শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৫১
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:৩৬

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: দাড়ি-চুল ফেলেও গ্রেফতার তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: দাড়ি-চুল ফেলেও গ্রেফতার তারেক
দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯ এর একটি টিম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৯ এর একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ নিয়ে মহানগর পুলিশের চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এজাহারনামীয় ৬ আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ ও র‌্যাব।

তারেক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে। 

এদিকে গণধর্ষণের মামলার আরও তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলায় এজাহারনামীয় ছয়জনসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। এ ছাড়া গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনা তদন্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিন সদস্যের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
 
গণধর্ষণ মামলার আসামি শেখ মাহবুবুর রহমান রণি, রাজ চৌধুরী রাজন ও আইনুদ্দিনকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানি শেষে বিচারক সাইফুর রহমান পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গণধর্ষণ মামলার এই তিন আসামির পক্ষে মঙ্গলবার আদালতে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনায় অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি খোকন কুমার দত্ত। 

এর আগে গত সোমবার একই মামলার আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তাদের পক্ষেও মামলা পরিচালনায় কোনো আইনজীবী অংশ নেননি। 

বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ 

সিলেটে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন অ্যাডভোকেট হাফিজ মোহাম্মদ মিজবাহ উদ্দিন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিঞা ও বিচারপতি মো. মহিউদ্দিন শামিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। 

উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সাধারণ) নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার মারফত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে রক্ষায় অবহেলা ও অছাত্রদের কলেজে অবস্থান বিষয়ে নীরবতায় অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

শিক্ষা অধিদফতরের কমিটির তদন্ত শুরু 

গণধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা অধিদফতরের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছে। আজ বিকেলে ঘটনাস্থল এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সালেহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা। এ সময় প্রতিনিধি দলের প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল কবীর চৌধুরী জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তিনদিন তারা সিলেটে অবস্থান করে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানবেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রয়োজনে তারা ভিকটিমের সঙ্গেও কথা বলবেন। 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুজন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার  আসামিরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর