দাসের ম্যাসেঞ্জার হ্যাক করেছিলেন শ্যামল দাস। এর মাধ্যমে স্মৃতির ব্যক্তিগত ছবি পেয়ে যান তিনি। সেই থেকে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল।’


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর