শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ আগস্ট, ২০২০ ১৪:১৬
আপডেট : ৩ আগস্ট, ২০২০ ১৫:০১

ঈদেও নিষ্প্রাণ বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

ঈদেও নিষ্প্রাণ বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলো

প্রায় ৪ মাস পর বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলো সীমিত পরিসরে চালু হলেও আশানুরূপ দর্শনার্থী নেই। অন্যান্য বছর ঈদের এই সময়ে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো অনেকটাই ফাঁকা। এতে অনেকটা হতাশ সংশ্লিষ্টরা। করোনার কারণে মানুষের মনে ঈদের আনন্দ নেই, তাই তারা তেমন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তবে শিশুদের আবদার মেটাতে তাদের নিয়ে বেড়াতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। ধীরে ধীরে দর্শনার্থী বাড়বে আশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। 

দুটি ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে নগরীর প্লানেট পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, কীর্তনখোলা নদী তীরের ত্রিশ গোডাউন ও মুক্তিযোদ্ধা পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বিনোদনপ্রেমীদের ঢল নামে। কিন্তু এবার করোনার থাবায় এসব দর্শনীয় স্থান অনেকটাই ফাঁকা। দর্শনার্থীদের হৈ-হুল্লোড় নেই। আনন্দ নেই মানুষের মনে। 

করোনা এড়াতে ৪ মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৯ জুলাই সীমিত পরিসরে খুলেছে বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। তবে তেমন দর্শনার্থীর পা পড়েনা এসব স্থানে। ঈদের এই সময় অন্তত দর্শনাথীদের চাপ পড়বে আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু ঈদের দিন থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত নগরীর বড় বড় বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিলো অনেকটাই ফাঁকা। যারাও এসেছেন তাদের মাঝে প্রফুল্ল ভাব দেখা যায়নি। দীর্ঘ দিন ঘরে বন্দি শিশুদের আবদার মেটাতে অনেকেই পার্কে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। তবে পার্কের চিরচেনা রূপ না থাকায় নিরানন্দ নিয়ে ফিরেতে হয়েছে তাদের। আবার সাময়িক আনন্দ পাওয়ার কথাও বলেছেন অনেকে। 

পার্কগুলো ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা দোকানিরাও রয়েছেন হতাশায়। ঈদে অন্তত কিছু দর্শনার্থীর আবির্ভাব হবে এবং বেচা বিক্রিও ভালো হবে আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু ঈদের ৩ দিনে আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় হা-হুতোশ করছেন তারা। 

পার্কগুলোতে আশানুরূপ দর্শনাথী না আসার কারণ হিসেবে করোনা ভীতি এবং বর্ষা মৌসুমকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ৪ মাস পর পার্ক খোলা হলেও হতাশার মধ্যে রয়েছেন তারা। 

নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র প্লানেট পার্কের মেকানিক্যাল ফোরম্যান আব্দুল জলিল বলেন, পার্কে শিশুদের জন্য ১৮ ধরনের খেলনার (রাইড) ব্যবস্থা রয়েছে। ৪ মাস পর পার্ক খুলে আশায় ছিলেন ঈদে অন্তত ভালো দর্শনার্থী হবে। করোনার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা যাবে আশা করেছিলেন। কিন্তু ঈদের ৩ দিনে আশানুরূপ দর্শনার্থী না আসায় তারা অনেকটা হতাশার মধ্যে রয়েছেন। 

প্লানেট পার্কের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহরাব আলী জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ৪ মাস পর পার্ক সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য বিধি রক্ষায় পার্ক কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু যাদের জন্য এত আয়োজন সেই দর্শনার্থীর দেখা মিলছে না। করোনা এবং বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীরা ঘর থেকে বের হচ্ছে না বলে মনে করে সোহরাব আলী। 

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, করোনার কারণে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গৃহবন্দি। শিশুরা ঘরে থাকতে থাকতে অস্থির হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য বিধি মানার শর্তে পার্কগুলো সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে খোলা জায়গায় শিশুসহ অন্যান্যদের নিয়ে বেড়ানো যাবে। কিন্তু কোনভাবে জটলা তৈরি করে স্বাস্থ্য বিধি লংঘন করা যাবে না। বেড়ানোর নামে শিশুদের ঝুঁকিতে না ফেলতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর