শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:৫৯

এমপি তেড়ে গেলেন ইউএনও-উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম

এমপি তেড়ে গেলেন ইউএনও-উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে
আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি (ফাইল ছবি)

সেই এমপি এবার তেড়ে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)র দিকে। তুমুল ঝগড়ায় মাতলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে। প্রকাশ্যেই ঘটলো ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে। দফায় দফায় বাক-বিতণ্ডার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সভাটি শেষ হয়। 

সভায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার এমপি আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর যোগ দেন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। তিনি যখন সভাটিতে প্রবেশ করেন তখন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নুরে আলম সভার সভাপতির সমাপনী বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় সভাকক্ষে প্রবেশ করেই এমপি তেড়ে গেলেন উপজেলা ইউএনও'র দিকে। ইউএনও কেন ছুটে গিয়ে এমপিকে স্বাগত জানাননি সেজন্য ক্ষোভ ঝাড়লেন এমপি। এ সময় ইউএনও নিজে 'সভাপতির বক্তব্য রাখার কারণে স্বাগত জানাতে পারেননি' জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও এমপি তাকে উপর্যুপরি ভর্ৎসনা করতে থাকেন। প্রকাশ্যেই বলতে থাকেন কে আপনাকে ইউএনও বানিয়েছে, কে যোগ দিতে বলেছে -এসব আপত্তিকর বাক্যবান। এমপির এমন আচরণে সভায় উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেয়া নিকটবর্তী সংসদীয় এলাকার এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। অতঃপর শুরু হয় উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মোতালেব সিআইপি পূর্ববর্তী সভায় এমপির উক্ত আচরণের বিষয়ে বক্তব্য শুরু করতেই তাঁর উপর ক্ষিপ্ত হন এমপি নদভী। উপজেলা চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আমাকে রাজনীতি শেখাবেন না, আমার বিরুদ্ধে খেলতে আসবেন না।'

এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব পাল্টা কিছু বলতে চাইলে এমপি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মারমুখো হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ জুবায়েরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও ১৭টি ইউনিয়নের ১২টির চেয়ারম্যান সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ফের সভায় যোগ দেয়ানোর পর সন্ধ্যায় সভাটি শেষ হয়। 

মধ্যস্থতাকারী এমপি নজরুল অবশ্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'তেমন বড় ধরনের কিছু হয়নি। টুকটাক বাক্য বিনিময়, ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। সভা শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি কোলাকুলি করেছেন। ইউএনও এমপিকে রিসিভ না করায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। পরে সভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়' বলেও জানান এই এমপি।‌ 

উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব সিআইপি অবশ্য বললেন, 'সভায় এমপির বক্তব্যে যাতে ইউএনওসহ সরকারি কর্মকর্তারা কেউ কষ্ট না পান, সেজন্য আমি কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম। এটি এমপির বিরুদ্ধে কোনো কথা ছিল না। তবুও তিনি ভুল বুঝলেন। পরে এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়‌ এবং আমরা কোলাকুলিও করেছি।‌

এ বিষয়ে জানতে এমপি আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভীর সাথে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এমপি নদভীর প্রতি সম্প্রতি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পরীক্ষা চলাকালীন সময় মাইক লাগিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিলে সেখানেও অসন্তোষ তৈরি হয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামি পরিচালিত একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত এই এমপির সাথে জামায়াতের আমির গোলাম আজমসহ বিভিন্নজনের সখ্যতা বিষয়ে ব্যাপক আপত্তি উঠে। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের যুক্ত হয়ে নৌকার মাঝি হন। 

 


আপনার মন্তব্য